somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিমিরে তানজিন ( গল্প ) - পর্ব ২

০৫ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রথম পর্ব এর পর ৷



এটাকে পিঁয়াজু কেন বলে ? এটাতে তো সব ডাল ৷
আচ্ছা মুনতাসীর,মানুষের নাম কেন দিতে হয়?নাম ছাড়া কি মানুষ নাই ?
তুই ছেলে আর আমি মেয়ে কেন ?
তোকে ঐ মেয়েটা একবার গালি দেয় আবার জানু ডাকে কেন ?
তোর আম্মু তোকে গাধা,গরু ডাকে কেন ?
তোর গায়ের রং কাল কেন ?
আমাকে তুই সুন্দরী ডাকিস কেন ?
মানুষ মরলে কবর দেয় কেন ?

এরকম হাজার হাজার প্রশ্ন করে মুনতাসীরের মাথা খারাপ করে রেখেছে তানজিন ৷ সেদিনের রাতের পর আজ প্রায় ১২ দিন হয়ে গেছে ৷ আজ ১৫তম তারাবীহ অর্ধেক পড়ে আবার ঘুরতে বেরিয়ে গেছে মুনতাসীর ৷
সেদিনের রাতের পর থেকে ১২ টি দিন ছিল অনেক রোমাঞ্চকর ৷ মুনতাসীর তার ভাবনার বাইরে অনেক কিছু দেখেছে ৷ অনেক কিছু শিখেছে ৷ অনেক কিছু জেনেছে ৷ মাত্র ঘুরা শেষ করে তানজিনদের বাসার সামনে এসে বসল ৷ তানজিন আগেই বারান্দায় ছিল ৷ মুনতাসীরকে দুর থেকে দেখেই বাসার পাশের ঐ ছোট্ট কয়েকটা সিড়ির উপর বসল ৷ সব এখন স্বাভাবিক ৷ ঐ রাতের অন্ধকার ঘুটঘুটে জায়গাটা আর নেই ৷ নেই তার কোন কিছুই যা সেদিনের রাতে ছিল ৷ আর এই নেই কে নেই করার মধ্যে দিয়ে তানজিন আর মুনতাসীর অনেক ভাল বন্ধু এখন ৷

এসেই তানজিন মুনতাসীরের চুল গুলো এলোমেলো করে দিল ৷ কিরে মুনতা কি খবর তোর ?
মুনতাসীর মনে মনে খুশি হলেও মুখে বিরক্ত প্রকাশ করে বলে " ধুর ভাই তোকে বলেছি না চুল ধরবি না " ?
তানজিন ও মন খারাপ করার অভিনয় করে ৷
তখন মুনতাসীর নানান অঙ্গভঙ্গি করে তার মন ভাল করতে চেষ্টা করে ৷
কৌতুক বলে ৷ অনেক পরিচিত একটা কৌতুক যেটা শুনে তানজিন প্রতিবারই হাসে ৷ না সেই কৃত্রিম হাসিটা না যেটা ১২ দিন আগে ছিল ৷
মুনতাসীর বলে ৷
তানজিন অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে থাকে ৷
জানস একদিন স্বাধিন ওদের বাসার দরজা নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল ৷ এমন সময় তাকে দেখে প্রশ্ন করলাম দরজা নিয়ে কই যাচ্ছে ? ও বলল দরজার চাবি হারাই গেছে তাই তালা ভাঙ্গতে যাচ্ছে ৷ আমি বললাম চাবি হারাইছে তো চাবি খোঁজ ৷ তালা কেন ভাঙ্গবি ? ও বলল তালা ভাঙ্গি বাসায় যাবে ৷ আমি বললাম দরজা যে নিয়ে আসলি বাসায় তো চোর ঢুকে যাবে ৷ ও বলল দরজাতো আমার কাছে চোর কেমনে ঢুকবে ?

