somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিভাবে সীমাবদ্ধতাকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগাবেন

১০ ই নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যার হারানোর কিছু নেই, তিনিই নিশ্চিত মনে সামনে এগুতে পারেন। কারণ তাঁর কোনো পিছুটান থাকে না। এটাই তাঁর গ্রাউন্ড জিরো। তিনি যানেন এখান থেকেই শুরু করতে হবে।শতকরা ৯০ জন সফল মানুষই আর্থিক, পারিবারিক, পারিপার্শ্বিক প্রতিকূলতা নিয়ে জন্ম গ্রহন করেছেন। তারা সেখান থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে সাফল্যের পথে এগিয়ে গেছেন। আর্থিক ও পারিপার্শ্বিক প্রতিকূলতাই তাদের ভিতরে শক্তির জাগরনের কারণ হয়েছে।মহাকবি হোমার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছিলেন। অমর সুরস্রষ্টা বেটোভেন জীবনের শেষ বছরগুলোয় কিছুই শুনতেন না। কলকাতার মাসুদুর রহমান দুই পা কাটা পড়ার পরও ইংলিশ চ্যানেলে সাঁতার কেটে ১৯৯৫ সালে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেন।

লেখাটি আগে এখানে প্রকাশিত হয়েছে

সীমাবদ্ধতা কীভাবে শক্তি হতে পারে, প্রতিবন্ধীত্বও কীভাবে সাফল্যের উৎস হতে পারে, এ নিয়ে জেনের বিখ্যাত গল্প রয়েছে-

এক জাপানি বালক। ১৩ বছর তাঁর বয়স। একটা দুর্ঘটনায় বাম হাত হারিয়ে ফেললো। তাঁর ছিলো জুডো শেখার প্রচন্ড আগ্রহ। কিন্তু যেহেতু তাঁর বাম হাত নেই, কোনো জুডো-গুরু তাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহন করতে রাজি হলেন না- বাম হাত নেই, একে কী শেখাবো? জুডো তো একটা সাংঘাতিক ব্যাপার! যেটার জন্যে দুটো হাতের প্রয়োজন। ছেলেটি এই গুরুর কাছে যায়, ঐ গুরুর কাছে যায়। সবাই শুধু বলে যে না, তুমি জুডো শিখতে পারবে না। তোমার জন্য এগুলো নয়। তুমি বরং অন্য কিছু করো। কিন্তু বালক বিশ্বাসে অটল। বাম হাত নেই তাতে কী? জুডো সে শিখবেই। ঘোরাঘুরি করতে করতে শেষমেশ সে এক বয়োবৃদ্ধ গুরুর সন্ধান পেলো। বালকের শেখার আকুতি দেখে গুরুর মায়া হলো। তিনি তাকে বললেন যে ঠিক আছে, আমি তোমাকে শেখাবো। তবে প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে, আমি যা বলবো তা তুমি মানবে এবং লেগে থাকবে।

শুরু হলো তাঁর জুডো শেখা। দিন গেল, সপ্তাহ গেল, মাস গেল। বছর পার হলো। একসময় ছেলেটি অবাক হয়ে লক্ষ করলো- প্রতিদিন তাঁর গুরু তাকে একটা কৌশলই, জুডোর একটি প্যাঁচই কেবল শেখাচ্ছেন। ডান-বাম, সামনে–পেছনে আর কিছুই না। শুধু একটাই কৌশল, একটাই প্যাঁচ। একসময় তাঁর মনে প্রশ্ন জাগলো, দুঃখ হলো- জুডোর এতো প্যাঁচ আছে, সব বাদ দিয়ে গুরু আমাকে শুধু একটি প্যাঁচ শেখাচ্ছেন? আবার সাহসও পায় না যে, গুরুর সামনে বললে আবার না বেয়াদবি হয়ে যায়। একদিন সাহস করে বলেই ফেললো যে, সেনসেই! আমি কি আর কোনো কৌশল শিখবো না? –বললো খুব করুণ স্বরে। গুরু জবাব দিলেন, তুমি একটি কৌশল শিখছো আর এই একটি কৌশলই, একটি প্যাঁচই তোমার ভালোভাবে রপ্ত করা দরকার। অতএব একাগ্রচিত্তে অনুশীলন করে যাও।

গুরু বলে দিয়েছেন। তাঁর কাছে এটুকুই যথেষ্ট। যেহেতু গুরু তাকে খুব স্নেহ করেন, একটা প্যাঁচই মমতার সাথে বার বার-বার বার শেখাচ্ছেন- সে অনুশীলন করে চললো। পাঁচ বছর পার হয়ে গেলো এই একটা প্যাঁচ শিখতে। দীর্ঘ অনুশীলনে এই প্যাঁচের সবকিছু দারুণভাবে রপ্ত করলো সে। এবার গুরু সিদ্ধান্ত নিলেন তাকে প্রতিযোগিতায় নামানোর। প্রতিযোগিতা শুরু হলো। প্রথম দুই ম্যাচে খুব অনায়াসে সে ঐ এক প্যাঁচ দিয়েই দুজনকে হারিয়ে দিল। এবার ফাইনাল। ফাইনাল ম্যাচে সে সত্যি সত্যি বেশ বেকায়দায় পড়লো। কারণ তাঁর প্রতিপক্ষ বেশ শক্তিশালী আর অভিজ্ঞ।

একসময় মনে হলো যে, বালকটি বোধহয় হেরে যাচ্ছে। ভীষণ মার খাচ্ছে। রেফারিও বুঝতে পারছে না খেলা কি চালাতে দেবে, না থামিয়ে দেবে। কারণ যেভাবে ছেলেটি মার খাচ্ছে তাতে যেকোনো সময় সে পড়ে যেতে পারে। কিন্তু তাঁর গুরু ইশারা করলেন যে, না, খেলা চলুক। বিরতি হলো। গুরু বালকের মাথায় হাত বুলিয়ে উৎসাহ দিলেন। সুন্দর খেলেছো। তুমি জিতবে। খেলা আবার শুরু হলো। শক্তিমান প্রতিপক্ষ অধৈর্য্য হয়ে উঠলো। মরিয়া হয়ে আক্রমন করতে লাগলো। বালক ঠান্ডা মাথায় প্রতিটি আক্রমন কাটাচ্ছে। হঠাৎ প্রতিপক্ষ একটা ভুল করার সাথে সাথে বালক তাঁর প্যাঁচ প্রয়োগ করলো এবং জিতে গেলো। বালক চ্যাম্পিয়ন হলো। চ্যাম্পিয়ন হয়ে বালক তো মহাখুশি। এটা তাঁর কাছে বিস্ময়কর যে, একটিমাত্র কৌশল প্রয়োগ করে সে জিতে গেলো! ফেরার পথে সে গুরুকে জিজ্ঞেস করলো যে, সেনসেই! এই একটি মাত্র কৌশল প্রয়োগ করে আমি জিতলাম কী করে?

সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ুন
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৫৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা: এক ফাঁকা রাতের গল্প

রাত গভীর হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা তিনটার ঘরে। ঘরের সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, পুরো বাড়িতে নিস্তব্ধতা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমান্তের সুলতান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬



টেকনাফ মডেল থানার ভেতরের খাস কামরা। এসি চলছে তীব্র গতিতে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের ভারী, ভয়ের গন্ধ। টেবিলের ওপাশে দুই হাত জোড় করে কাঁপছে এক স্থানীয় বাসিন্দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×