
এবার আমি চন্দ্রচূড়ার গন্ধ হব
হঠাৎ ঝরা ঝমঝম বারির ছন্দ হব
নদীর পাড়ে শিয়াল মামার দল।
ওরে!
মে'গনি ফল যেমন করে
ডিঙ্গি মেরে ঘুরে ঘুরে
চুমে ভূমি তল।
স্বপ্নচারী সেরাফ আমি
তুই আর আমায় খুঁজবিনে মা, বল!
ঝিঁঝিঁ ডানায় আনায় আনায়
থুরথুরে সুখ কানায় কানায়
বাঁকে বাঁকে গাঙ শালিকের পাল।
আরে!
গাছের বরই টুপ টুপাটুপ
ঢিলের দোলে ঢুপ ঢুপাঢুপ
কুড়িয়ে ভাগার দল।
সাতটা গাঁয়ের রাজা আমি
কোন সাহসে বকিস মা তুই? বল।
তালগাছের ওই শেষ ব্যাগুতে
বাবুই পাখির ঝুল বাসাতে
ছোট্ট ক'টি ছানা।
দূর!
গুলতি নিয়ে কোবাত খুড়ো
করবে পাখি উড়ো উড়ো
ফন্দি সবি জানা।
এই ফাঁকেতে দল সমেতে আজকে হবে হানা
এমনি সবার দুপুরবেলার ঘুম হতো তাই মানা।
গাঙের কূলে ভাঁটির জলে
পাশ্যি পোনা খলবল করে
চক-স্লেটের কাল।
আরে!
পণে পোনা পাঁচ টাকাতে
গণ্ডা পণে নাটাই নিতে
কী আর লাগে বল!
ঠিকই তো তোর নামতা পারি
তাও কেন ফাও বকিস মা তুই বল?
রোদ মাড়ানো আবছায়া হুঁ
সব ভুত কা ম্যাঁয় রাজা হুঁ
কিউ ভাগে গা রে?
আরে!
কেওড়া-উড়ার হাতছানিতে
মড়্ গাঙী ঢেউ পাঁড়ি দিতে
কোহি ডরে গা রে?
মা গোসলে বাপ ঘুমুলে
আমরা তো তাই ঠিক পালাবো রে!
সন্ধ্যে বেলায় পড়ার খেলায়
পাতায় পাতায় ছবি গোণায়
কত্তো হতো মজা!
হুঁহ্!
শ্যোনবার বা বুধের হাটে
বাপের হাতে চাচার গাটে
বুট্ বাদাম বা গজা।
নিজের ভাগে গপাগপে
বুবুর ভাগে ভাগ বসানো খুব হতোনা সোজা।
সকাল সকাল গরু নিয়ে
পোটলা ভরা গুড়ে-চিড়ে
চষা সারা মাঠ।
বা'রে!
আবু চাচা সামলাতো সব
আমরা খালে ঝাঁপ ঝপাঝপ
ডিগ সোজা বা কাৎ।
সন্ধ্যে ছােঁয়া দাদির দোয়ায়
পাতাল পুরীর কোটাল কুমার সাঁঝ গড়ায়ে রাত।
একটু আধটু বৃষ্টি হলে
ধরতে টেংরা কৈ শিং শোলে
ডালা হাতে ছুট।
নারে!
লুঙ্গিতে এক গিট্টু নিয়ে
ডিমভরা কৈ টেংরা দিয়ে
ভরতো মুটে মুট।
জিন্দেগী তো বাচপানই থা
সাচ কাহু অর ঝুট্।
কোথায় সেদিন? পাগলা হাওয়ায়
ঘুড়ির পিছে তাড়িয়ে যাওয়ায়
সব ক'টা গাছ চেনা।
ওরে!
বুনো মোগর যেমন করে
এ-ডাল মাড়ে ও-ডাল ঘুরে
ক্ষেত-ফসলে হানা।
ঘুরে ঘুরে শ্রান্ত আজি ভাবনা ভাঙা ডানা
অনেকদিন ঘুম আসে না, ঘুম ফিরিয়ে দে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০১৯ রাত ২:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



