somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ অভিশাপ তোমাদের ছাড়বে না

২৪ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“ঠিক হয়েছে! শালারা হেরোইন খোর! চেয়ারম্যান নিজে ধরে দিয়েছে পুলিশ দিয়ে।” গত কয়েক দিন আগে আমি আমার এলাকার একটা চায়ের স্টলে চা পানের উদ্দেশ্যে ঢুকতেই প্রথম এই কথাগুলি কানে পৌছুলো। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কাকে কাকে ধরছে? একজন বলল, উমুক, তুমুক। আমি বললাম, ও বুঝেছি! ওরা ভোটে চেয়ারম্যানের বিপক্ষে ভোট করছে ; তাই চেয়ারম্যান ক্ষমতা বুঝে পাবার আগেই তাদের ধরে দিয়ে রাগও মেটাচ্ছেন! ভালো। তা আর খোর-খাট্টারা কই?? ওদের ধরবে না ?? তারপর যারা ব্যবসা করে মাল কামাচ্ছে! এতে সবায় খানিকটা ইতস্তত হয়ে গেল।।এই চিত্র শুধু আমার এলাকার না। এই চিত্র প্রত্যেকটি এলাকার। এই চিত্র সারা বাংলাদেশের।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে, যে কোন ঘটনার আড়ালে ঘটা ঘটনাগুলি অনুসন্ধান করি, ঠিক তত দুর পর্যন্ত যত দুর আমার চিন্তা আমাকে পৌছায়। আজ বাংলাদেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে মাদক। এমন কোন এলাকা নাই যেখানে মাদক সহজ লভ্য নয়। এর মধ্যে রয়েছে গাঁজা, ফেন্সিড্রিল, হেরোইন এবং ইয়াবা। উমুক-তুমুক ধরা পড়ছে! ভালো। যারা মাদক সেবী তারা দোষী কিন্তু প্রকৃত দোষী কে?? মাদক ব্যবসায়ী যারা মাদক সরবরাহ করছে, তারা? হ্যাঁ। কিন্তু সেও প্রকৃত দোষী না। মাদক ব্যবসায়ী, তার আড়ালের দোষী কে? আমাদের খোঁজে বের করতে হবে।

আমরা দেখেছি মাদকের ভয়াল ছোবলে কি ভাবে একজন ব্যক্তি ধ্বংস হয়েছে! সেই সাথে ধ্বংস হয়েছে তার পরিবার। আমরা দেখেছি মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে বাবা মাকে নৃশংস ভাবে প্রাণ দিতে ! আমরা দেখেছি মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য অনেক মেধাবী তরুণ বিপথগামী হতে। ছিনতাই, রাহাজানি, রোড ডাকাতির মত ঘৃণ্য কাজে কি ভাবে জড়িয়ে পড়তে! ঘৃণ্য করছে তার পরিবারকে! তার সমাজকে! এর জন্য দায়ী কে????

গাঁজা, ফেন্সিড্রিল, হেরোইন এবং ইয়াবা এই সকল মাদক আমাদের দেশে উৎপাদিত হয় না। এই সকল মাদক বিদেশ থেকে বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলি থেকে আসে। বানের জলের মত আসে। অথচ আমরা আমাদের সীমান্ত এলাকাতে সীমান্ত প্রহরী, যাকে বলা হয় বিজেবি তাদের আমরা দায়িত্ব দিয়ে রেখেছি । যেন দেশে থেকে অবৈধ ভাবে কোন কিছু বের হতে এবং অবৈধ ভাবে প্রবেশ করতে না পারে। তারা যদি চান তাহলে দেশে একটা পিপড়াও অবৈধ ভাবে দেশ থেকে বের হতে বা দেশে প্রবেশ করতে পারবে না। কিন্তু বিজেবি নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থে দেশের বৃহত্তর স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দেশের ভিতরে মাদক প্রবেশ করাচ্ছেন। যা মারাত্মক দুঃখ্য জনক।

ঘটনার আড়ালে ঘটা ঘটনাগুলি অনুসন্ধান করি, ঠিক তত দুর পর্যন্ত যত দুর আমার চিন্তা আমাকে পৌছায়।। ঐ সমাজ পতি চেয়ারম্যান অপরাধের বাল ছিঁড়ছেন, দু চার জন মাদক সেবী কে পুলিশের হাতে দিয়ে! ঐ পুলিশ মহাশয়রা অপরাধের বাল ছিঁড়ছেন, দু-চারজন মাদক সেবী আর মাদক ব্যবসায়ীকে জেলে পুড়ে!! সীমান্ত এলাকাগুলিতে সদর ঘাট করে রেখে দেশের ভিতরে কানা-মাছি খেলা! চোর- পুলিশ খেলা! বন্ধ হউক এই সকল কানা-মাছি খেলা।

বিজেবি তোমরা ঠিক হয়ে যাও। তোমরা দেশ প্রেমের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঠিক হয়ে যাও। তোমরা অন্য কোন জগতের না ।তোমরা এই সমাজেরই । তোমরা আমাদেরই ভাই, বন্ধু বা অভিভাবক। তোমরা যে দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছ সীমান্ত প্রহরার তা সঠিক ভাবে পালন করো। তোমরা দায়ী হইওনা কোন তরুণের ভবিষ্যৎ নষ্টের জন্য। নষ্ট তরুণের আত্মীয় স্বজনের দীর্ঘশ্বাসে আর দগ্ধ হইও না। এ অভিশাপ তোমাদের ছাড়বে না। প্রবাদ আছে, “পাপ বাপকেও ছাড়েনা”। অলরেডি তোমরা একবার ধ্বংস হয়েছো। তোমরা বিডিয়ার কে, তোমাদের পোশাককে ধ্বংস করেছো। বিজেবি হয়েছো ।নতুন পোশাক ধারণ করছো। আরও কি ধ্বংস হতে চাও????

মহা-গ্রন্থে বলা আছে, “আমি স্রষ্টা যদি কাওকে বা কোন সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার চিন্তা করি, তাহলে তার অন্য কিছু করি না ; শুধু তার বা তাদের বুদ্ধি ভ্রষ্ট করে দেই।” ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ রাইফেলস এর সদস্যরা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা পিলখানা এলাকায় অবস্থিত বিডিআর সদরদপ্তর সহ সারাদেশে বিডিআর বিদ্রোহ কি বুদ্ধি ভ্রষ্টের নমুনা নয়? একদল মরল আর এক দল উন্মাদের মত মারল। যারা মারল তারা এখন জেলে পচে মরছে। অনেকে ফাঁসির আসামী। এদের সবার ফাঁসি হবে, যারা ফাঁসির দণ্ড প্রাপ্ত। এতেও কি তোমাদের হুস হবে না? তোমরা যে দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছ সীমান্ত প্রহরার তা সঠিক ভাবে পালন করো। তোমরা দায়ী হইওনা কোন তরুণের ভবিষ্যৎ নষ্টের জন্য। নষ্ট তরুণের আত্মীয় স্বজনের দীর্ঘশ্বাসে আর দগ্ধ হইও না। এ অভিশাপ তোমাদের ছাড়বে না। তোমাদের তাড়িয়ে বেড়াবে ……………….।

– মশিউর রহমান (কবি ও ব্লগার)

(বানানের রীতি ও মত লেখকের নিজস্ব )
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১১:৩৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×