somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তথ্য বিভ্রাটের কবলে বঙ্গবন্ধু

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এম এন লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের এক প্রতিনিধিদল বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাত করতে গেলে, তিনি তাদেরকে বাঙালি হয়ে যাওয়ার আহবান জানান এবং পাহাড়ে বাঙালি পুনর্বাসনের হুমকি দিয়েছিলেন – প্রায় সর্বজনগ্রাহ্য এমন এক ধারনার নির্ভরযোগ্য সুত্রের অনুপস্থিতি আমাকে যারপরনাই বিস্মিত করেছে। তবে এই ঘটনা সংক্রান্ত কিছু পরস্পর বিরোধী তথ্যের উপস্থিতি আমাকে যতটা না বিস্মিত করেছে তার চেয়ে বেশি দ্বিধান্বিত করেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র আন্দোলনের পিছনে এই ধারনার সম্পৃক্ততার মাত্রা বিবেচনায়, এমন একটা ধারনার তথ্যের গড়মিলগুলো সামনে তুলে ধরা অপরিহার্য বলে মনে করেই এই লেখার অবতারনা। যা করতে গিয়ে, প্রকাশনার গ্রহনযোগ্যতা, অহেতুক বিতর্ক এড়ানো এবং দীর্ঘ লেখায় বিরক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা বিবেচনায় শুধুমাত্র নির্বাচিত কয়েকটি প্রকাশনার উপরেই দৃষ্টি সীমাবদ্ধ রাখতে হয়েছে।

১৯৮৪ সালে Anti-Slavery Society কর্তৃক প্রকাশিত ‘The Chittagong Hill Tracts: Militarization, oppression and the hill tribes’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা’র নেতৃত্বে উপজাতিদের এক প্রতিনিধিদল ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুআরি তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবের নিকট নিম্নোক্ত চার দফা দাবী উপস্থাপন করেঃ
ক। নিজস্ব আইন পরিষদ সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল হবে।
খ। সংবিধানে চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস রেগুলেশন ১৯০০ বহাল রাখতে হবে।
গ। পূর্ণ প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ উপজাতীয় রাজাদের অফিস বহাল থাকবে।
ঘ। সংবিধানে এমন এক রক্ষা কবচ থাকবে যে, ১৯০০ সালের রেগুলেশন সংশোধন করা হবে না এবং এই এলাকায় বাঙালি
পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে না।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয় যে, স্বায়ত্বশাসনের দাবীকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিবেচনা করে শেখ মুজিব তাদেরকে নতুন বাংলাদেশে নিজেদের আত্নিকরন এবং বাঙালি হওয়ার উপদেশ দিয়েছিলেন। (পৃ-৪৬)।

‘জীবন আমাদের নয়’ – সি এইচ টি কমিশন রচিত এই রিপোর্টের প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯১ সালের মে মাসে। পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের প্রতি বঞ্চনা আর নিপীড়নের এক প্রামান্য দলিল হিসেবে এই রিপোর্টটি বিশ্বজুড়ে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের উপর কাজ করার সময় আমাদের দেশের, এমনকি দেশের বাইরের একাধিক ব্যক্তি, গবেষক এবং সংস্থা এই রিপোর্টটিকে সুত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন অসংখ্যবার। এই রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বোঝানোর জন্যে চিন্ময় মুৎসুদ্দী‘র একটি উক্তি প্রণিধানযোগ্য,

“এটি আন্তর্জাতিক একটি কমিশনের রিপোর্ট। বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি নিয়ে তারা ১৯৯০/৯১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম সফর করে। ................. এই রিপোর্টে অঙ্কে স্পর্শ কাতর বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কমিশনের এই রিপোর্টটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ বা সেটি অসত্য এমন কোনো বক্তব্য বাংলাদেশ সরকার বলেনি।” (মুৎসুদ্দী, ১৯৯২, পৃ-মুখবন্ধ)।

