= বাংলাদেশে কি আদৌ গণতন্ত্র বিরাজমান? =
গণতন্ত্র চর্চা করতে প্রথমেই দরকার একটি সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক দল।
বাংলাদেশে তেমন কোন দল ছিল কি, বা আছে কি?
উত্তর: না, নেই।
কেন নেই?
কারন হলো, বড়ো রাজনৈতিক দল দুটোর দিকে নজর দিলে দেখা যায় দলগুলোর শীর্ষ নেতা গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত হয়না।
উন্নতদেশগুলোতে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দলনেতা নির্বাচন করা হয় একটা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য। নতুন নেতা দায়িত্বপালনরত নেতার পরিবারের সদস্য হবেন তেমন কথা নেই। তিনি দলের যোগ্য নেতাদের মধ্যে যে কেউ হতে পারেন। এভাবেই দলের ভেতর গণতন্ত্রের চর্চা হয়।
পক্ষান্তরে, আমাদের দেশে দলনেতা নির্বাচন করা হয় ক্ষমতাসীনের পরিবারের সদস্যদের মধ্য হতে; যেমন. বাবার পর মা, মায়ের পর পুত্র-কন্যা, অতঃপর নাতি-নাতনি, এভাবে। অর্থাৎ, ব্লাডলাইনই মুখ্য। তারমানে, দলের ভেতরেই গণতন্ত্রের চর্চা হয়না। এ কারণে দলের সমর্থক বা কর্মীদের মাঝ থেকে নতুন নেতা পয়দা হবার সুযোগও রুদ্ধ হয়ে যায়।
পশু প্রজননের ক্ষেত্রে উন্নত ব্লাডলাইনের পশুদের মিলন ঘটিয়ে উন্নত জাতের পশু পয়দা বিজ্ঞানসম্মত। কিন্তু, মানুষের ক্ষেত্রে, বিশেষতঃ রাজনীতিবিদ পয়দার ক্ষেত্রে, তেমন কোন গবেষণা আছে বলে আমার জানা নেই। অথচ সে পন্থায়ই আজও বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলনেতা তৈরী হয়, যা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
যে দল নিজেদের মধ্যেই গণতন্ত্রের চর্চা করেনা তারা সারা দেশের জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দেবে কি করে? সে তো পিতাবিহীন সন্তান লাভের বাসনার মতো। এ অর্থে, বাংলাদেশের চলমান শাসন ব্যবস্থাকে গণতন্ত্র আখ্যা দেয়া যথাযথ মনে করি না। এটিকে বড়োজোর গণতন্ত্রের আদলে রাজতন্ত্র বলা চলে।
আমার চিন্তার সাথে আপনি দ্বিমত হলে তা কমেন্টে জানাতে পারেন।
- এম এল গনি - কলামনিস্ট
ফেইসবুক: https://www.facebook.com/moh.l.gani/
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৮:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



