somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প : মাহমুদুল্লাহর 'বোধোদয়'

২৮ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওপ্রান্তে মুশফিক পরপর দুই বলে দুটি চার মেরে দিল । আর মাত্র দুটি রান চাই । দৌড়ের জন্য প্রস্তুত হয়েই আছি আমি । নেহরা কি যেন বোঝাল পান্ডিয়াকে । ধোনীকেও দেখলাম অনেকক্ষণ ধরে কিসব বুঝিয়েই যাচ্ছে । ছোটখাট একটা গোল মিটিং-ই হয়ে গেল, চিন্নাস্বামীর সবুজ মাঠে । মুশফিকের কেমন লাগছে জানি না, আমি বড্ড অস্থির হয়ে পড়ছি । ওফ, এত্ত দেরী করছে কেন বল করতে ? এত কথা কিসের ? মাত্র-ই তো দুটি রান চাই, বল তো আছে আরো তিনটি । এত কথা বলে কি করবে, বুঝতে পারছি না ।
পুরো মাঠটাকে কেমন যেন মৃত্যুপুরী লাগছে । এই একটু আগেও হৈ হৈ রৈ রৈ ব্যাপার চলছিল । মুশফিক দুই বলে আট রান নিয়ে ফেলতেই যেন মনে হচ্ছে মহা শোকের কোন এক শব আনুষ্ঠান চলছে এখানে ! শুধু এক কোনায় অনবরত লাফিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অদম্য কিছু সমর্থকেরা ! ছেলেটির নাম কি যেন... ও হ্যাঁ মনে পড়েছে শোয়েব, সেও নিশ্চয় এখন বড্ড লাফালাফি করছে । আরেকটু অপেক্ষা করো, ইনশাআল্লাহ সারা রাত আনন্দের আবহ-ই সৃষ্টি করে দিতে পারব তোমাদের জন্য ।
একটু আগের উচ্ছাস ভাবটা চলে গিয়ে এরকম নিস্তব্ধ পরিবেশটাকে কেমন ভূতুরে লাগছে । আমি জানি, এই সময় সমর্থকদের উপর কি চলছে ! কদিন আগেই মিরপুরের ভরা গ্যালারীতেই তো আমরা এই ভারতের সাথেই হারলাম । আহা, সে কী কষ্ট ! সহ্য করা যায় না । বুঝতে পারছি ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের অবস্থা, কিন্তু আমার তো আমার দেশের সমর্থকদের উচ্ছাসের উপলক্ষ এনে দিতে হবে । এখন ওদের সমব্যথী হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই ।
অবশেষে পান্ডিয়া বোলিংয়ের জন্য প্রস্তুত হয়েছে । হ্যাঁ, দৌড় শুরু করেছে । আমিও দৌড়ের জন্য পুরোপুরি তৈরী । ফুলটস একটা বল, মুশফিকও তাঁর সেই ফেভারিট শট খেলতে গেল । তাঁর সেই ‘ডিপ মিড উইকেট স্পেশাল’ । আহা, কি হয়ে গেল এটা ! ঠিকমতো টাইমিং কি হলো না তবে ? বল সরাসরি গিয়ে পড়ল লেগ বাউন্ডারীতে দাঁড়ানো ফিল্ডার ধাওয়ানের হাতে । ফিরে এসেছে আবার সেই উচ্ছাস, কান ফাটানো গর্জন । সমর্থকরা যেন নব উদ্যামে চেঁচিয়ে যাচ্ছে, পুরো কানটা খেয়েই ফেলবে বুঝি !
দুই বলে দুই রান চাই । মুশফিক আউট হলেও আমি এ প্রান্তে চলে আসতে পেরেছি । এখন যে কোনভাবেই হোক দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়তে হবে । পুরো দেশ আমার দিকে চেয়ে আছে । শত বঞ্চণা-প্রবঞ্চণা, অনাচার... কত কিছু ঘটেছে আমাদের সাথে । গত বছরের ১৯শে মার্চের পর এই বিশ্বকাপে হঠাৎ তাসকিনের সাথে কি অন্যায় ঘটে গেল ! সবাই জানে, কে করেছে, কেন করেছে, কিভাবে করেছে । আমরা শুধু একটা মঞ্চ খুঁজছিলাম, যেখানে দাঁড়িয়ে সব কিছুর জবাব দিতে পারব ।