সিএইচটি কমিশনের উক্ত প্রতিবেদনের সুত্রে পাহাড়ি জনগণের এক প্রতিনিধি দলের সাথে বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাতের নাতিদীর্ঘ বিবরণ তুলে ধরেছেন বিপ্লব রহমান (২০১৫),

“১৯৭২ সালের পাহাড়ি জনগণের নেতৃবৃন্দের একটি প্রতিনিধি দল প্রথম রাষ্ট্রপতি মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সংসদের চাকমা সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা, সঙ্গে ছিলেন উপেন্দ্রলাল চাকমাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় ১২ জন পাহাড়ি। মানবেন্দ্র লারমার সঙ্গে ছিল শেখ মুজিবের বরাবরে লিখিত একটি স্মারকলিপি।

শেখ মুজিব জিজ্ঞাসা করলেন, ওতে কী লেখা আছে। স্মারকলিপিতে দাবী করা হয়েছিল, নিজস্ব আইন পরিষদ সং বলিত পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্বশাসন, ১৯০০ সালের বিধিসমূহের সং রক্ষণ, তিন প্রধানের দপ্তরের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা, বিধিসমূহের সংশোধনের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক রক্ষাকবচ এবং অ-পাহাড়িদের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ করা। মুজিব দাবিগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।

উপেন্দ্রলাল চাকমার স্মরণে আছে শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘না, আমরা সবাই বাঙালি, আমাদের দুই ধরনের সরকার ব্যবস্থা থাকতে পারে না। তোমরা তোমাদের জাতীয় পরিচয় ভুলে যাও এবং বাঙালি হয়ে যাও।‘ তিনি নাকি হুমকি দিয়ে এও বলেন যে, বাঙালি মুসলমানরা পার্বত্য চট্টগ্রাম ছেয়ে ফেলবে।

শেখ মুজিবের অফিসে মিটিং স্থায়ী হয় মাত্র ৩-৪ মিনিট। প্রতিনিধিদেরকে বসতে বলা হয়নি। শেখ মুজিব স্মারকলিপি গ্রহণ করেননি। উপেন্দ্রলাল চাকমার ভাষ্যমতে, তিনি সেটা মানবেন্দ্র লারমার দিকে ছুড়ে মেরেছিলেন।” (রহমান, ২০১৫, পৃ-১৪০-৪১)।

প্রায় একই বক্তব্য তুলে ধরেছেন সৈয়দ মুর্তজা আলী (১৯৯৬) এবং মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন (২০০৩)। তবে দু’জনেই প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা সাতজন ছিল বলে উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে আলী (১৯৯৬) উপেন্দ্রলাল চাকমাকে প্রতিনিধিদলের একজন সদস্য হিসেবে বর্ণনা করে, তার উদ্ধৃতি দিয়েছেন। (আলী, ১৯৯৬, পৃ-৩৭-৩৮; আবেদিন, ২০০৩,পৃ-৪৫)।

এই ঘটনার প্রায় একই বিবরণ পাওয়া যায় আমেনা মহসিন (১৯৯৭) রচিত ‘The Politics of Nationalism’ বইয়ে। তবে তিনি প্রতিনিধিদলকে বসতে না দেয়া, মিটিংয়ের স্বল্পস্থায়ীত্ব এবং স্মারকলিপি গ্রহণ না করে ছুঁড়ে মারার ব্যাপারগুলো উল্লেখ করেননি। একই সাথে লেখিকা আরো জানিয়েছেন যে, উক্ত প্রতিনিধিদলের সদস্য অনন্ত বিহারী খিসা ১৯ অক্টোবর ১৯৭৩ তারিখে লেখিকার সাথে এক সাক্ষাতকারে এই ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। (মহসিন, ১৯৯৭, পৃ-৫৭-৫৮)।

