
লিওনেল, রোজারিও থেকে ঢাকা । বার্লিন থেকে নিউইয়র্ক । ২০০৬ থেকে ২০২৬ । উড়ন্ত কৈশোর থেকে পড়ন্ত যৌবন । ফুটবল পায়ে তোমার প্রতিটা পদক্ষেপের সাথে আমরা ছিলাম । আমরা ছিলাম তোমার ধূসর বিধস্ত সেই দিনগুলিতে দগ্ধ! আমরা ছিলাম তোমার জাদুকরী মুহূর্তগুলোয় অবিরাম করতালিতে মুগ্ধ!
লিওনেল, মারাকানায় ট্রপির পাশ দিয়ে তোমার মুখ নীচু করে নিঃশব্দ চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আমরাও ব্যথিত হয়েছিলাম । তোমার পরাজয় আমাদের দৃষ্টিকেও করেছিল অশ্রুমুখর! অতঃপর লুসাইলে তুমি বিশ্বজয় করে ট্রফি কোলে নিয়ে ঘুমাতে গেলে । আমরাও অসংখ্য প্রতীক্ষিত রজনীর ভার নামিয়ে উড়তে লাগলাম নিজস্ব আকাশে । হ্যাঁ লিওনেল, তোমার প্রতিটা পদক্ষেপে আমরাও ছিলাম । কী এক মহাজাগতিক মুগ্ধতায় আমরা পরস্পরের সাথে জড়িয়ে গেলাম!
তোমাকে ‘বামন’ বলায় তর্করত চায়ের টেবিলে আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম । তোমার সমকক্ষে যখন ওরা আর কাউকে দাঁড় করাতো, আমরা বলেছিলাম, ‘ ফুটবল পায়ে মেসির সমকক্ষ কেউ না’ । তোমার পা তো শুধু ফুটবল নিয়ে দৌঁড়াতো না । সে পায়ের প্রতিটা পদক্ষেপে ছিল নব নব সৃষ্টির উন্মাদনা । যেন মাঠ নয়, আকাশজুড়ে বর্ণিল আলোর ছুটোছুটি ।
ভাবতেই বুক ভেঙে যায়, আকাশী-সাদা জার্সি শরীরে জড়িয়ে সবুজ ক্যানভাসে তোমার জাদুকরী পায়ের ঝলকানি— আর নাকি দেখা হবে না! তোমার ম্যাজিক দেখার জন্য আর হয়তো আমাদের রাত্রি জাগা হবে না । তোমার ট্র্যাজিক এই বিদায়ক্ষণে আমরা মাথা উঁচিয়ে বলতে চাই, ২০ বছর শুধু তুমি একা দৌঁড়াও নি । আমরাও সাথে ছিলাম ।
তুমি ‘বিদায়’ বললেও আমরা বলতে চাই— ফুটবল পায়ে তোমার যাত্রার কোনো সীমারেখা নেই । অগণিত হৃদয়ে ‘মেসি’ নামক অদ্ভুত মুগ্ধতার কোনো অন্ত নেই, মৃত্যু নেই !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

