somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হচ্ছে অল্প বয়সের পোলাপানের মাথা নষ্ট করার যন্ত্র!

২৭ শে জুন, ২০২২ রাত ৮:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



হাইস্কুলে পড়ার সময় হুমায়ূন আহমেদের বই গোগ্রাসে গিলেছি। হিমু থেকে শুরু করে শুভ্র, মিসির আলী, প্রেমের উপন্যাস সবকিছু আমি পাগলের মতো পড়তাম। হার্ডকপি ছাড়াও সফট কপি পড়েছি প্রচুর। মিসির আলী সিরিজের বেশিরভাগ বই-ই আমার সফট কপিতে পড়া। এসএসসি পরীক্ষার পরে ঝুম বৃষ্টির মধ্যে পড়েছিলাম "বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল"। জুন মাস এলেই এখনো সেই চার বছর আগের সেইসব দিন অনুভব করি। বৃষ্টির মধ্যে পড়া সেই নবনী, তিথির নীল তোয়ালে, তোমাকে, আয়নাঘর, পাখি আমার একলা পাখি-র সব চরিত্ররা যেন এখনো আমার কাছে জীবন্ত হয়ে ধরা দেয়।

তখন থেকেই হুমায়ূন আহমেদের অন্যান্য পাঠকদের মতো আমিও একটি কথা শুনে অভ্যস্ত। তা হচ্ছে- হুমায়ূন আহমেদের লেখা হচ্ছে অল্প বয়সের পোলাপানের মাথা নষ্ট করার যন্ত্র। অনেক ভেবেও তখন এই কথা বলার পেছনের যুক্তি খুঁজে পাইনি। তবে এরপরে বাংলা ও বিশ্ব সাহিত্যের অন্যান্য লেখা পড়তে গিয়ে হুমায়ূন সাহিত্যের সীমাবদ্ধতা কিছুটা ধরতে পেরেছি বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু পোলাপানের মাথা নষ্ট করার মতো কী করলো এটা বুঝতে পারিনি। এতোদিন ভেবেছি, লেখায় চটুল ভাষার যে ব্যবহার তা-ই কি এই মন্তব্যের কারণ? কী জানি কেন অন্যরা এ কথা বলেন!



তবে সম্প্রতি বহুদিন পরে হুমায়ূন আহমেদের লেখা চারটে উপন্যাস টানা পড়ার পরে আমি সম্মত হতে বাধ্য হলাম যে, তার লেখা আসলেও অল্প বয়স্কদের বিগড়ে (!) দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

বিসাকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে দুটি বই 'এই বসন্তে' আর 'অন্যদিন' এনেছিলাম। আর পয়সা দিয়ে কিনেছিলাম 'সমুদ্র বিলাস' আর 'গৌরীপুর জংশন'। এই চারটি বই পড়তে পড়তে লক্ষ্য করলাম, হুমায়ূন আহমেদের লেখায় একটি বৈশিষ্ট্য আছে- যা আমি আগে কখনো লক্ষ্য করিনি। তাঁর লেখা এতোটাই সরলতা মাখা যে পড়লে মনে হয় জীবনটা বুঝি এমনই সহজ-সুন্দর। কত কঠিন কঠিন পরিস্থিতিকেও তিনি এমনভাবে দেখিয়েছেন যেন এই কঠিনতাই জীবনের সৌন্দর্য। এই কঠিন পরিস্থিতি না থাকলে জীবনটা আসলে জীবনই হতো না! হতো বুঝি মড়ার মতো পড়ে থাকা এক টুকরো শব্দ কেবল।

'অন্যদিন' উপন্যাস একটি মেস বাড়িকে কেন্দ্র করে লেখা। সেখানে চরিত্রগুলোর জীবনে কত দুঃখ, কতই না কঠিন শেষাংশ। অথচ কি সুন্দর মায়াময় ছন্দে লেখা। 'সমুদ্র বিলাস' পড়লে মনে হয় তৌহিদের মতো একজন মানুষ পেলে জীবনটা বেশ রোমাঞ্চকর হতো! কিন্তু আসলেই কি তৌহিদেরা সত্যিকারের জীবনে গ্রহণযোগ্য? রিমির সিদ্ধান্তই কি রূঢ় বাস্তবতা না, যে বাস্তবতাকেও উপন্যাসে তুলে আনা হয়েছে একটি শান্ত, সুন্দর 'সেটিং' এর মধ্য দিয়ে?



