somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম টেস্ট জয়ের যুগপূর্তি

১০ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একটি বিজয়ের মহাকাব্য লেখা হবে বলে বিনিদ্র রজনী কেটেছে অফুরান উৎসাহ ও ধৈর্য্য নিয়ে। শীতের সকাল পেরিয়ে মধ্যহ্নের গনগনে সূর্যের আঁচও উপেক্ষিত থেকেছে অপেক্ষার প্রহর গোণায়। মাহেন্দ্রক্ষণের শুভাগমণ কল্পনায় চিত্তে কত পুলক, রোমাঞ্চ আর আবেগের উচ্ছ্বল শিহরণ!

সেজো মামা তখন সদ্য ক্রিকেট বুঝতে শিখেছেন। আমার সাথে সাথে থাকেন। জুমার নামায আদায়ের উদ্দেশ্য বের হয়েছিলেন, জামাতের কাঁটায় কাঁটায়। নিয়মিত যে মসজিদে নামায আদায় করতাম, সে মসজিদ ছেড়ে গিয়েছিলেন অন্য মসজিদে। বলেছিলেন, 'বুঝলি, এখানে তাড়াতাড়ি নামায শেষ হয়ে যায়। তারপর তাড়াতাড়ি গিয়ে খেলা দেখতে পারবো।'
দেখেছিলাম সে খেলা। দেখেছিলাম সে বিজয়। মুলতান-সেন্ট লুসিয়া ছাড়িয়ে আক্ষেপের গল্প থেকে স্বপ্নপূরণের মহা উদ্যান হয়ে আমাদের কাছে ধরা দিয়েছিল, পূণ্যভূমি চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম।

মহাকালের অন্দরে ২০০৫ সালটা তখন সবে প্রবেশ করেছে। সেই বর্ষের দশম দিবসের ঠিক মধ্যহ্নের কোন এক শুভক্ষণে, মহোল্লাসে ভেসে যাওয়ার উপলক্ষ জুটে গিয়েছিল আমাদের। তাও আবার সনাতন ক্রিকেটের অভিজাত আঙিনায় পা-রাখার কেবলই পঞ্চম বর্ষের মাথায়।

জিম্বাবুয়েকে ২৬৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট পেয়েছিল ঐতিহাসিক এক বিজয়। হোক না সে জিম্বাবুয়ে ছিল দূর্বল, ভঙ্গুর, ক্ষয়িষ্ণু। তাতে কি! বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম টেস্ট জয়ের মান-মর্যাদয়, শান-শওকতে, দাপট-প্রতাপে একটুও কলঙ্কের প্রলাপ যে লাগেনি।

প্রথম সবকিছুই অন্যরকম, ভিন্ন এক অনুভূতি। আমাদের প্রথম টেস্ট জয়ও তাই আমাদের কাছে ভিন্নতর এক অনুভূতি। কোন কিছুর সাথে তুলনীয় নয়। কোন কিছুতে তা রঙ হারানোর নয়, বিবর্ণ হওয়ারও নয়।
সময় কেমন তরতরিয়ে এগিয়ে চলে, না? দেখতে দেখতেই কেমন বারোটি বছর কেটে গেল। একযুগ! বাশার-রফিক-এনামুলরা গেলেন। তাদের জায়গায় এলেন নতুনেরা। আসবেনই তো। জয়ও প্রথম পেরিয়ে আটটি এসেছে যে!

একযুগে আটটি জয়? বড্ড বেমানান। বড় সংকীর্ণ।
থাক, এই যুগপূর্তির দিনে নিরানন্দের ওই পরিসংখ্যানের দিকে আর না যাই। বরং সেদিনের মহা আনন্দের মহা উচ্ছ্বাসের স্মৃতিচারণাই না-হয় হোক, এদিন।
কি বলেন?
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:৫১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



যুদ্ধের আগে
আকাশের দিকে তাকিয়ে,
মানুষ নিজ নিজ পতাকা ঈশ্বরের রঙে রাঙায়।

প্রথম আঘাতের পর,
প্রথম রক্তের ফোঁটা মাটিতে পড়ার পূর্বে,
মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে—
"ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন।"

প্রতিটি যুদ্ধের আছে একেকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×