তাসকিন কে দেখেছি, বাচ্চা একটা ছেলে । কি ভীষণ কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল সেদিন ! ছেলেটার কান্না যেন এখনো চোখে ভাসে ! ছেলেটার জন্য হলেও কিছু একটা করতে হবে । বড্ড অস্থির লাগছে ভেতরটা । এমন লাগছে কেন ! আমাকে না সবাই ‘কূল’ বলে ! না শান্ত থাকতে হবে, যে করেই হোক । ধোনী আবারও মিটিং বসিয়েছে । নেহরা খুব ছুটছে । পান্ডিয়াকে কি যেন মন্ত্রপড়া দিচ্ছে । এতক্ষণ সময় নিচ্ছে কেন ওরা ? একটা বল করতে এত সময় লাগে ?
ওপ্রান্তে শুভাগত এসেছে । ওর সাথে কি একটু কথা বলব ? না থাক, ছোট ছেলে । কথা বলে ওর প্রেশার বাড়িয়ে দেয়ার দরকার নেই । একটা শটেরই তো ব্যাপার । হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ ।
হ্যাঁ, প্লেয়াররা যার যার জায়গায় ফিরে গেছে । পান্ডিয়াকে বেশ নার্ভাস লাগছে । লাগারই কথা । ও বোলিং এন্ড থেকে দৌড় শুরু করে দিয়েছে । আসছে আমার দিকে, সাদা বলের গোলকটা । এসেই গেল, লো ফুলটস ডেলিভারী । এই বলে বাউন্ডারী পার না-করার মতো বোকা আমি নই । উড়িয়ে মেরেছি... আহ কি করলাম আমি ! টাইমিং তো ঠিকমতো হলো না । হায় কপাল ! জাদেজা আছে ওদিকে, দৌড়ে আসছে । আল্লাহ বাঁচাও । না কয়েক গড়ান দিয়ে লুফেই নিলো বলটা ।
এ কী করলাম আমি ! দেশবাসী কে কি জবাব দেব আমি ! কোন দরকার ছিল না তো ! আলতো ফ্লিকেই তো দুটো রান বেরিয়ে আসতো । ইয়া আল্লাহ, এত্ত বড় জঘন্য ভূল ! কোন ক্ষমা নেই, এই ভূলের । না, কোন ক্ষমা নেই । আমার পা দুটো এত ভারী হয়ে গেল কেন ? আমি তো হাঁটতেই পারছি না । আমি কি মাঠটাই পেরোতে পারব না ? কি করলাম খোদা, এটা আমি কি করলাম !
১ বলে ২ । পারবে শুভাগত ? মনে হয় না । খেলাটা আমিই শেষ করে দিলাম । সব দোষ আমার । শুভাগত, ভাই আমার ! দুই না পারিস, এক হলেও নে ।
ইয়া খোদা ! কি হচ্ছে এটা । মুস্তা ! গেল । নিশ্চিত আউট । আমি-ই, শেষ করে দিলাম । আমি-ই । একটা ফ্লিকেই কাজ হয়ে যেতো । দরকার ছিল না উড়িয়ে মারার । কেন যে লো ফুলটস দেখে লোভ সামলাতে পারলাম না । এত বড় একটা সুযোগ... ইশ, হাতছাড়া হয়ে গেল !
আহা, এভাবে কেউ হারে ! ফ্লিকের কথাটা যদি আরেকটু আগে মাথায় আসত ! সিঙ্গেলস, ডাবলসের ব্যাপারটা যদি মনে পড়ত ! ইশ ! কি থেকে কি হয়ে গেল !

(পুনশ্চ : বুঝতেই পারছেন, পুরোটাই কাল্পনিক । শেষ তিনটা বলকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের জবানিতে গল্পের রুপ দেয়ার চেষ্টা মাত্র । )
_______
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:৩২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেসি’ নামক মুগ্ধতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪২


লিওনেল, রোজারিও থেকে ঢাকা । বার্লিন থেকে নিউইয়র্ক । ২০০৬ থেকে ২০২৬ । উড়ন্ত কৈশোর থেকে পড়ন্ত যৌবন । ফুটবল পায়ে তোমার প্রতিটা পদক্ষেপের সাথে আমরা ছিলাম । আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×