এস মাহমুদ আলী (১৯৯৩) জানান, ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুআরিতে এম এন লারমার নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল শেখ মুজিবের কাছে চার দফা দাবী পেশ করলে তিনি প্রতিনিধিদলকে বাঙালি হয়ে যাওয়ার উপদেশ দেন। তবে তিনিও প্রতিনিধিদলকে বসতে না দেয়া, মিটিংয়ের স্থায়ীত্ব এবং স্মারকলিপি গ্রহণ না করে ছুঁড়ে মারার ব্যাপারগুলো উল্লেখ করেননি। অনুরূপ বক্তব্য ফুটে উঠেছে মিজানুর রহমান শেলী (১৯৯২) এবং এস পি তালুকদারের (১৯৯৪) কণ্ঠেও।

প্রদীপ্ত খীসা (১৯৯৬) জানিয়েছেন, “ বাংলাদেশের ভাবি সংবিধানে উপজাতীয়দের ন্যায়সঙ্গত অধিকার সংরক্ষনের জন্যে এম এন লারমাসহ একটি উপজাতীয় প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুআরি মঙ্গলবার সন্ধে সাড়ে ছয়টার সময় একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।” তিনি আরো জানিয়েছেন যে, বঙ্গবন্ধু “উপজাতীয় নেতৃবৃন্দের দাবিদাওয়ার প্রতি সমর্থনে কুণ্ঠিত হন। উল্টো তিনি এম এন লারমাকে এ ব্যাপারে আর অগ্রসর না হবার পরামর্শ দেন ”। এখানে লেখক চার দফা দাবীর প্রতিটি উল্লেখ করেছেন। তবে, প্রতিনিধিদলে সদস্য সংখ্যা, প্রতিনিধিদলকে বসতে না দেয়া, মিটিংয়ের স্থায়ীত্ব এবং স্মারকলিপি গ্রহণ না করে ছুঁড়ে মারার ব্যাপারগুলো উল্লেখ করেননি। (খীসা, ১৯৯৬, পৃ-৪১)।

সুবীর ভৌমিক (১৯৯৬) জানিয়েছেন যে, ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুআরিতে সতের সদস্যের এক প্রতিনিধিদল ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর সরকারী বাসভবনে তার সাথে সাক্ষাৎ করে চার দফা দাবী সম্বলিত এক স্মারকলিপি পেশ করে। সতের জনের একজন উপেন্দ্রলাল চাকমা’কে উদ্ধৃত করে তিনি জানান যে, বঙ্গবন্ধু তাদেরকে স্বশাসনের কথা ভুলে গিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে এবং বাঙালি হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। প্রতিনিধি দলে মং রাজা এবং এম এন লারমার উপস্থিতির কথা জানালেও লেখক অন্য কোন সদস্যের নাম উল্লেখ করেননি। এছাড়াও, প্রতিনিধিদলকে বসতে না দেয়া, মিটিংয়ের স্থায়ীত্ব এবং স্মারকলিপি গ্রহণ না করে ছুঁড়ে মারার ব্যাপারগুলো উল্লেখ করেননি।

তারিখ উল্লেখ না করলেও ফেব্রুআরি ১৯৭২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের এক প্রতিনিধিদলের বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করে চার দফা দাবী প্রণয়ন এবং বঙ্গবন্ধু কর্তৃক তা প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপার উল্লেখ করেছেন আরো কিছু লেখক/ গবেষক; তন্মধ্যে ইফতেখারুজ্জামান (১৯৯৮) এবং শরদিন্দু শেখর চাকমা (২০১৪) উল্লেখযোগ্য। উল্লেখ্য যে, আমেনা মহসিন (২০০৩) তার ‘The Chittagong Hill Tracts: On the Difficult Road to Peace’ বইয়ে সন-তারিখ উল্লেখ না করে বলেন যে, বাংলাদেশের সংবিধান প্রনয়নের সময়কালে এম এন লারমার নেতৃত্বে পাহাড়িদের এক প্রতিনিধিদল শেখ মুজিবের রহমানের সাথে দেখা করে চার দফা দাবী পেশ করেন। মুজিব তাদের দাবী প্রত্যাখ্যান করে বাঙালি জাতীয়তাবাদ গ্রহণ করার উপদেশ দেন এবং বাঙালি পুনর্বাসনের হুমকি দেন। (মহসিন, ২০০৩, পৃ-২২)।

