রবিবার:
এক সময় সকাল হলো। বাঙ্গালী একদল ট্রাকার উঠে এলো, এরা ঢাকা ফিরছে। বগালেক এর ঠিকানা বুঝে নিয়ে আমরা পাহাড় থেকে নামা শুরু করলাম। এই পথটুকু বেশ বিপদজনক। রাত্রে নামলে র্দুঘটনা নিশ্চিত ছিলো। প্রায় এক ঘন্টা পর পৌছলাম বহু প্রতিতি বগালেকে।
এই এ্যাত্তো উচু পাহাড়,এ্যাত্তো র্দুগম পথ, তার মধ্যে আল্লাহ এ্যাত্তো সুন্দর একটা জলাধার বানিয়ে রেখে দিয়েছেন। দেখেই একটা মিষ্টি ভালোলাগায় মনটা ভরে গেলো।
আজ বড় দিন। এখানে কয়েকটা ট্রাইবাল ফ্যামিলি থাকে। সবাই খ্রিস্টান হওয়ায় একটা উত্সব টাইপ পরিবেশ। আমাদের অবস্থা দেখে সাথে সাথে একটা মহিলা তার পরিবারের জন্য তৈরি নাস্তা আমাদের দিয়ে দিলেন। মোটা লাল ভাত আর মিষ্টিকুমড়ার ডাল। এত মজার খাবার আজ র্পযন্ত খাইনি। যাই হোক, বুভুক্ষের মতো ওদের খাবারগুলো খেয়ে নিয়ে ওদেরই দেয়া লুঙ্গির মতো কাপড়গুলো পরে থাকলাম আমাদেরগুলো না শুকানো র্পযন্ত। বেশ সুন্দর লাগছিলো সবাইকেই। আগামীকাল সোমবার সব্বার অফিস। মিস্ করতে না চাইলে এখনি রওনা হতে হবে। সাহস পাচ্ছি না। সিদ্ধান্ত হলো যে রাতে থেকে কাল সকালে রওনা হবো। রাতে ঘুমালাম ট্রাইবাল একটা বাসার খাটে। বাপ্-রেএএএ-বাপ। এগুলা মনে হয় লৌহ-কাঠের তৈরী বিছানা। বিছানা আর একটু সফ্ট আর জানালা আর-একটু বাতাস পৃভেন্টিভ হলে মনে হতো সত্যি সত্যি বেহেস্ত টাইপ কোথাও আছি।
সোমবার:
সক্কালে উঠে শীতে কাঁপতে কাঁপতে কাপড়-চোপড় যা আছে একটার ওপর একটা সব পরে নিলাম। সমস্যা হলো জুতা পায়ে দিতে গিয়ে। গতকাল তো সবাই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের র্পাট হিসেবে জুতা ধুয়ে দিয়েছি । এইগুলা তো একটুও শুকায় নাই। বরং বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে আছে। মাটিতে জোঁক না থাকলে মনে হয় খালি পায়েই রওনা হতাম। যাই হোক ৬.৩০তে রওনা হলাম। এবার অন্য রাস্তা। হাটছি তো হাটছি। হেটেই যাচ্ছি। কখনো পাহাড় বেয়ে উঠছি, কখনো নামছি। আবার উঠছি। আবার নামছি। এই করতে করতে আড়াইটায় পৌছলাম রুমা বাজার। ভাত খেয়ে নৌকায় করে খাইক্কাংছড়ি ঘাট। ওখান থেকে চাঁদের গাড়ি করে রির্সোট। দ্রুত গোছল খাওয়া সেরে রাত আটটার দিকে ফিরতি যাত্রা।
কান্তিতে শরীর ভেঙ্গে পরছে। একটু রেস্ট পেলে ভালো হতো। কারো দিকে, বিশেষ করে কারো পায়ের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। তাকালেই পাগুলোকে কোলো নিয়ে বসে থাকতে ইচ্ছা করছে। কাঁটা, ছিলা, ফোড়া, ফোস্কা, জোকের কামড় - কি নেই পায়ে। করুণ অবস্থা।
মঙ্গলবার:
ভোড় চারটায় ঢাকা ... কয়েক ঘন্টা রেস্ট ... আবার পুরোনো জীবন।
দলের অনেকে নাকি শখ মিটে গেছে। আর যাবেনা। আমি যাব। একটা সুন্দর সাহসী দল তৈরী করছি আবার। এবার তাজিংডং দেখেই ছাড়ব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