তো একটা সময় হয়তো বুঝতে পারা যায় যে, জীবনটা হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাসের মতো না। এখানে মায়ার চেয়ে যন্ত্রণার বাস্তবতা ঢের বেশি। কিন্তু কৈশোরের অনভিজ্ঞ সময়ে এটা বোঝার কোনো উপায় থাকে না। তখন জীবনকে হুমায়ূন-উপন্যাস ভেবে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে বাকি জীবন তার প্রায়শ্চিত্য করতে হয়। উপন্যাস তো যেকোনো ঘটনা দিয়েই শেষ হতে পারে! কিন্তু বাস্তবের জীবনগুলোর অবসানের জন্য তো অনিয়ন্ত্রিত মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তাই এসব বই রূঢ় বাস্তবতাকে দেখার আগে না পড়াই ভালো।

চারটে বইয়ের মধ্যে আমার 'সমুদ্র বিলাস' আর 'অন্যদিন' বেশ ভালো লেগেছে। 'এই বসন্তে' উপন্যাসকে অসম্পূর্ণ মনে হয়েছে; পড়ে তৃপ্তি পাইনি। প্লটকে বাইরে রেখে বিবেচনা করলে 'গৌরীপুর জংশন'ও মোটামুটি ভালো।



হুমায়ূন আহমেদের গানগুলোও আমার খুব পছন্দের। সেগুলোর মধ্যে এই গানটা শুনুন। এই গানের বিশেষ চারটি লাইন, আমার অনেক প্রিয়। বলতে পারেন কোন চারটি লাইন?
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০২৪ ভোর ৪:২৫
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হ, আপনি জিতছেন, আপনারাই জিতছেন। :#(

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ বিকাল ৫:৩৯



হ, আপনি জিতছেন, আপনারাই জিতছেন। সারাবিশ্ব থেকে ০৬ দিন সংযোগ বিচ্ছিন রেখে আপনারাই জিতছেন। অপরদিকে আলুপোড়া খেতে আসা বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি (নাকি অপশক্তি) আপনারাও জিতছেন। দেশের কোটি কোটি টাকার সম্পদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেমন ছিলাম আমরা?

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৫৫


কি দুঃসহ কয়েকটা দিন কাটালাম আমরা- কয়দিন কাটালাম মাঝেমধ্যে তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে! অনলাইন দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেন আশির দশকে ফিরে গিয়েছিলাম আমরা। পার্থক্য; বিটিভির পরিবর্তে অনেকগুলো নতুন রঙ্গিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আন্দোলনের মুখে এই সরকারের পতন না হোক।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:২৯


গত ১৫ বছর এই সরকার যেভাবে দেশ চালিয়েছে, বিরোধীদেরকে যেভাবে কন্ট্রোলে রেখেছে এবার সেভাবে পারেনি। শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্যে দেখা গিয়েছে উনি খুবই চিন্তিত ছিল এই আন্দোলন নিয়ে। একটি সাদামাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশের এত বড় বড় দায়িত্ব নিয়ে ছেলেখেলা আর কতদিন?

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ১০:৫১

আচ্ছা, ডাটা সেন্টারে আগুন লাগলে সমস্ত দেশের ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়? কোন মদনা এই কথা বিশ্বাস করতে বলে? পলক ভাইজান? তা ভাইজানের শিক্ষাগত যোগ্যতা কি? পলিটিক্যাল সায়েন্স। আর? এলএলবি। উনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর ক'টা দিন সবুর কর রসুন বুনেছি: বাংলাদেশ কখনও এই নির্মমতা ভুলে যাবে না!

লিখেছেন মিথমেকার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৪ দুপুর ১:৪৮


ইতিহাসে "৭১" এর পর এত স্বল্প সময়ে এত প্রাণহানি হয়নি। সম্ভবত আধুনিক বিশ্ব এত প্রাণহানি, এত বর্বরতা, স্বজাতির মধ্যে এর আগে দেখেনি। সমগ্র বিশ্বে বর্বরতার দৃষ্টান্ত হলো বাংলাদেশ!
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×