পার্বত্য চট্টগ্রামের কতটি প্রতিনিধিদল ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিল, তার কোন তালিকা হয়ত থাকতে পারে, কিন্তু আমি খুঁজে বের করতে পারিনি। তবে বিভিন্ন প্রকাশনা পর্যালোচনা করে এবং বিভিন্ন লেখকের বইয়ে প্রদত্ত ঘটনাপঞ্জী হতে দুইটি প্রতিনিধিদলের ব্যাপারে কোন সন্দেহের অবকাশ, অন্তত আমার নেই। এই প্রতিনিধিদল দু’টির একটির নেতৃত্বে ছিলেন চারু বিকাশ চাকমা; অন্যটির নেতৃত্বে ছিলেন মং রাজা মং প্রু সাইন। অপরদিকে, এম এন লারমা’র নেতৃত্বে কোন প্রতিনিধি দলের বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারিনি।

১৯৭২ সালের ২৯ জানুয়ারিতে চারু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে সাত সদস্য বিশিষ্ট এক প্রতিনিধিদলের উল্লেখ পাওয়া যায় জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা রচিত ‘ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পার্বত্য স্থানীয় সরকার পরিষদ’ বইয়ে (প্রকাশকাল ১৯৯১ সন)। পরবর্তীতে আরো কিছু লেখক এই প্রতিনিধিদলের উল্লেখ করেছেন; যেমন, মিজানুর রহমান শেলী (১৯৯২), আফতাব আহমাদ (১৯৯৩), প্রদীপ্ত খীসা (১৯৯৬), আমেনা মহসিন (১৯৯৭), গোলাম মোর্তোজা (২০০০), হাবিবুর রহমান (২০০৪), ডাঃ এ. কে. দেওয়ান (২০১১) প্রমুখ। তন্মধ্যে ইবরাহিম (২০০১) এই প্রতিনিধিদলের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন। এরা হলেন মং শানু চৌধুরী, দেবদত্ত খীসা, যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, অশোক মিত্র, রুপায়ন দেওয়ানসহ আরো দুইজন।

১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মং রাজা মং প্রু সাইনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আরেকটি প্রতিনিধিদল বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিল। অন্যান্য যারা এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন, তারা হলেনঃ
১। মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা।
২। কে কে রায়।
৩। বিনীতা রায়।
৪। বোমাং রাজা মং শৈ প্রু।
৫। সুবিমল দেওয়ান।
৬। জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা।

উক্ত প্রতিনিধি দলের সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা (১৯৯১) হতে জানা যায় যে, বঙ্গবন্ধু জরুরী কাজে বাইরে থাকায় প্রতিনিধিদল তার (বঙ্গবন্ধু) সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেনি। তাই, তার জনসংযোগ কর্মকর্তার কাছে নিম্নলিখিত ৪ দফা দাবী সম্বলিত একটি দাবীনামা রেখে আসেঃ
ক। পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল হবে এবং এর একটি নিজস্ব আইন পরিষদ থাকবে।
খ। উপজাতীয় জনগণের অধিকার সংরক্ষনের জন্য ১৯০০ সালের ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির’ অনুরূপ সংবিধি ব্যবস্থা শাসনতন্ত্রে থাকবে।
গ। উপজাতীয় রাজাদের দফতর সংরক্ষণ করা হবে।
ঘ। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয় নিয়ে কোন শাসনতান্ত্রিক সংশোধন বা পরিবর্তন যেন না করা হয়, এরূপ সংবিধি ব্যবস্থা শাসনতন্ত্রে থাকবে। (চাকমা, ১৯৯১, পৃ-৫০-৫১)।

