somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মো: আব্দুল মোমেন
আমার সম্পর্কে বলার তেমন কিছুই নেই। সাধারণ একটা ছেলে। অতি সাধারণ একটা মানুষ হয়েই থাকতে চাই..

মানবিকতা বেঁচে থাকুক সবার মাঝে !

০১ লা মে, ২০১৮ রাত ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কিছুদিন আগে ফেসবুকে এক বৃদ্ধা মা'কে নিয়ে লিখেছিলাম। লেখাটা দেখে এক ভাই ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন, সেই মা'কে ফল কিনে দেওয়ার জন্য। একটু ব্যস্ততা কাটিয়ে উঠে সীমা আপু'র সাথে যোগাযোগ করলাম। সীমা আপু হলেন আমার শিক্ষিকা,তিনিই ওই বৃদ্ধা মা'য়ের সন্ধান দিয়েছিলেন। এক'শ বছরের বেশি বয়সের বৃদ্ধা মা' থাকেন মেয়ের বাড়িতে! একটা বস্তিতে ছোট দুইটা ঘর,বারান্দার একটা টিনের বেড়ায় থাকেন বৃদ্ধা মা।

তিন ছেলে দুই মেয়েসহ পাঁচ সন্তানের জননী এই মা! দুর্ভাগ্যবশত কোনো ছেলেই বৃদ্ধা মা'কে দেখা শোনা করেন না!সবাই দিনাজপুরে থাকেন।
এক মেয়ে থাকেন ভারতে,তার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই! ছেলেরা যেহেতু মা'কে দেখেন না সেক্ষেত্রে এক মেয়ে দেখাশোনা করেন। দেখাশোনা বলতে সেটাও যা দেখলাম খুবই করুণ অবস্থা!

মেয়ে আর নাতিনাতনিরা মিলে অমানবিক নির্যাতন করেন এক'শ বছর বয়সের এই বৃদ্ধার সাথে!
কিছু ফলমূল নিয়ে সীমা আপুর হাসবেন্ডকে সাথে নিয়ে বৃদ্ধা মা'য়ের কাছে গেলাম। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও মনের ইচ্ছে শক্তি দিয়ে চলছেন বুড়ি মা! হাতের বেশ কয়েক জায়গায় ক্ষত! বৃদ্ধা মা'কে ডাক দিতেই খোয়ারের মত ঘরটা থেকে হুংকার দিয়ে বের হলেন।

বাড়িতে তখন কেউ ছিল না,একটু পরে বুড়ি মা'র নাতি আসলো! ছেলেটা অটো চালায়। দেখেই মনে হলো কেমন একটা ছেলে! চেহারার মধ্যে একটা মাস্তানি ভাব!

কথা বলে ছেলেটাকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম,আমরাও একদিন এই বয়সে আসবো! আমাদেরকেও তো মরতে হবে! একদিন আমাদেরও নাতিনাতনি হবে,বুড়ি মাকে যেন একটু দেখাশোনা করেন।

আমি জানি,আমার এই মিষ্টি কথায় কোনো কাজ হবে না,তারপরেও কিছু কথা বলে আসছি,এটাও বলে আসছি মাঝে মধ্যে খোজখবর নিতে আসবো।
বৃদ্ধা মা ফলের ব্যাগটা হাতে নিয়ে অনেক খুশি,একটা কলা বের করে খাওয়াই দিলাম। সাথে বুড়ি মা'র ওষুধ কেনার জন্য সীমা আপুর হাসবেন্ড নামজুল হক বিপ্লব ভাই একটা এক'শ টাকার নোট বের করে দিলেন।

জানি না আদৌ সেই এক’শ টাকাটা দিয়ে বুড়ি মা'র জন্য ওষুধ কেনা হবে কিনা!
তবে বুড়ি মা দো'য়া করলেন খুব কাছ থেকে! এই বয়সে তিনি যা আমাকে দিলেন সেটা পৃথিবীর সেরা প্রাপ্ত পুরুস্কার! মাথায় হাত,কপালে চুমু,আর কি যেন দো'য়া পড়ে বেশ কয়েকবার চুমু খেলেন। আমার গাঁ শিহরিত হলো! বুঝতে পারলাম তিনি মন থেকেই আমার জন্য দো'য়া করেছেন। যদিও দো'য়া পাবার কথা যেই ভাই টাকাটা পাঠিয়েছেন সেই ভাইয়ের প্রাপ্ত।

মহান সৃষ্টিকর্তা হয়ত এই দো'য়ার ভাগ আমাদের সবাইকে দিবেন। কষ্ট লাগলেও সেখান থেকে প্রসস্থান হলাম। খারাপ লাগলেও কিছু করার নেই! আমাদের সমাজে তো এরকম বৃদ্ধা মায়েরা অনেক আছেন! আমরা কতজনের মুখে হাসি ফোটাতে পারি বলেন?

তবুও পৃথিবী চলছে তার নিয়মে! বয়স বাড়ছে তার গতিতে! এই তো কয়েক বছর পর আমি আমরা এরকম একটা বয়সে এসে পৌঁছাবো!!

সীমা আপু,মাহবুব মিনার ভাই(ডোনার)নাজমুল ভাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ! আপনাদের প্রতি রইল অকৃত্রিম ভালোবাসা,একদিন এভাবেই পৃথিবী বদলে যাবে সবার ছোট ছোট সহযোগিতায়। বদলে দিতে চাই আমাদের সমাজ,সমাজের মানুষ তথা রাষ্ট্রকে!!

চলুন বদলে ফেলি আমাদেরকে...

বিঃদ্রঃ কিছুদিন পর বুড়ি মা'র কাছে যাবো,কেউ যেতে চাইলে বলতে পারেন। মিনার ভাই আরো কিছু জিনিস পাঠাতে চেয়েছেন,সেগুলো নিয়ে যেতে হবে....
অনেকে বলতে পারেন,বেটা অন্যের দেওয়া দানে বড় বড় স্ট্যাটাস মারে,বলতে পারেন,কিন্তু অন্যের আমানত খেয়ানত না করে একটু লিখলেই যদি কারো উপকারে আসে তাহল খারাপ কিসে?
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৮ রাত ১:২২
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা: (দ্বিতীয় পর্ব)

লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয়, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০০

কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম?

দ্বিতীয় পর্ব: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বিভাজন এবং অসম প্রতিযোগিতা

একটি শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×