somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রব্বানী রবি
হুমায়ূন আহমেদের বই যখন পড়ি, তখন আমার লেখার ইচ্ছাটা জেগে উঠে। আপাতত ছোট গল্প দিয়ে না হয় শুরু করলাম..

উপলব্ধি

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সোহেলের বাবা মারা গেছে খুব ছোটবেলায়। যখন সে মাত্র ১ম শ্রেণিতে পড়ে। সোহেল বার বার জিজ্ঞেস করে, ও মা! বাবা কোথায়? সবার তো বাবা আছে, আমার বাবা কোথায়?

তখন সোহেলের মা,মনকে শক্ত করে বলে, তোর বাবা খুব ভালো মানুষ তো, তাই কবরে শুয়ে আছে!একদিন আমি আর তুইও ওখানে যেতে হবে।

সোহেলকে চালানোর জন্য তার মা বাসা বাড়িতে কাজ শুরু করে। প্রথম প্রথম কেউ তাকে কাজের বুয়া হিসেবে নিতে চাইতো না। কারণ সোহেলের মা দেখতে সুন্দর ছিলো,কথা-বার্তায় ছিলো শালীন।

এভাবে কাজ দেখতে দেখতে এক পরিবারে কাজ পায় সোহেলের মা। ওই পরিবারে এক বুড়ো দম্পতি রয়েছে। তাদের দেখাশোনা করার জন্য তাদের বড় ছেলে,সোহেলের মাকে রেখে দেন।

কিন্তু যখন সোহেলের মা ঘরের কাজ করতেন, তখন বুড়ো মিয়া তার চারপাশে ঘুরঘুর করতেন। বুড়ো মিয়া রফিক সাহেব, সোহেলের মাকে পারু বলে ডাকতেন।কারণ সোহেলের মার পুরো নাম ছিলো, পারভীন।

রফিক সাহেব প্রতিদিন পারুর ঘর মোছা দেখতেন। দিনের এই সময়টাতে তিনি সবচেয়ে খুশি থাকতেন। কারণ, পারুর দেহের একটা অংশ তিনি চোখ দিয়ে গিলে খেতেন। পারুর কিছুই করার ছিলো না। রফিক সাহেব ভাবতেন,পত্রিকা চোখের সামনে রাখলে, পারু বুঝবে না। কিন্তু পারু সবই বুঝতো, শুধু ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছুই বলতে পারছে না। কিছু বললে হয়তো,ছেলের ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাবে এখানেই।হয়তো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে হবে। তারচেয়ে এখানে থাকা অনেক ভালো।

এদিকে সোহেলও তার পড়াশোনা ভালো ভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে। সোহেল মাঝে মাঝে বলে,তুমি আমার জন্য কতো কষ্ট করো! দেখো আমি বড় হয়ে, তোমার সব কষ্ট মুছে দিবো।

রফিক সাহেবের স্ত্রী এসব কখনো বুঝতেন না। পারুকে তিনি মেয়ের মতোই দেখেন আর সোহেলকে নাতির মতো। কারণ, তার সব নাতি যে তাকে ছেড়ে অনেক দূর দেশে থাকে।

একদিন রফিক সাহেব দুপুর বেলা সুযোগ পেয়ে, পারুকে বিছানায় ফেলে গায়ের উপর উঠে যায়। কিন্তু ভাগ্যের কি এক খেলা, রফিক সাহেবের পায়ে রগে টান পড়ে। ওনি পৈশাচিক আনন্দ ফেলে, এবার চিৎকার করা শুরু করেন। তখন রফিক সাহেবের স্ত্রী এসে দেখেন, পারু রফিক সাহেবের নিচে। লুঙ্গি অর্ধেক উঠানো। আর ভীষণ রকম কাঁপছেন।

সেদিন রফিক সাহেবকে তার স্ত্রী ভুল বুঝতে পারতেন। কিন্তু পারু ঘটনাকে অন্য ভাবে প্রকাশ করে।

পারু ঘটনার সময় রফিক সাহেবকে বাবা বলে সম্বোধন করেন। আর বলেন, মা বাবা হঠাৎ কাঁপা শুরু করে। আর তা দেখে, ওনাকে ধরতে গিয়ে, আমরা একসাথে খাটে পড়ে যাই।

মেয়েরা সাধারণত সন্দেহ পোষণ করে থাকে। ঘটনার সময় বাবা বলাটাই ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

তারপর থেকে রফিক সাহেবের কি হলো, কে জানে ওনি বদলে যেতে লাগলেন।

একদিন পারুকে ডেকে বলে, আমি তোমার সাথে খুব অন্যায় করেছি। আমার মেয়ের বয়সী তুমি, অথচ আমি কি করতে যাচ্ছিলাম। প্রতিনিয়ত তোমার সাথে, ছিঃ ছিঃ! ভাবতেও ঘৃণা হচ্ছে । আমাকে তুমি মাফ করো মা।

সেদিন পারু বলেছিলো, আমি সোহেলের মুখের দিকে তাকিয়ে সব সহ্য করে যাচ্ছি। সোহেল বড় হবে,ভালো মানুষ হবে,এটা আমার অনেক সখ। আপনি যদি আমাকে ঠাঁই না দিতেন, আমি কখনো সোহেলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারতাম না। তাই আমি সব সহ্য করে যাচ্ছি,শুধু সোহেলের দিকে চেয়ে।

দুজনের চোখ বেয়ে জলের ধারা বহে যেতে লাগলো। একসময় দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরিয়ে কান্না শুরু করলো। এবার কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর অনুভূতি রফিক সাহেব আর পারু অনুভব করতে লাগলেন। আর সেটা বাবা - মেয়ের সম্পর্কই।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:৪৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস: ঢাকার রাজপথ, ধারণক্ষমতার সংকট এবং গণপরিবহনের বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩



আজ ২২ সেপ্টেম্বর—বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। কল্পনা করুন তো, কর্মব্যস্ত এক মঙ্গলবারের সকালে ঢাকার রাজপথে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই! কানে তালা লাগানো অহেতুক হর্নের গর্জন নেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুনফুনা ফুন

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩



ছয় হাজার হাজার আগে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিলো মাত্র দশ লাখ।
হ্যা দশ লাখ। পুরো পৃথিবীর সব জায়গায় মানুষ থাকতো না। বনজঙ্গল ছিলো। আর সমুদ্র এবং নদী। পাহাড় পর্বত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রেম বয়সের বাধা মানে না!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

প্রেমের ক্ষেত্রে বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, তা প্রমাণ করেছেন বিশ্বের অনেক নামী দম্পতি। পুরুষরা তাদের চেয়ে কম বয়সী নারীদের বিয়ে করবেন - এমন সামাজিক প্রথা ভেঙে অনেক প্রভাবশালী নারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহিউদ্দিন মোহাম্মদের জেন জি নিয়ে মূল্যায়ন এবং জেন জি'কে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মূল্যায়ন

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৯



লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদের এইসব কথার সাথে একটু দ্বিমত আছে। কারণটা বলছি..

২০১৯ থেকে আমার যে বিপুল সংখ্যক নারীদের সাথে সুন্দর, নির্ভেজাল ও পরিচ্ছন্ন বন্ধুত্ব হয়েছে, এর ৬০%-ই হচ্ছে জেন জি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×