somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২১ টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যেগুলো মনে রাখা দরকার

১১ ই জানুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১. আপনি কেমন ব্যক্তি তা নির্ভর করে- যেসব বই আপনি পড়েছেন, যেসব লোকের সাথে আপনি মিশেছেন, যেসব খাবার আপনি খেয়েছেন, এবং যেসব অভ্যাস আপনি এডপ্ট করেছেন।

২. কোন কিছুর উন্নতি ট্রাক করাই হলো, ঐ জিনিসে উন্নতি করার প্রথম ধাপ।

৩. কোন কিছু যদি আপনার দরকার হয় বা আপনি চান, কমপক্ষে যা আপনি করতে পারেন তা হলো ঐ জিনিসটা চাওয়া। যদি আপনি পেয়ে যান তা হলে তো পেলেনই। আর না পাইলেও আপনার সহনশীলতা বাড়লো।

৪. যা নেই তার দিকে ফোকাস না করে, যা আছে তার দিকে মনোযোগ দেন। যা আছে সেগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন।

৫. শৃঙ্খলাযুক্ত জীবন যাপন, পর্যাপ্ত ঘুম, ও প্রকৃতিতে হেঁটে বেড়ানোর মাধ্যমে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান করা যায়।

৬. অন্যকে দোষ না দিয়ে নিজের করণীয় সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে। অভিযোগ করার দ্বারা কোন সমাধান আসে না। যে কোন সমস্যায় নিজের যতটুকু করার সামর্থ্য আছে ততটুকু করার মাধ্যমেই সমাধানের দিকে যাওয়া যায়।

৭. ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। নিজের সম্পর্কে নিজেকে উচ্চাশা দিতে হবে, নিজেকে ইতিবাচক কথা বলতে হবে।

৮. একটা দিনকে চারভাগে ভাগ করে চিন্তা করা যায়।

সকাল

দুপুর

বিকাল

সন্ধ্যা

সকাল খারাপ গেছে বলে পুরা দিন নষ্ট হয়েছে এমন ভাবার কারণ নেই। দিনের আরো তিনটা অংশ রয়েছে। দিনের প্রতি অংশকে আলাদা ব্লক আকারে চিন্তা করতে হবে।

৯. কোন বড় কিছু অর্জন করতে হলে ৯০/৯০/১ রুল ফলো করা যায়।

সকালে একটানা ৯০ মিনিট কাজ করতে হবে।

একটানা ৯০ দিন করতে হবে।

ফোকাস করতে হবে মাত্র ১ টি কাজে।

এই নিয়মের কোন ব্যত্যয় করা যাবেনা। কোনো অজুহাত দেওয়া যাবে না।

১০. সিদ্ধান্ত নেওয়ার বেলায় সব সময় “না” কে প্রায়োরিটি দিতে হবে। অথবা কোনো সিদ্ধান্তই তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া যাবে না। যে কোনো সিদ্ধান্তে “হ্যাঁ” বললে নিজের প্রায়োরিটি লিস্টের কাজগুলো পিছনে পড়ে যাবে।

কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে “হ্যাঁ” বা “না” সিদ্ধান্ত যেটাই হোক, সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। এই সময়টা ২ মিনিট ও হতে পারে বা ২ দিন ও হতে পারে। সময় কতটুক নিবেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ না, গুরুত্বপূর্ণ হলো “সময় নেওয়া”-টা।

১১. সকালে কী করতে চান সেটা আগের রাতে ঘুমানো আগেই ঠিক করে রাখতে হবে। ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত একঘন্টা কোনোভাবেই মোবাইল স্ক্রিনের দিক তাকানো যাবে না। ঘুম থেকে উঠে পানি খেয়ে কিছুক্ষণের জন্য হাঁটাহাঁটি করে দিন শুরু করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়।

১২. জীবনে সবকিছুতে ভারসাম্য তৈরি করা যায় না। প্রকৃতি সবসময় ভারসাম্য ও ন্যায়ানুগ হয় না। জীবনে ভারসাম্যহীনতাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণের মানিসিকতা তৈরি করতে হবে।

