somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুক্রবার থেকে জাবিতে ‘চিরকুট সাহিত্য সম্মেলন’

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘শুদ্ধ মন গড়ি, পরিশীলিত সাহিত্য চর্চায়’ এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) তিন দিনব্যাপী ‘চিরকুট সাহিত্য সম্মেলন-২০১৫’ শেষ হয়েছে। সম্মেলনের তৃতীয় ও সমাপনী দিন র‍্যালি, আলোচনা, সম্মাননা ও নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ সম্মেলনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল এনটিভি অনলাইন।

আজ রোববার বেলা ১১টায় অমর একুশের পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার মাধ্যমে তৃতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে কবি হিমেল বরকত বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথম কোনো সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এমন একটি সাহসী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমি চিরকুট পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

এ সময় গল্পকার খোরশেদ আলম, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা, চিরকুট সম্পাদক মাসুম মুনাওয়ার বক্তব্য দেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে ‘বিশ্বসাহিত্য’ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কবি শামীম রেজা।

আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ড. শোয়াইব জিবরান বলেন, ‘বিশ্বসাহিত্য বলতে সাধারণত ইংরেজির মাধ্যমে প্রাপ্ত সাহিত্যকে বোঝায়। কিন্তু এর বাইরেও অনেক মূল্যবান সাহিত্যের খবর আমরা জানি না, যেগুলো ইংরেজি মাধ্যমে অনূদিত হলে আমরা তাকে বিশ্ব সাহিত্য বলতাম। প্রত্যেক সাহিত্যই কোনো না কোনো আঞ্চলিকতাকে ধারণ করে, কিন্তু সেই সাহিত্যই আবার বিশ্বসাহিত্য হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে ভাষার রাজনীতির একটা প্রভাব থাকে। অন্যকে অনুকরণ করে নয়, বরং নিজের সৃজনশীলতার মাধ্যমে সাহিত্য চচা করুন।’

আলোচনা সভায় গল্পকার ড. খোরশেদ আলম বলেন, একজন সাহিত্যিকের কাছে কখনোই কোনো দেশ-রাজনীতির সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে না। আমাদের সাহিত্যের অনেক সৃষ্টিই বিশ্ব সাহিত্যে স্থান পেত, কিন্তু বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ না হওয়ার কারণে আমাদের অধিকাংশ সাহিত্য বিশ্ব সাহিত্য হয়ে ওঠেনি। ভালো অনুবাদই পারে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব সাহিত্যে স্থান দিতে।

সাহিত্যিক তপন শাহেদ বলেন, বিশ্বসাহিত্য বোঝার জন্য তুলনামূলক সাহিত্য পাঠ জরুরি। আর এভাবে সাহিত্য বোঝার মাধ্যমেই আমাদের সাহিত্যকে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। প্রান্তিকতা একটি সাহিত্যকে বিশ্ব সাহিত্যে রূপ দেবে না, এমনটি নয়। ইংরেজি, ফরাসি কিংবা বাংলা সাহিত্য প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় প্রান্তিক, আবার সেসব সাহিত্যের মতো বাংলা সাহিত্যও বিশ্ব সাহিত্য হতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যের শুরুতেই কবি শামীম রেজা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সাহিত্য সম্মেলন আয়োজন করার জন্য চিরকুট পরিবারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিশ্ব সাহিত্য পাঠের একটি চূড়ান্ত পদ্ধতি হলো তুলনামূলক সাহিত্য পাঠ, যা একটি সংস্কৃতির সঙ্গে আরেকটি সংস্কৃতির সংযোগ ঘটায়। এর মাধ্যমে বিশ্ব সাহিত্য বুঝা ও বিশ্ব সাহিত্যে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হয়।

পরে আলোচকদের সম্মানা পদক দেওয়া হয়। এরপর চিরকুট সম্পাদক মাসুম মুনাওয়ার সাহিত্য সংগঠন চিরকুটের ২০১৫-১৬ বর্ষের ১১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেন। গল্পকার আনুজুম সানিকে সম্পাদক ও কবি জুলফিকার রবিনকে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী ‘চিরকুট সাহিত্য সম্মেলন-২০১৫’-এর সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী চিরকুট সাহিত্য সম্মেলনে প্রথিতযশা ও দেশবরেণ্য শতাধিক কবি, কথা সাহিত্যিক, নাট্যকার, সমালোচক অংশ নেন।



