somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চার্জে ভরপুর পেস ব্যাটারী

২২ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাকিস্তানের আকিব জাভেদ কে চিনেন তো ? ক্যারীবীয়ানের বিশাল দৈত্যকায় ইয়ান বিশপ কে খেলার মাঠে মাইক্রোফোন হাতে প্রায় দেখেন নিশ্চয় । এই বিশপ আর আকিবের মধ্যে একটা দুঃখজনক মিল রয়েছে, জানেন তো ? এমনিতে দুজনার অনেক মিল । দুজনই দুরন্ত গতির ফাষ্ট বোলার । সৃষ্টিকর্তার প্রদত্ত প্রতিভায় ভরপুর ছিলেন দুজনই । নিজ নিজ দলের পেস-আক্রমণ কে শাণিত ও সমৃদ্ধ করেছিলেন, নিজেদের যোগ্যতাবলেই । কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো কি জানেন, দুজনের ক্যারিয়ারেই রয়েছে একরাশ হতাশা ও না-পাওয়ার গভীর হাহাকার !




এই হাহাকার-আক্ষেপের জন্য, নিজের হতভাগ্য কপাল ছাড়া আর কাউকেই দোষ দেয়ার সুযোগ নেই তাদের । কারণ, তাঁরা ভূল সময়ে ভূল দলে জন্ম নিয়েছিলেন । আকিব জন্মেছিলেন, ওয়াসিম-ওয়াকারদের আমলে । আর বিশপ জন্মেছিলেন ওয়ালশ-এমব্রোসদের আমলে । তাই ব্যাটসম্যান ভড়কে দেয়া গতি, চমৎকার লাইন-লেংথ আর ঈর্ষণীয় সুইং থাকার পরও তাদের ক্যারিয়ার ততটা সমৃদ্ধ হয়নি, যতটা হওয়ার কথা ছিল । অবশ্য ইঞ্জুরিও তাদের ক্যারিয়ার কে বাঁধাগ্রস্থ করতে একটা ভূমিকা রেখেছিল ।
সব মিলিয়ে আকিব-বিশপরা তাই ক্রিকেটেরই এক চিরন্তন আক্ষেপের গল্প হয়ে আছেন ।

বাংলাদেশে এই পর্যন্ত তেমন কোন আক্ষেপের গল্প জন্ম নিতে পারেনি । কারণ সেই ধরণের ফাষ্ট বোলারের জন্মই যে হয়নি বাংলাদেশে । এক মাশরাফি তে ভর করেই প্রায় দেড় দশক পাড়ি দিয়েছে এই দেশের ক্রিকেট । সেই মাশরাফিও ইনজুরিতে বিধ্বস্ত হয়ে ফাষ্ট বোলার থেকে হয়ে গেছেন মিডিয়াম পেসার !
মিডিয়াম পেসার অবশ্য বাংলাদেশে ছিল । তবে তাও যে ভুরি ভুরি ছিল ব্যাপারটা তা না । অনেক মিডিয়াম পেসার লেংথ আর সুইংয়ে আশার আলো দেখালেও, জাতীয় দলে থিতু হতে পারেননি । ভরসা দিতে পারেননি । রাসেল, নাজমুল, তারেক, তালহ, বৈশ্য... কত নাম ! কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন তাঁরা, বাংলাদেশ পেস এ্যাটাককে তেমনই দীন-হীন রেখে !
বাংলাদেশ তাই সবসময়ই ভুগেছে পেসার সংকটে । ভালমানের ফাষ্ট বোলারের জন্য হাহাকারটা বহুদিনের, এখানকার ক্রিকেট জনতার !
কিন্তু এখন বোধহয় সময় বদলাচ্ছে দ্রুতই । ‘বাঁহাতি স্পিনারের খনি’ নামে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশে উঠে আসছে একের পর এক দুর্দান্ত ফাষ্ট বোলার । মুস্তাফিজুর রহমান, আল আমিন হোসাইন, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন, আবু হায়দার রনি, মোহাম্মদ শহীদ । বলের উপর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণের সাথে, ন্যাচারাল সুইংয়ে যারা ব্যাটসম্যানদের বিপর্যস্ত করে তুলতে পারেন অনায়াসে ।




একা হাতে ম্যাচ জেতানোর মতো ফাষ্ট বোলার আমাদের ছিল না । একজন ওয়াসিম-ম্যাকগ্রা-ওয়ালশ না হোক, অন্তত জহির খানের মতো মাঝারি মানের বোলারের সার্ভিসও আমরা পাইনি অনেক ম্যাচে । এই পেসার সংকট কতটা যে আমাদের ভুগিয়েছে, তা বোঝাতে চোখ রাখতে পারেন গত দেড় দশকের পরিসংখ্যানে ।


সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে, মূহুর্তেই ম্যাচের রঙ বদলাতে সক্ষম তেমন পেসার মনে হয় আমরা পেয়ে গেছি । বাঁহাতি পেসের নানান বৈচিত্র নিয়ে একজন মুস্তাফিজ এখন আমাদের বোলিং এ্যাটাকে যুক্ত হয়েছেন । গতির সাথে দারুণ লাইন-লেংথ নিয়ে আছেন, তাসকিন । ডেথ-বোলিং বিশেষজ্ঞ আল আমিন দিচ্ছেন স্লগ ওভারের নির্ভরতা । পরিণত রুবেল দিচ্ছেন আরো শাণিত ও ক্ষুরধার বোলিংয়ের নিশ্চয়তা ।
কামরুল ও রনির মতো প্রতিশ্রুতিশীল তরুণেরা আগামী দিনে পেস-শূণ্যতা পূরণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ । আর এদের সাথে যোগ করুন ‘ক্যাপ্টেন কিং’ মাশরাফি কে । মাশরাফির সরাসরি তত্ত্বাবধানে বেড়ে উঠা এই তরুণেরা, বাংলাদেশ ক্রিকেটের আগামী দিনটাকে গতি-বাউন্স আর স্লোয়ার-সুইংয়ে ভরিয়ে দেবে না, তা কে বলতে পারে !



হ্যাঁ, মুস্তাফিজ, তাসকিন, রনিদের মতো সদ্য কৈশোর পেরোনো তরুণগুলো স্বপ্ন দেখাচ্ছে দারুণ একটা পেস ইউনিটের । ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’ কিংবা ‘ত্রাসের ত্রয়ী’ হয়ে ব্যাটসম্যান নাচানোর মতো পেসার যেন মজুদ এখানে । এই তরুণ তুর্কীদের সাথে রুবেল-আল আমিনদের যোগ করুন । চমৎকার একটা বোলিং ইউনিট দাঁড়িয়ে যাচ্ছে না ?
এদের ব্যাক আপ হিসেবে কামরুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, রবিউল হোসাইন, মোহাম্মদ শহীদ, আবুল হাসানদের মতো বোলাররা আছেন, এদের নির্ভার রাখতে । এঁরা নিজেরাও নিজেদের পরীশীলিত করছেন, নিজেদের আরো শাণিত করছেন । এবার বলুন তো, বাংলাদেশের পেস-আক্রমণের সাইড বেঞ্চটাও কেমন দুর্দান্ত হয়ে উঠছে না !
এদের সাথে সুখে-দুখে, সুসময়-দুঃসময়ে মাথার উপর ছাতা হয়ে আছেন ‘ক্যাপ্টেন কিং’ মাশরাফি । যিনি যে কোন পরিস্থিতিতে বড় ভাইয়ের মতো আগলে রাখতে সিদ্ধহস্ত । নির্দেশনা দিতে আছেন তাদের বোলিং গুরু, হিথ স্ট্রীক । কি সৌভাগ্য দেখুন ছোট ছোট ছেলেগুলোর !


বয়স ভিত্তিক দলগুলো থেকে উঠে আসছে আরো কত তরুণ তুর্কী । মুস্তাফিজ-রুবেলে উদ্বুদ্ধ হয়ে, ফাষ্ট বোলিংকেই লক্ষ্য ঠিক করছে কত কিশোর-প্রাণ ! ‘বাঁহাতি স্পিনারের খনি’ বাংলাদেশ তাই ‘অদম্য পেসারের উৎপত্তিস্থল’ হতে পারে, অচিরেই ।
আজ থেকে বছর পনের পরে তাই আকিব-বিশপের মতো কোন বাংলাদেশী পেসারের আক্ষেপের গল্প লিখতে গিয়ে কিছুটা হতাশা গ্রাস করলেও, তাতে যে কিছু পুলক লুকিয়ে থাকবে না, তা কে বলতে পারে !


সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:০১
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবননগর

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।



বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে দেশটি নেপালের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির বন্যা আসার আগেই চাকরির বাজারে খরা!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬



জুলাইয়ের পর বলা হয়েছিল দেশে নাকি চাকরির বন্যা বয়ে যাবে। অর্থনীতি ঘুরে দাড়াবে, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাবো। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিও হবে।

দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থানের অবস্থা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি তাহলে গুহা যুগে ফেরত যাচ্ছি?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫০



বিশ্ব যেখানে উন্নতির প্রতিযোগিতা করছে, কীভাবে জীবনমান আরও উন্নত এবং সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে আর আমরা ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটছি। চারদিকে ভয়াবহ অবস্থা!! চাঁদাবাজি, খুন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

।। রাশিয়ার মতো বাংলাদেশে হামলা করুক ভারত।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১২


আমি আজ পর্যন্ত আম্লিগে কোন ভালোমানুষ খুঁজে পাইনি। আম্লিগ মানেই ইয়ের বাচ্চা। আম্লিগ মননে মগজে ধর্ষক, লুন্ঠনকারী, দেশদ্রোহী ও পাচারকারী। এদের মাঝে কোন কালেই কোন ভালোমানুষ ছিলোনা বর্তমানেও নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×