'চকোলেট ডে' অবশ্য এখন চকোলেট ইভিনিং হয়ে যাচ্ছে।মনে পড়লো শৈশবের 'লজেন্স',(আহরে-২৫ পয়সা) এই পয়সার নামেই,লজেন্স প্রিয় বালক হিসেবে (কি লজেন্স মনে নেই) আমারও একটা নাম হয়ে গেছিলো সে সময়ে।দাতগুলোর খুব যত্ন নিতে হতো,গরম পানির সাথে লবন দিয়ে রোজ কুলি করতে হতো আর কালো নিমের মাজনতো ছিলোই। তবুও ফোকলা দাতে চকোলেট খাওয়া বন্ধ করতাম না।
আমাদের 'ফরিদ' (বাল্য বন্ধু-তোমরা চিনবে না),ওর সব গ্রীষ্ম কালে মাথা ন্যাড়া থাকতো ,খোসড়া-পাসড়া আর উকুনের অত্যাচারের কারনে। ওকে আমি 'বেল-মাথা' বলতাম আর আমাকে ও বলতো 'চার-আনা'(মানে ২৫ পয়সা,সহজ ভাষায় চকোলেটের দাম)।
সঙ্গী-সারথী বাঁকি যারা ছিলো সব বন্ধুরা আমাদের দু'জনকে এক সঙ্গে 'বেল-মাথা,চার-আনা,চাবি দিলে ঘুরে না' বলে ডাকতো।ঐ সময়টাতে খুব খ্যাপে যেতাম এমন সব সম্বোধন শুনলে।আর এখন এতো অত্যাচার কিংবা আদরের সাথে,আমার ভালো কিংবা বিকৃত কোন নাম ধরেই ডাকার মতো কেহ নেই।এখনকার সময়ে আমাদের মতো 'নিম্ন-মধ্যবিত্ত' মানুষের চলতে-ফিরতে কোন নাম লাগে না। অথচ লজেন্সের আগে একতাই নাম ছিলো,আজ কতো নাম! আমি জানিও না সবগুলো।মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ভদ্র পল্লী'র ভাই-বোনদের জন্য যাহা 'চকোলেট ডে' ক্ষুধা-তৃষ্ণা আর অভাব-অনটনের আনাড়ী পল্লী'র আমাদের জন্য তাহাই 'লজেন্স ডে'।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





