
সাতার কাটা খোলা সবুজ ঘাসের মাঠে দৌড়ানো এবং লং ড্রাইভ এই তিন টার আনন্দ সম পর্যায়ের বলেই আমার মনে হয়।
আমাদের বয়সী মফস্বল বা গ্রামের বাচ্চা দের পানিতে নামার পর মা বা মুরব্বী শ্রেনীর কেউ লাঠি হাতে সাতরে পুকুর থেকে তুলছেন এমন ইতিহাস বা স্মৃতি প্রায় সবার ই আছে। ইন্ডিয়া সিংগাপুরে সোসাইটি গুলো তে চমৎকার সেফ সুইমিং পুল থাকার সুবাদে এখন ও সুযোগ পেলেই প্রান খুলে ভেসে বেড়াই ।
খোলা সবুজ ঘাসে র মাঠে দৌড়ানো ছেলে বেলাতে ও প্রচুর পেয়েছি রোকেয়া হলে থাকার সুবাদে হল মাঠে ও ইচ্ছে হলে দিন রাত যখন ই হোক বৃষ্টির সাথে আনন্দে নেচেছি বহু দিন।
কোথাও ঘুরতে যেয়ে খোলা মাঠ এবং একা পাহাড় এর কিনারায় এখন ও সুজোগ পেলে দুই হাত মেলে দেই সবার অগোচরে।
"সত্যি বলতে কি আমার জীবনের বহু রাতে র স্বপ্নের অনেক টা জুড়ে আছে আমি সবুজ খোলা মাঠে আপন মনে দৌড়াচ্ছি বা হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছি " ।
সে গল্প না হয় আর একদিনের জন্য তুলে রাখলাম ....
বাকি রইল গাড়ি নিয়ে ভেসে বেড়ান শেখা , চালাতে শেখার জন্য নিজের যখন একটা গাড়ি পেলাম তখন নানা ঝামেলায় কেটে গেল এর পর পতিদেবের সাথে যাযাবর জীবনের শুরু হল " ভারতবাস" সাহস করে উঠতে পারি নী মুম্বাইতে ।
সিঙ্গাপুরে ও বাচ্চাদের নিয়ে সেটেল হতে হতে দেশে ফিরে এলাম ছেলের স্কুলিং শুরু হাতে কিছু সময় পেলাম সকালে বাচ্চাদের স্কুলের পর নিজের ও স্কুল শুরু করলাম পাড়ার ড্রাইভিং স্কুলে ।
উত্তরার রাস্তা ছেড়ে আশুলিয়া পার হতে হতে লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম, বহু বছর পর কোন রিটেন পরিক্ষা ছিল সেটা আমার চাইতে আমার ছেলের টেনশন বেশী মা তো একদম স্টাডি করে না যদি সি গ্রেড নিয়ে আসে,ওর টেনশন কমাতে কিছু নোটস জোগার করে পড়া শুরু করলাম পরিক্ষার জন্য ।
এক হরতালের দিন ছিল সেটা , ভোড় পাচ টায় বি আর টি সি তে এর পর রিকশা এরপর হন্টন শেষে গিয়ে দেখি উপস্থিতির হিসাবে আমি ২য় সমস্ত এলাকা ফাঁকা । প্রথম হয়েছিল মনে হয় ১৮ পেরুনো এক কিশোর সাথে তার বাবা্,ভরসা পেয়েছিলাম তাদের দেখে যে না আজকে এক্সাম হচ্ছে ।
সূর্যের তাপ বাড়ার সাথে সাথে জনসংখ্যা বাড়ল লিখিত পরিক্ষা /সিগন্যাল টেস্ট এবং ড্রাইভিং টেস্ট শেষে হতে দুপুর । বহুদিন পর অন্য রকম একটা দিন কেটেছিল বিচিত্র মানুষ আচার আচরন একজন ছিলেন ১৭ বছর মধ্যপ্রাচ্যে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন (বলে রাখা ভালো আমি ট্রেনিং এবং লাইসেন্স প্রাপ্তির প্যাকেজের আওতায় ছিলাম উপস্থিতি ই যথেষ্ট ছিল ) কিন্তু আমি আমার সর্বোচ্চ ভাল এবং সিরিয়াস এক্সাম দিয়েছিলাম এবং যথারীতি লিখিত পরিক্ষায় ফুল এবং রোড টেস্ট এ এক্সামিনারের পায়ের উপর গাড়ি থামিয়েছিলাম প্রায়
এরপরের ইতিহাস উত্তরার অলিগলি আমাকে চেনার আগেই আবার ভারতবাসী হলাম এবং সেটা লাইসেন্স হাতে পাবার আগেই ।এত পরিশ্রমের জিনিস মন উতলা আমার
ওয়ান ফাইন মর্নিং কাঠাফাটা গরমে ছবি তোলার জন্য আর টি এ অফিসে হাজির হলাম লার্নার পেপার নিয়ে লম্বা লাইন শেষ করে ওয়েব ক্যাম এর সামনে বসার সুজোগ পেয়েছি মুখা টা হাসি হাসি (কারন যদি কখন কোন পুলিশ রাস্তায় লাইসেন্স দেখতে চায় এট লিস্ট বীনা বকশিশে যেন পার পাই ) দুই মিনিট যায় পাচ মিনিট হয় পাশের পিসি থেকে সবাই ছবি তুলে বিদায় হয় অথচ আমার মুখ কালো করতে পারি না ,বাহ ছবি তোলা শেষ হয়নি যে দশ মিনিটের মাথায় ফটোগ্রাফার আমাকে দেখালেন বছর দুইয়েক বিরতি নেবার ফলে আমার যে লার্নার নাম্বার ছিল সেটা মনিরা সুলতানার থেকে ডিগিটালি কুতুব উদ্দিন হয়ে গেছে ।