বরাবরের মত তানজিন শুনে মুনতাসীরের পিঠে জোরে জোরে থাপ্পড় মারতে থাকে ৷ বেচারা পিঠটা ধরে কোন মতে সহ্য করে ৷ ও বলে "ঐ বারবার একি কৌতুক বলিস কিন্তু নাম কেন চেঞ্জ করিস "? মুনতাসীর বলে তুই যেন একটু কম থাপ্পড় দেস পিঠে তাই ৷ মেয়েটা পিঠে থাপ্পড় দেওয়ার সাথে নাম পরিবর্তনের সম্পর্ক খুঁজে পাই না ৷

আবার আম্মু ফোন দিচ্ছে ৷ রিসিভ করে বরাবরের মত কিছু বকা ৷ এরপর আবারো বাসায় আসতেছি বলে রেখেদিল মুনতাসীর ৷ তানজিন কে বিদায় বলে চলে যাচ্ছে মুনতাসীর ৷ জানে কয়েকদিন পর সারাজীবনের জন্য বিদায় বলতে হবে ৷ যেটা তানজিনও জানেনা ৷



বাসায় এসে ল্যাপটপটা নিয়ে বসে আবারো মুনতাসীর ৷ খুঁজতে থাকে আসলেই কি এই সমস্যার কোন সমাধান আছে নাকি ? আম্মু খাওয়ার জন্য ডাকছে দেখে চিন্তার মাঝে বিরতি পড়ল ৷ খেয়ে এসে আবারো চিন্তাই মুনতাসীর ৷ এবার একটু ফেইচবুকে যাওয়া যাক ৷ না এখানে তানজিন নেই ৷ ফোনেও তানজিন নেই ৷ সে শুধু ঐ অন্ধকার থেকে আলো হওয়া এলাকার বাসিন্দা ৷ না ভার্চুয়াল না বাস্তবিক ৷ নিউজফিডে ঘুরতে ঘুরতে একটা পোষ্টে চোখ আটকে যায় ৷ স্কেপ বাংলাদেশের একটা ইভেন্টের পোষ্ট ৷ পোষ্টের একটা লাইন " আপনার ঈদের শপিং এর টাকা থেকে অল্প টাকা পথ শিশুদের জন্য দিয়ে তাদেরও ঈদের আনন্দ লাভের সুযোগ দিন " ৷ কেন যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল মুনতাসীর নিউরন জুড়ে ৷ কোলে থাকা ল্যাপটপ কাঁপছে ৷ পেয়ে গেছি ৷ সমাধান পেয়ে গেছি ৷ তানজিন থাকবে ৷ আমার বন্ধুহয়ে থাকবে আরো অনেকদিন থাকবে ৷ ফেসবুক থেকে বের হয়ে সাথে সাথে নকশা ডকুমেন্টটা অন করল ৷ হ্যাঁ এইতো ৷ সম্ভবতো ৷ মুনতাসীর খুশিতে লাফিয়ে ওঠে ৷ জোরে জোরে ইয়েস ইয়েস বলতে থাকে ৷ উপর থাকে আম্মু আর আপুর গলায় বিরক্ত ভরা মুনতাসীর নামটা শুনা যাচ্ছে ৷ কিন্তু এবার তাতেও খুশি সে ৷ না তানজিন তুই থাকবি ৷ আমার সাথে থাকবি ৷ শুধু আঁধারের আলো হয়ে না ৷ আমার ফেইচবুক ফ্রেন্ডলিষ্টে ৷ আমার পাশে ৷ যখন আমরা চা খাব মামার দোকানে কখনো ৷ তুই থাকবি ৷ তোকে থাকতেই হবে ৷ জানে মুনতাসীর আজ ঘুম হবে না ৷ আরে তানজিনের দীর্ঘ ঘুমের প্রস্তুতিটা যে নষ্ট করতে হবে ৷ ঘুমাব কেন ?

( চলবে )
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:৪৭
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×