
কোথায় ক্লায়েভ লয়েড আর কোথায় ড্যারেন স্যামি ! যোজন যোজনার তফাৎ দুজনার । খেলোয়াড়ি দিক থেকে তো বটেই, নেতৃত্বের দিক দিয়েও । তবু কিভাবে যেন ঠিকই ক্লায়েভ লয়েডের পাশের স্থানটি দখল করে নিয়েছেন 'দ্যা স্মাইল ম্যান' ড্যারেন স্যামি ।
স্যামি কে না-বলা যায় ব্যাটসম্যান না-বলা যায় বোলার । স্যামিদের কথা চিন্তা করেই হয়তো ক্রিকেটে 'মিনি অলরাউন্ডার' শব্দগুচ্ছ জায়গা করে নিয়েছে । সেই মিনি অলরাউন্ডারের কাজটাই বা কি ? পুরো টুর্নামেন্টে ১২টি বল আর সর্বসাকূল্য আটটি রান ?
ব্যাটিং-বোলিং বাদ দিয়ে কি তিনি টস প্র্যাকটিস করেন ? নাহলে ছয় ম্যাচে ছয় বারই টস জিতেন কিভাবে ?
সে যা-ই হোক, দু'বার বিশ্বকাপ জয়ী লয়েডের পাশে এখন জ্বলজ্বল করেছে যে নাম সেটি কিন্তু এই ড্যারেন স্যামি-ই । প্রথমবারের মতো দু'বার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী ড্যারেন স্যামি যে এখন স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন প্রথমবারের একদিনের ক্রিকেটের দুই বিশ্বকাপ জয়ী দলপতি ক্লায়েভ লয়েডের পাশে !
ওয়েষ্ট ইন্ডিজ দলটাকে বলা হয়, অসাধারণ প্লেয়ারের সম্মিলনে সাধারণ মানের দল । এই স্যামিই হয়তো কোন একভাবে এই অসাধারণ প্লেয়ারদের কাছ থেকে অসাধারণত্বটাই বের করে এনেছেন । তাই সাধারণ ওয়েষ্ট ইন্ডিজ দলটা হয়ে উঠেছে 'অসাধারণ' । ব্রাভোর ভাষায় 'চাম্পিয়ন' ।
হয়তো এখানেই অধিনায়ক স্যামির স্বার্থকতা । এবং সেজন্যেই হয়তো লয়েডের মতো কিংবদন্তীর পাশে স্যামি কে দেখে খুব একটা নাক কুঁচকানোর সুযোগ নেই । তার সাথে যোগ করুন পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর বলা কথাগুলো । 'ড্যারেন স্যামি' নামের মানুষটাকে খুব একটা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগই থাকবে না আর ।

বছরের মাত্র তিনটি মাস অতিবাহিত হয়েছে । এরই মধ্যে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ জিতে নিয়েছে এ বছরের তিনটি বিশ্বকাপ ।
হেটমাইয়ের, টেলর, স্যামি ।
এ বছরের তিন বিশ্বকাপ জয়ী ক্যারীবিয়ান দলনায়ক ।
কে জানে, এরপর ক্যারীবিয়ান ক্রিকেট-কর্তাদের টনক নড়ে কি না !
ক্রিকেটের স্বার্থেই খুব-ই প্রয়োজন, ওয়েষ্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের পুনর্জাগরণ । ২০১২ বিশ্বকাপ ট্রফি তাদের জাগাতে পারেনি । এই ২০১৬ তে তিন-তিনটি ট্রফি তাদের জাগাতে পারবে কি ?
সময়-ই হয়তো বলে দেবে ।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

