somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামহোয়ার ইন ব্লগ - (৫৯)

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


: যদি বলি তোমরা সবাই মিলে আমার শৈশবটাকে ফিরিয়ে দাও। আমি আবার ভালবাসায় বড় হতে চাই। পারবে দিতে ?
নেমী বিযন্ন চোখে শুভর দিকে তাকিয়ে রইল। নির্বাক দৃস্টির দৃস্টিহীনতার কথা ওকে জানিয়ে দিল ওর অপারগতা, ওর কস্টের গভীরতা। ও জানে কত দু:খে শুভ ওকে এ কথা বলেছে , কি অপরিসীম শুন্যতায় ওর মাকে ও খুন করতে চায়।
- নেমী তোমাকে বলেছি কাল আমার জন্মদিন , এও আমি তোমাদের কাছে চাইব না। অতীতকে আর ঘাটাতে চাই না বরং তোমারা একটা কাজ কর। আমি নতুন করে জীবন শুরু করতে চাই। তুমি এবং খালা দুজনেই কাল সন্ধ্যার আগে বাসা থেকে চলে যেও , মাকে নিয়ে অন্য কোথায়ও তোমরা রাত কাটাও। আগামীকাল রাতেই তো আমার জন্ম , পরশু ভোর থেকেই আমার নতুন জীবন শুরু , শৈশব তাই নয় কি। শিশুরা যেমন লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমায় , আমিও ঘুমাব। মা তার সন্তানকে যেভাবে আদর করে ঘুম ভাঙায় - এই খোকা ওঠ , সুর্য্যি উঠে গেছে - ডাকতে ডাকতে আসে। আমার মা আমাকে তেমনি ঘুম ভাঙাবে। আমি মায়ের সেই শৈশবের ভালবাসা বকুনি খেতে চাই। হাঁ খুব ভোরে তোমারা আসবে কিন্ত সুর্য্যি উঠার আগে। মা থাকবে সবার আগে তারপরে খালা এবং সবশেযে তুমি একসাথে। শুভ হাসতে হাসতে বলল -
বল রাজী কিনা ?
নেমী নিমিযেই বলে ফেলল -
রাজী ।
- সত্যি তো
- সত্যি, সত্যি, সত্যি
আজ রাত সত্যি সত্যি নেমীর হোল। ওর চাওয়া পাওয়ার সবটুকুই নিল ও শুভর কাছ থেকে।

ভোর হতেই নেমী - শুভর মার সাথে ফোনে কথা বলল ও পরিকল্পনার কথা জানাল। শুভও প্রচন্ড খুশি। শেয পর্যন্ত তাহলে ও মায়ের আদর পেল। বাবার জন্য দু:খ করল- বাবা তুমি আজ থাকলে কি মজা হোত। ভাবল সকালেই মার গলা জড়িয়ে ধরে বলবে- মা তুমি কেন আরো আগে এলে না। একটু লজ্জাও করল ছেলে বেলার মত হবে তো। নেমী মাকে টেলিফোনে বলল- নির্দিস্ট জায়গায় আসতে। ও এবং খালা সন্ধার আগেই বাসা থেকে বেরিয়ে গেল।

সন্ধার পরে শুভ গাড়ী নিয়ে বেরুল। শহরের পথে পথে ফুলের দোকানের যতগুলো গোলাপ পেল কিনে নিয়ে এল। সবাইকে উপহার দিবে বলে জন্মদিনের কার্ড কিনল। ঘরে এসে নিজ হাতেই গোলাপের পাপড়িগুলো দরজা থেকে শুরু করে ড্রইং রুম দিয়ে ওর ঘরের সব জায়গায় ছড়িয়ে দিল। শুভর আজ আনন্দ ধরছে না , সবাইকে ও নতুনভাবে পবিত্রকরে গ্রহন করতে চায়। ঘরের একটা দরজা ও দিল না। চিন্তা করল ও জন্ম সময়ের আগ পর্যন্ত ও ঘুমাবে না। খুব ভোরে ঘুমাবে। মায়ের ডাকেই ওর ঘুম ভাঙবে।

খুব ভোরেই নেমী সহ ওরা চলে এল। উত্তেজনায় কারোই রাতে ঘুন হয়নি। দরজায় ঢুকেই সবাই তম্নয় হয়ে গেল। পাগলটা করেছে কি। ওরা কি এতই যোগ্য যে পুস্পদিয়ে ওদের বরন করে নিচ্ছে। উত্তেজনায় শিহরনে তিন জনই আনন্দিত। শুভর ঘরে ঢুকে লক্ষ্য করল সত্যিই শুভ বাচ্চা ছেলেদের মত লেপ মুড়িদিয়ে ঘুমুচ্ছে। সবাই মুখ টিপে হাসল, ওর পাগলামী আর গেল না। মার ইচ্ছে করছে দৌড়ে গিয়ে তার খোকাকে জড়িয়ে ধরে , কাদবে ইচ্ছে মত তার খোকাকে ধরে। খোকা আমি তোকে আর ফেলে যাব না। মানিক আমার বুকে আয় আমার বুকটা ২২ বছর ফাকা হয়ে আছে। তবুও খোকার কথার অবাধ্যতা করল না।
মাথার কাছে এসে ডাকল - খোকা।
এক ডাকে ও ঘুম ভাঙলো না। মার আর সহ্য সইছে না। দ্বিতীয় ডাক দিয়ে মা খোকার মাথার থেকে লেপ সরাতেই - খোকা বলে চিৎকার দিয়ে পড়ে গেল। নেমীও চিৎকার করে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেল।
খালা দেখলেন - খোকা আর নেই। ডান হাতটা দিয়ে মাথার ডান পাশে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেছে ও। পিস্তলটা হাতের মধ্যেই ধরা আছে , রক্তে ভেসে গেছে সারা বিছানা। বা হাতে একটা সুন্দর প্যাকেটে ধরা কিছু গোলাপের পাপড়ি। হাতটা বুকের উপরে রাখা। খালা প্যাকেট টা খুলে দেখল মাঝে মাঝে পাপড়িগুলোতে কি যেন লেখা। খালা তার কম্পমান হাতেই নম্বর মিলিয়ে পাপড়িগুলো সাজাল। শুভ সুন্দর করে লিখেছে-

মা তোমার খোকাকে এত সকালে ডেক না। ওনেকদিন ও ঘুমায়নি । ওকে ঘুমাতে দাও।

নেমী সোনা যদি তোমার সন্তান হয় ওকে তুমি তোমার পরিচয়ে বড়ো কর। তাকে তোমরা আদর ভালবাসা দিয়ে শৈশব কৈশর ভরিয়ে দিও। আমি ওর মধ্যেই বেচেঁ থাকবো

খালা - তোমার শুভ তোমাকে আর কস্ট দেবে না। ইতি -
মায়ের খোকা । খালার শুভ । নেমী তোমার হ্যাদারাম ..।


সমাপ্ত

১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×