‘শুদ্ধ মন গড়ি, পরিশীলিত সাহিত্য চর্চায়’ এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) তিন দিনব্যাপী ‘চিরকুট সাহিত্য সম্মেলন-২০১৫’ শেষ হয়েছে। সম্মেলনের তৃতীয় ও সমাপনী দিন র‍্যালি, আলোচনা, সম্মাননা ও নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ সম্মেলনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল এনটিভি অনলাইন।

আজ রোববার বেলা ১১টায় অমর একুশের পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার মাধ্যমে তৃতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে কবি হিমেল বরকত বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথম কোনো সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এমন একটি সাহসী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমি চিরকুট পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

এ সময় গল্পকার খোরশেদ আলম, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা, চিরকুট সম্পাদক মাসুম মুনাওয়ার বক্তব্য দেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে ‘বিশ্বসাহিত্য’ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কবি শামীম রেজা।

আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ড. শোয়াইব জিবরান বলেন, ‘বিশ্বসাহিত্য বলতে সাধারণত ইংরেজির মাধ্যমে প্রাপ্ত সাহিত্যকে বোঝায়। কিন্তু এর বাইরেও অনেক মূল্যবান সাহিত্যের খবর আমরা জানি না, যেগুলো ইংরেজি মাধ্যমে অনূদিত হলে আমরা তাকে বিশ্ব সাহিত্য বলতাম। প্রত্যেক সাহিত্যই কোনো না কোনো আঞ্চলিকতাকে ধারণ করে, কিন্তু সেই সাহিত্যই আবার বিশ্বসাহিত্য হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে ভাষার রাজনীতির একটা প্রভাব থাকে। অন্যকে অনুকরণ করে নয়, বরং নিজের সৃজনশীলতার মাধ্যমে সাহিত্য চচা করুন।’

আলোচনা সভায় গল্পকার ড. খোরশেদ আলম বলেন, একজন সাহিত্যিকের কাছে কখনোই কোনো দেশ-রাজনীতির সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে না। আমাদের সাহিত্যের অনেক সৃষ্টিই বিশ্ব সাহিত্যে স্থান পেত, কিন্তু বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ না হওয়ার কারণে আমাদের অধিকাংশ সাহিত্য বিশ্ব সাহিত্য হয়ে ওঠেনি। ভালো অনুবাদই পারে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব সাহিত্যে স্থান দিতে।

সাহিত্যিক তপন শাহেদ বলেন, বিশ্বসাহিত্য বোঝার জন্য তুলনামূলক সাহিত্য পাঠ জরুরি। আর এভাবে সাহিত্য বোঝার মাধ্যমেই আমাদের সাহিত্যকে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। প্রান্তিকতা একটি সাহিত্যকে বিশ্ব সাহিত্যে রূপ দেবে না, এমনটি নয়। ইংরেজি, ফরাসি কিংবা বাংলা সাহিত্য প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় প্রান্তিক, আবার সেসব সাহিত্যের মতো বাংলা সাহিত্যও বিশ্ব সাহিত্য হতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যের শুরুতেই কবি শামীম রেজা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সাহিত্য সম্মেলন আয়োজন করার জন্য চিরকুট পরিবারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিশ্ব সাহিত্য পাঠের একটি চূড়ান্ত পদ্ধতি হলো তুলনামূলক সাহিত্য পাঠ, যা একটি সংস্কৃতির সঙ্গে আরেকটি সংস্কৃতির সংযোগ ঘটায়। এর মাধ্যমে বিশ্ব সাহিত্য বুঝা ও বিশ্ব সাহিত্যে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হয়।

পরে আলোচকদের সম্মানা পদক দেওয়া হয়। এরপর চিরকুট সম্পাদক মাসুম মুনাওয়ার সাহিত্য সংগঠন চিরকুটের ২০১৫-১৬ বর্ষের ১১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেন। গল্পকার আনুজুম সানিকে সম্পাদক ও কবি জুলফিকার রবিনকে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী ‘চিরকুট সাহিত্য সম্মেলন-২০১৫’-এর সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী চিরকুট সাহিত্য সম্মেলনে প্রথিতযশা ও দেশবরেণ্য শতাধিক কবি, কথা সাহিত্যিক, নাট্যকার, সমালোচক অংশ নেন।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ২:২৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×