ঐশীকে তার পিতামাতার খুনের অপরাধে ফাঁসির আদেশ দেয়াটা অনেকটা অনুমেয় ছিলো।প্রশ্ন হচ্ছে কোনো সুস্থ স্বাভাবিক সন্তান তার পিতামাতাকে হত্যা তো দূরে থাক অপমান পর্যন্ত করে না। তাই দ্ব্যার্থহীনভাবে বলা যায় ঐশী মানসিকভাবে মোটেই সুস্থ ছিলো না। আর ঐশীর মানসিক অসুস্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হয়ে থাকে তার পিতার দুর্ণীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের যথেচ্ছ অপব্যবহার।পুলিশের তদন্ত রিপোর্টে সে বিষয়টা উঠে আসেনি। আর শুরু থেকেই পুলিশ এই হত্যকান্ডের মামলায় নিরেপেক্ষতা বজায় রাখতে পারেনি। যার ফলস্বরুপ ঐশীকে তারা অনেকটা জোরজবরদস্তি করে শিশু থেকে পূর্ণবয়স্কতে পরিণত করে।দেশের অন্যান্য সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে যদি পুলিশ এ ধরনের তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করত তবে এ সন্দেহের অবকাশ থাকত না। তবে ঐশীর মামলাটি পুরো দেশের দুর্ণীতিবাজ সরকারী কর্মচারীদের একটি স্বাভাবিক চিত্র। এ মামলাটি নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে বিচার করলে সমাজের জন্য এক দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হতে পারত।ঐশীকে শুধু একজন ব্যক্তি হিসেবে না দেখে যদি আমরা সামগ্রিকভাবে দেখি তবে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় , ঐশী আমাদের দুর্ণীতিগ্রস্ত সমাজব্যবস্থার ভয়াবহ সৃষ্টি। এ খুনের দায় শুধু ঐশীর নয়, এর দায় দুর্ণীতিগ্রস্ত পুরো সমাজের, দুর্ণীতিগ্রস্ত পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাপনার।তাই ঐশীকে ফাঁসির মত অমানবিক শাস্তি প্রদানের রায় পুনঃর্বিবেচনা করে যেকোনো মেয়াদে জেল দেয়া যেতে পারে । তবে এক্ষেত্রে ঐশীকে এই অস্বাভাবিক জীবনে জড়িয়ে পড়ার পূর্বাপর ঘটনাবলী স্বপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ করতে হবে।তাতে অন্তত সমাজের অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের পারিবারিক পরিকাঠামো সম্পর্কে মানুষ অবহিত হতে পারবে, যা সমাজের জন্য ভালো হবে।
যাতে করে দুর্ণীতি রোধে পারিবার থেকে একটি শক্তিসালী আন্দোলন গড়ে উঠতে পারবে।
পূণশ্চঃ ব্যক্তিগতভাবে আমি সবধরনের মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে।আনুষ্ঠানিকভাবে একজন মানুষকে হত্যা করা মানবিধাকারের চরম লংঘণ বলে মনে করি।প্রয়োজনবোধে ১০০ বা ২০০ বছর জেল দেয়া হোক। যেমন পানামার সাবেক সেনাশাসক জেনারেল নুরেয়েগাকে আমেরিকার এক আদালত ২৪০ বছর জেল দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



