somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতীয় পাচারচক্রের থাবায় বাংলাদেশি তরুণীরা

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভারতকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক নারী ও পতিতা ব্যবসায়ী চক্র তাদের ঘৃণ্য ব্যবসার যোগান সচল রাখতে অনেকদিন ধরেই হাত বাড়িয়ে রেখেছে বাংলাদেশের দিকে।

পাচার হওয়া বাংলাদেশি নারীদের ভারতের বিভিন্ন শহরে জোর করে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার চাঞ্চল্যকর কাহিনী মাঝেমধ্যেই প্রকাশ পায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে বাংলাদেশের সরকারকে এ নিয়ে তৎপর হতে দেখা যায়না। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে খুব একটা গুরুত্ব পায়না এসব ঘটনা।

সম্প্রতি ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছে পাচার হওয়া বাংলাদেশি নারীদের কীভাবে জোর করে পতিতাবৃত্তিতে নামানো হয়।

পাশাপাশি উদঘাটিত হয়েছে অপরাধী চক্রের শক্তিশালী নেটওয়ার্কেরও বিভিন্ন তথ্য।

খবরে বলা হয়েছে, নেটওয়ার্কটির বিস্তৃতি গোটা ভারত জুড়েই। আর এদিকে বাংলাদেশের কাহিনীটি স্রেফ প্রলোভন নির্ভর।

বাংলাদেশি কম বয়সি মেয়েরাই মূল টার্গেট। তাদের ভালো কাজ দেওয়ার প্রলোভনে ফেলে ভারতে চালান করে চক্রটি। এদিকে তাদের হয়ে কাজ করে পাচারকারী একটি দল। তারাই ওই মেয়েদের বিক্রি করে চক্রটির কাছে। পরে এই মেয়েরা বিকোয় কোলকাতা, মুম্বাই, হায়দরাবাদসহ ভারতের বিভিন্ন শহরের পতিতালয়ে।

আর সেখানেই শুরু হয় দুর্ভোগের গল্প। পতিতাবৃত্তির অভিশপ্ত জীবন তাদের টেনে নিয়ে যায় এক শহর থেকে আরেক শহরে। তবে সেটা তাদের ইচ্ছায় নয়। বিভিন্ন চক্রের হাতে হাতে নিয়মিত হাতবদল হতে থাকে তারা।

সম্প্রতি এ রকমই একটি চক্রের সরূপ উদঘাটন করে দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যের পুলিশ। কেরালার কোচি শহরের এরনাকুলামে দেহ ব্যবসা পরিচালনাকারী ওই চক্রের আস্তানায় হানা দেয় পুলিশ। সেখানেই সন্ধান মেলে বাংলাদেশি তরুণীদের।

এভাবে অহরহই বাংলাদেশ থেকে নারীদের পাচার করে আনার ঘটনা ঘটছে বলে উদঘাটিত হয়েছে পুলিশি তদন্তে। এরনাকুলাম পুলিশ জানায়, ধরা পড়ার মাত্র কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশ থেকে আরও কয়েক ডজন মেয়েকে এরনাকুলামে আনে ওই চক্র। পরে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে চালান দেওয়া হয় তাদের।

গত বৃহস্পতিবার এরনাকুলামের আলুভা এলাকায় পাচারকারীদের ওই আস্তানায় হানা দেয় পুলিশ। পাচারকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতারের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় ১৯ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণীকে। বাংলাদেশি ওই মেয়ের থেকেই পাওয়া যায় চক্রগুলোর চাঞ্চল্যকর নানা কর্মকাণ্ডের তথ্য। ৪০ হাজার রুপিতে কেনা মেয়েটিকে মাত্র নয়দিন আগে সেখানে আনা হয় বলে জানিয়েছে গ্রেফতারকৃতরা।

এরনাকুলামের সুপারিটেন্ডেন্ট অব পুলিশ এস সতীশ বিনো সংবাদমাধ্যমকে জানান ওই মেয়েটির কাছ থেকে পাচারকারী সিন্ডিকিটের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন তারা। এখন ওই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই চক্রটির অন্যান্য শাখা প্রশাখা সনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। মেয়েটিকে কেরালায় আনার আগে মুম্বাই ও হায়দরাবাদ ঘুরিয়ে আনা হয় বলে জানান সতীশ বিনো।

তিনি আরও জানান, নারী ব্যবসায়ী এ চক্রগুলো শহরতলীর ঘনবসতিপূর্ণ ঘিঞ্জি এলাকাগুলোতে তাদের আস্তানা গাড়ে। সাধারণত বাইরে থাকা আসা অভিবাসী শ্রমিকদের আবাস ওই সব এলাকায় পরিচয় গোপন করে তৎপরতা চালানো অনেক সহজ হয় তাদের জন্য।

এর আগেও বাংলাদেশ থেকে পাচার করা নারীদের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার ঘটনা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসলেও এ ব্যাপারে টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। জানা গেছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন পক্ষকে ম্যানেজ করেই পাচারকারীরা তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে।

অল্প কিছু অর্থের বিনিময়ে অন্য দেশে পতিতাবৃত্তিতে নিজের দেশের অসহায় মেয়েদের পাঠানোর মত জঘন্য কাজ করতে বুক কাঁপে না তাদের।

এভাবে প্রতি বছর কত মেয়ে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে ভারতের বিভিন্ন পতিতাপল্লীতে দেহ ব্যবসায় ব্যবহৃত হচ্ছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই কারও কাছেই।

অনেকের ধারণা পাচারকারীদের সিন্ডিকেট অনেক শক্তিশালী হওয়ায় এবং এর সঙ্গে অনেক রাঘব বোয়াল যুক্ত থাকায় বছরের পর বছর ধরে অবাধে নিজেদের ঘৃণ্য তৎপরতা চালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে পাচারকারীরা।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবেই কী অন্য দেশের পতিতালয়ে বিক্রি হওয়ার জন্য পাচার হতে থাকবে বাংলাদেশের অসহায় তরুণী, কিশোরীরা।

দেশের প্রশাসন ও সচেতন সমাজের টনক কী কখনই নড়বে না?
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭



এক বিদেশি জাহাজ মধুমতি নদীতে একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে।
সেই ডুবে যাওয়া জাহাজ দেখার জন্য শাহেদ জামাল ছুটে চলেছেন- মধুমতি নদীতে। জাহাজ এর নাম স্টিব অস্টিন। শাহেদ জাহাজটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×