somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এম আর ওয়ােজদ চৌধুরী
আমি এম আর ওয়াজেদ চৌধুরী ( রায়হান )। পড়াশোনা করছি আইআইইউসির আইন বিভাগে । নিজের সমর্পকে বলার মতো এখনো কিছু করতে পারিনি । খুব ইচ্ছা হলে ফেইসবুকে আমার সাথে আসতে পারেন। www.facebook.com/MRWC90 সার্চ করে। ধন্যবাদ।।

ভারতে ইয়াকুব মেমন আর বাংলাদেশে সাকা চৌধুরীর ফাসিঁর খবর!

২৯ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ৮:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

#ফাসিঁ
আজ আমার ফেইসবুক টাইম লাইনে দেখতে পাচ্ছি ভারতীয় মিডিয়া সমূহের সবগুলোতে ইয়াকুব. মেমন এর ফাসিঁর খবর।
আর বাংলাদেশের মিডিয়া সমূহে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক আপীল বিভাগে সাকা চৌধুরীর ফাসিঁর রায় বহালের খবর!
সাকা চৌধুরী মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকর করতে সময় লাগতে পারে অনেকদিন কিন্তু মেমনের মৃত্যুদন্ডের কার্যকরের সময় আছে কয়েকঘন্টা বাকী। আগামীকাল সকাল ৭টা বাজলেই শেষ হয়ে যাবে তার জীবন। তাই সাকা চৌধুরী নিয়ে পরে কথা বলব।
ইয়াকুব মেমন নিয়ে কিছু কথা বলছি এখন।

পেশায় একসময়ের চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট এয়াকুব মেমন সপরিবারে দুবায়ে ছিলেন, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পাকিস্তানে যান এবং তারপর ১৯৯৪ এর জুলাই মাসে পরিবারের আরো সাতজনকে নিয়ে ভারতে ফিরে এসে আদালতে এই বলে আত্মসমর্পন করেন যে তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ, তাঁর ভাই
টাইগার মেমনের ষড়যন্ত্র বিষয়ে তিনি মোটেই অবগত ছিলেননা। বিস্ফোরণে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার সংযোগ থাকার কিছু প্রমানও তিনি সংগ্রহ করে এনেছিলেন এবং ইয়াকুব মেমন বিশ্বাস করেছিলেন যে তাঁর ভায়ের ঘটানো অপরাধের সাজা আদালত তাঁর ঘাড়ে চাপাবেনা, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবেন তিনি। বাবরি ধ্বংস ও মুম্বাই দাঙ্গার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৯৩ এর মার্চ মাসে মুম্বায়ে যে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ ঘটে তার প্রধান চক্রী ছিল দাউদ ইব্রাহিম ও টাইগার মেমন। বাবরি মসজিদ ধ্বংস করার অব্যবহিত পরেই মুম্বায়ে দাঙ্গা বাধানো হয় যেখানে ৯০০ মানুষকে
হত্যা করা হয়েছিল যার মধ্যে ৫৭৫জন ছিলেন সংখ্যালঘ মুসলিম সম্প্রদায়ের।
ঘাতকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা রুজু হয়েছিল। দু’দুটি বিচার বিভাগীয় কমিশন বেশ কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে উপরিউক্ত দুইটি অপরাধের জন্য দোষী হিসাবে অভিযুক্ত করেছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে ৩১জন পুলিশ কর্মী। তাদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের প্রতি চূড়ান্ত সাম্প্রদায়িক ব্যবহার ও হত্যার চার্জ এনেছিল বিচার বিভাগীয় কমিশন। এইসব অপরাধীদের কারোরই শাস্তি হয়নি, অভিযুক্তদের
কেউ কেউ এখন রাজ্যে বা কেন্দ্রে মন্ত্রী। মুম্বাই বিস্ফোরণে অভিযুক্ত প্রত্যেকেরই সাজা ঘোষণা হয়। যাদের মৃত্যুদন্ড ঘোষণা হয়েছিল তাদের সকলেরই শাস্তি কমিয়ে জাবজ্জীবন করা হয় কেবল ইয়াকুব মেমন বাদে। ভারতে এসে আত্মসমর্পন করার পর থেকে জেলে আছেন ইয়াকুব মেমন গত দু’দশক, জেলে বসে ন্যায় বিচারের লড়াই লড়তে লড়তে ইংরেজি ও পলিটিকাল
সায়েন্সে এমএ পাস করেছেন। তাঁর ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে শেষতম আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে ভারতীয় সুপ্রীম কোর্ট। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই বিচারকে ধিক্কার জানিয়েছে। বলিউডের সালমান খান টুইটারে বলেছিলেন,
ইয়াকুব নয়, তাঁর ভাই টাইগার মেমনকে ধরে ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত। দাউদ ও টাইগারকে নাগালে না পেয়ে ইয়াকুব মেমন ও
তার পরিবারকেই চরম শাস্তি দেওয়া আসলে সুবিচারের ধারনাকে ফাঁসিতে চড়ানো। অনেকেই মনে করেছে, শুধুমাত্র মুসলিম বলে তাকে ন্যায়বিচার করা হয়নি। ইয়াকুব মেমনের ফাঁসি কার্যকর না
করার জন্য ভারতের অনেক বিশিষ্ট নাগরিক রাষ্ট্রপতির কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
৫৩ বছর বয়সী ইয়াকুব মেমনের প্রাণভিক্ষার আবেদন আগেই খারিজ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায়ও। সাজা রদের সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে করা কিউরেটিভ পিটিশনও খারিজ হয়ে যাওয়ায় ইয়াকুব মেমনের ফাঁসি
কার্যকর হওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা
মাত্র!

তথ্যসূত্র :- ইন্টারনেট
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×