আমাকে একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বলা বল সবচাইতে বড় অফিসারের দস্তখত নিয়ে আসতে তাহলেই নাকি নতুন নাম্বার দেয়া সম্ভব। বড় সাহেবের রুমে যখন আমি পৌঁছুলুম তখন দুপুর লাঞ্চ বিরতি হয় হয় ,উনি উনার বিশাল মোসাহেব বাহিনি পরিবেষ্টিত হয়ে খুলনার মানুষের সাথে ডিম্,এবং ডিম ও আলুর মিশ্রনে তরকারি রান্নার যে একটা বিড়াট যোগসুত্র আছে সে বিষয়ে মুল্যবান বক্তব্য প্রদান করছিলেন বিধায় আল্লাহর অসীম রহমতে দ্রুতই মিলে গেল দস্তখৎ তুলে ফেললাম হাসি হাসি মুখের মায়াভরা ছবি ।
আমার তখন ডিগিটাল যখন হয়েছি আরও হব লাইসেন্স হাতে নিয়ে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ অবস্থা .........
ভারতবাসে এবারে ভুল করি নাই সুজোগ পেলেই রাস্তার গাড়ি মাঠে নামিয়েছি কিন্তু একে তো নিজের দেশ না এর উপর দিল্লির জনতা।তাই ঠিক রাস্তায় আর চেস্টা করি নাই নিজের উপর ষোলআনা এর উপর ভরসা থাকলে ও গুরগাও বাসির ড্রাইভিং এ ভরসা করা যায় না আপকামিং সিটি ,কমদামে ন্যানো কার আর প্রচুর ফাকা যায়গা এদের সবাই কে এক এক জন ভয়ংকর দক্ষ চালক বানিয়েছিল
দুবাই শহর আইসস্যা আমার আশা পূরাইছে ............
এখানে দেখি সুধু চোখ খোলা আবায়া/ হিজাব পরা থেকে শুরু করে সবচাইতে শান্ত গৃহ বধুর হাতে ও গাড়ির চাবি কয়েকজন কে জিজ্ঞেস করার পর এমন ভয় দেখাল মাস দুয়েক রাস্তায় বের হলে ড্রাইভিং সিটে কে বসে আছে সেটা দেখতে ও ভুলে গেলাম ।পাশের ফ্ল্যাটের ছেলের বন্ধুর মা জানালেন উনি মাত্র ১৭ বার পরিক্ষা দেবার পর লাইসেন্স হাতে পেয়েছেন সহজে মিলে না এবং ব্যয় বহুল ও ।
কিন্তু মনে উড়িবার ছিল যে সাধ " লাইসেন্সের জন্য ট্রেনিং স্কুলে আডমিশন নিলাম এক শনিবার বাচ্চাদের বাসায় রেখে দুরু দুরু বুকে রিটেন এক্সামের জন্য ক্লাস করতে চলে গেলাম সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ক্লাস করে লিখিত পরিক্ষার জন্য সময় ঠিক করে এলাম । দুইটা বই আর মোবাইল এপ্স নিয়ে খুব ব্যস্ত সময় আমার সিরিয়াস আমি বাচ্চাদের পড়ার সময় নিজের বই নিয়ে বসি সবাই কে দেখতে হবে ভয় পেলেই ভয় বই নিয়ে ঘুরাঘুরি আর মোবাইল এপস এ চর্চা করলেই পাস ।
এরপর একদিন রোদ ঝলমল চমৎকার এক সকালে চলে এলাম পরিক্ষা দিতে মাল্টিপল চয়েজের মত পিসি তে পরীক্ষা দিয়ে বসে আছি রোড ট্রেনিং এর সময় বেছে নেব ।নাম ধরে আমাকে ডাকছেন কেউ একজন এগিয়ে গেলাম হাতে একটা রেজাল্ট শিট ধরিয়ে দিয়ে বলা হল " একাউন্স এ যেয়ে নতুন করে ফি দিয়ে আবার লিখিত পরিক্ষার জন্য সময় নিতে বুঝতে সময় লাগলো " দিস টাইম আমি ফেইল করেছি
বেকুব বেআক্কেল ঠাডা পরা চেহারা নিয়ে বসে রইলাম আমার কিং কর্তব্য বিমূড় অবস্থা দেখে পিয়ন শ্রেনীর একজনের দয়া হল ,উনি এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন ফেল হো গায়া থুক্কু গায়ী কই বাত নেই আপ হিন্দি ইয়া উর্দু মে নোট লে লো আগলি বার জরুর পাস হো যাও গী সায়েদ ইংলিশ সামাজমে নেহী আয়ি ? খোদা দড়ি ফালাও অবস্থা আমার তখন ।
সেদিন ই আবার নতুন করে লেকচার ক্লাসে জয়েন করে লিখিত পরীক্ষা শেষ করলাম.....