১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুআরিতে তৎকালীন মং রাজার নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদলের আগমন এবং বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাত না হওয়ার প্রেক্ষিতে চার দফা দাবীনামা রেখে যাওয়ার ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন আরো কিছু লেখক/গবেষক। তন্মধ্যে আফতাব আহমাদ (১৯৯৩), মাহফুজ পারভেজ (১৯৯৯), গোলাম মোর্তোজা (২০০০), মেজর জেনারেল (অব.) ইবরাহিম (২০০১), ডাঃ এ. কে. দেওয়ান দেওয়ান (২০১৫) প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

প্রসঙ্গত উল্লেখ না করলেই নয় যে, সুদীপ্তা দেওয়ান ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের প্রথম মনোনীত সাংসদ। তিনি এবং তার স্বামী ডাঃ এ. কে. দেওয়ান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বিশেষ স্নেহধন্য, যারা পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাবলী কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। ডাঃ দেওয়ান রচিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বঙ্গবন্ধু’ বইটি বঙ্গবন্ধুর পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত মুল্যবান একটি দলিল বলে বিবেচিত। সম্পূর্ণ তথ্য ভিত্তিক এই বইয়ে তিনি দুর্লভ কিছু ছবি এবং পেপার কাটিংসহ ঐ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন,

“১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সনে সন্ধ্যায় মুক্তিযোদ্ধা মং রাজা মং প্রু সাইনের নেতৃত্বে মানবেন্দ্র নারায়ন লারমাসহ ৭ সদস্যের আরো একটি পাহাড়ি প্রতিনিধি দল পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের শাসনতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনার জন্য বঙ্গবন্ধুর কাছে চার দফা দাবি নিয়ে হাজির হন।

উক্ত চার দফা দাবি হলো- (১) পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল হবে এবং এর একটী নিজস্ব আইন পরিষদ থাকবে। (২) উপজাতীয় জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্য ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির অনুরূপ সংবিধি ব্যবস্থা শাসনতন্ত্রে থাকতে হবে। (৩) পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় রাজপ্রথা সংরক্ষণ করতে হবে। (৪) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয় নিয়ে কোনো শাসনতান্ত্রিক সংশোধন বা পরিবর্তন যেন না হয় এরূপ সংবিধি ব্যবস্থা শাসনতন্ত্রে থাকতে হবে।

যাহোক নির্ধারিত সময়ে বঙ্গবন্ধু জরুরি কাজে বাইরে থাকায় নেতৃবৃন্দ তার সাথে সাক্ষাৎ করতে ব্যর্থ হয়। তবে জনসংযোগ কর্মকর্তার কাছে উল্লেখিত চার দফা দাবি সম্বলিত দাবিনামাটি বঙ্গবন্ধুর কাছে পেশ করার জন্য রেখে আসে।” (দেওয়ান, ২০১৫, পৃ-১৫-১৭)।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হল এই যে, ১৯৭৪ সালের ২১ মে তারিখে এম এন লারমার সাথে সাক্ষাৎকারের সুত্রোল্লেখ করে আফতাব আহমাদ জানিয়েছেন যে, ২৯ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের প্রতিনিধিদলকে বঙ্গবন্ধু আশ্বস্ত করেছিলেন যে, পাহাড়িদের ঐতিহ্য এবং কৃষ্টি সংরক্ষনের জন্যে সংবিধানে যথাযথ প্রভিশন থাকবে এবং চাকুরির সুযোগ প্রদানের জন্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এর পরেই তিনি ১৫ ফেব্রুআরি ১৯৭২ সালের প্রতিনিধি দলের প্রসঙ্গ এনে বলেন যে, মং রাজা মং প্রু সাইনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আরেকটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিল, যেখানে অন্যান্যদের মধ্যে বিনীতা রায় এবং এম এন লারমা ছিলেন । তবে বঙ্গবন্ধু না থাকায় তার সাথে এই প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে পারেনি; তখন জনসংযোগ কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি রেখে আসে, যেখানে চার দফা দাবী ছিল। এই দাবী সমুহের সুত্র হিসেবে লেখক তার পূর্বোক্ত সুত্র (Ibid), অর্থাৎ এম এন লারমার সাথে ২১ মে তারিখে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকারের উল্লেখ করেছেন। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জাগে, ১৫ ফেব্রুআরি ১৯৭২ তারিখে বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ হলে এম এন লারমা নিশ্চয় আফতাব আহমাদকে সেই সংক্রান্ত কিছু না কিছু বলতেন। অথচ, আফতাব আহমাদ পরিস্কারভাবে বলেছেন যে, বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ হয়নি।