১৩. “টাকা”ই একমাত্র লক্ষ্য নয়। টাকা হলো একটা টুল মাত্র। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ক্রমাগতি উন্নতির ধারা বজায় রাখা, নিজেকে সময় দেওয়া, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা। এগুলো অর্জন ও উপভোগ করার একটি টুল হচ্ছে “টাকা”।

১৪. সবকিছু থেকে সরিয়ে নিয়ে নিজেকে নিয়মিত সময় দেন। সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হাঁটেন কিছুক্ষণ।

১৫. ভাল ঘুমের জন্য ৩-২-১ রুল ফলো করা যায়।

ঘুমানোর আগে ৩ ঘন্টার মধ্যে খাওয়া যাবে না।

ঘুমানোর আগে ২ ঘন্টার মধ্যে পানি বাদে অন্য কিছু পান করা যাবে না।

ঘুমানোর আগে ১ ঘন্টার মধ্যে কোন স্ক্রিনের দিকে তাকানো যাবে না।

১৬. প্রোডাক্টিভিটির জন্য “টু মিনিট রুল” গুরুত্বপূর্ণ ও খুব কাজের।

“টু মিনিট রুল” হলো- এমন কোন কাজ যদি পড়ে থাকে যা করতে মাত্র দুই মিনিট লাগবে, সেট তাৎক্ষণিকভাবে করে ফেলতে হবে।

১৭. “এন্টি-টু-ডু লিস্ট” করা দরকার। অর্থাৎ কী কী করবো না তার তালিকা।

১৮. জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে পারেটো প্রিন্সিপাল বা ৮০/২০ রুল খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই রুলের মূল কথা হলো- কোন কাজের ৮০ ভাগ ফলাফল বা প্রোডাক্টিভিটি আসে ২০ ভাগ কাজ বা ইনপুট থেকে। বাকি ২০ ভাগ ফল আসে ৮০ ভাগ কাজ থেকে।

১৯. যা অর্জন করতে চান তা পেতে প্রতিদিন কাজ করতে হবে। কাজের পরিমাণ অল্প হলেও সমস্যা নেই। গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিন করা। প্রতিদিনের করা অল্প অল্প কাজই কম্পাউন্ড ইফেক্টের ফলে একসময় জায়ান্ট হয়ে উঠবে।

২০. নিজের লক্ষ্য ঠিক করতে ৫/২৫ রুল ফলো করা যায়।

নিজের ২৫ টি লক্ষ্য খাতায় লিখতে হবে। এর মধ্য থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫ টি লক্ষ্য আলাদা করতে হবে ও সেগুলো অর্জন করতে পরিপূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে। বাকি ২০ টি লক্ষ্য মূল লক্ষ্য না এবং সেগুলো আপনার সময় ডিজার্ভ করে না।

২১. ইউটিউবে ভিডিও দেখার সময় ১.৫ স্পিডে দেখেন। এতে অনেক সময় বাচে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ১:৫৬
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভূমি-দেবতা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৩


জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাইয়ে ভাইয়ে
মারামারি-কাটাকাটি-খুনোখুনি হয়;
শুধু কি তাই? নিজের বোনকে ঠকিয়ে
পৈতৃক সম্পত্তি নিজ নামে করে লয়।
অন্যদের জমির আইল কেটে নিয়ে
নিজেরটুকু প্রশস্ত সময় সময়;
অন্যদের বাড়ি কব্জা- তাদের হটিয়ে
সেখানে বানায় নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুইটি প্রশ্ন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪০

১) জাতিসংঘ কি হাদী হত্যার বিচার এনে দিতে পারবে? ফিলিস্তিনি গণহত্যার বিচার কি জাতিসংঘ করতে পেরেছে?

২) আজকের পুলিশি হামলায় ছাত্র নেতারা ডঃ ইউনুসকে যেভাবে গালি দিচ্ছেন, তাতে কি জাতিসংঘ খুশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×