শুরু হল আমার দুবাইয়ের রাস্তা চেনা সপ্তাহে দুইদিন দুই ঘন্টা করে' দিন যায় আমার আগ্রহ তত কমে সব রাস্তা এক মনে হয় মাঝে একদিন পার্ক করার পরিক্ষা দিয়ে এলাম প্যারালাল , গ্যারেজ , স্লান্টিং আর হিল আহা সেই সব দিন । বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে ফাইনাল পরিক্ষার দিন ধার্য হল রোড টেস্ট নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট আগে চলে এলাম তিনজন পরীক্ষার্থী একজন পরীক্ষক সিট বেল্ট বেধে যাত্রী হিসেবে বসা থেকে ই শুরু ।
পরীক্ষক ম্যাডাম কে দেখে পরীক্ষা দেয়ার কথা ভুলে গেলাম আমি আবায়া / হিজাব /সুগন্ধি /গেট আপ /সব মিলিয়ে ভীষণ ইম্প্রেসিভ হয় আরব মেয়েরা ।হাতের আই প্যাডে এরাবিক এ খটা খট মার্ক করতে থাকলেন কিচ্ছু বোঝার উপায় নাই অবশ্য সেই চেস্টা ও করলাম না এক ধরনের ঘোরের মাঝে গাড়ি এসে নির্ধারিত যায়গায় থামালাম আমরা নামার আগেই প্রথম জন কে উনি বললেন সরি ।
আমাকে জিজ্ঞেস করলেন এর আগে আমি অন্য কোথাও ড্রাইভিং করেছি কিনা এবং বললেন " উ ড্রাইভ রিয়েলি ওয়েল " এই মন্তব্যের পর আমি শিউর হলাম রিটেনের মত রোড টেস্ট ও আমাকে আবার দিতে হবে, ডিস্কাউন্ট অফারে আডমিশন নিয়েছিলাম কিন্তু প্রতিবার পরিক্ষায় নতুন করে ফি দিতে হয় আবার দিতে হলে গেছি সো বুঝে গেলাম নাথিং ইজ ফ্রি এন্ড ডিস্কাউন্টেড ইন দিস দুনিয়া আরো শিউর হলাম এটাও আমাকে বলবে তুমি তো অনেক ভাল ড্রাইভিং করেছ কিন্তু আবার ভাল ভাবে ট্রেনিং এর পর আসো ।
ও হ্যা ঢাকার ডিগিটাল লাইসেন্স লাঞ্চ এর পর এসে কিছুক্ষন ঘুর ঘুর করে পুনরায় নতুন করে ব্যাংক এ কিছু ফি জমা দিয়ে হাতে পেয়েছিলাম এবং এই ভেবে খুশি হয়েছিলাম যে ভাগ্যিস বিয়ের আগে লাইসেন্সের হাতে পাই নাই না হয় এই ছবি দেখে নির্ঘাত আমাকে বিয়ে করার চেয়ে ঘানায় মাইগ্রেট করারে বেশী প্রেফার করতেন ।
আরবিয়ান সুন্দরী আমাকে গোল্ডেন এ + দিয়ে কহিলেন আম ইম্প্রেসড প্লিজ কালেক্ট ইউর পেপার এন্ড কাম টু মি ।
গেলাম উনার রুমে এর আগে ট্রেনিং এর সময় অনেকেই ঐ রুমে ঢুকতে দেখেছি কেউ উৎফুল্ল ছিল বের হবার সময় কেউ বা বিষণ্ণ তাই নিজের ফেস এর এক্সপ্রেশন কেমন হবে তখন ও ঠিক বুঝে উঠতে পারি নাই ।
আলহামদুলিল্লাহ উৎফুল্ল হয়েই বের হলাম এর পর কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা ।
দুবাই তে নাকি ড্রাইভিং লাইসেন্স মিলে যাওয়া মানেই পার্টি দিতে হবে এমন প্রচলিত, রান্না র ভয়ে শেষ বয়সে পাস করার পর একটা ফেসবুক স্টেটাস ও দিতে পারি নাই
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ২:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