উপরোক্ত দু’টি প্রতিনিধি দল ছাড়া আর কোন উপজাতীয় প্রতিনিধিদলের ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাতের বিবরণ পাওয়া যায় না। তবে আফতাব আহমাদ ( ১৯৯৩) জানিয়েছেন যে, জাতীয় সংসদ কর্তৃক বাংলাদেশের সংবিধান অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত, ১৯৭২ সালে একাধিকবার এম এন লারমা বঙ্গবন্ধুর সাথে পাহাড়িদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা এবং দাবীদাওয়া নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এমতাবস্থায়, যখন চোখে পড়ে, কেউ কেউ দাবী করছেন যে, এম এন লারমার নেতৃত্বে এক উপজাতীয় প্রতিনিধিদল ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুআরিতে বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করে চার দফা দাবী পেশ করেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু সেই দাবী মেনে নেননি – তখন বিস্মিত না হয়ে উপায় থাকে না। বিস্ময়ের মাত্রা আরো উচুতে ওঠে যখন আরো চোখে পড়ে, ১৫ ফেব্রুআরি ১৯৭২ তারিখের প্রতিনিধিদলের সাতজনের মধ্যে যার নামই নেই, সেই উপেন্দ্রলাল চাকমাকে উদ্ধৃত করে সি এইচ টি কমিশন তাদের প্রতিবেদনে স্মারকলিপি ছুড়ে মারার মত ঘটনা উল্লেখ করছে – সেই প্রতিবেদন আবার অনেক গবেষনাকর্মের সুত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

১৫ ফেব্রুআরি ১৯৭২ তারিখের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন, এমন একজন হলেন জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা। তিনি যেখানে নিজে বলেছেন (১৯৯১) যে, মং রাজা মং প্রু সাইনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের এক প্রতিনিধি দল গিয়েছিল এবং ঐ সময়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ হয়নি; সেখানে সি এইচ টি কমিশন (১৯৯১), মিজানুর রহমান শেলী (১৯৯২), এস মাহমুদ আলী (১৯৯৩), এস পি তালুকদার (১৯৯৪), প্রদীপ্ত খীসা (১৯৯৬), সুবীর ভৌমিক (১৯৯৬), সৈয়দ মুর্তজা আলী (১৯৯৬), আমেনা মহসিন (১৯৯৭), বিপ্লব রহমান (২০১৫) এবং আরো অনেক লেখক/গবেষকের প্রকাশনায় ১৫ ফেব্রুআরি ১৯৭২ তারিখে এম এন লারমার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল গমন এবং বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ, বার বা সতের সদস্যের প্রতিনিধিদল, অনন্ত বিহারী খীসা কিংবা উপেন্দ্রলাল চাকমাকে প্রতিনিধি দলের সদস্য বিবেচনা করা, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রতিনিধিদলের দাবী অগ্রাহ্য করা, বা স্বল্প সময়ের মিটিং, কিংবা তাদেরকে বসতে না দেয়া, এমনকি এম এন লারমার দিকে স্মারকলিপি ছুড়ে মারার ব্যাপারগুলো কোন দৃষ্টিকোণ হতে বিচার করা উচিৎ - সেটা বিবেচনার ভার পাঠকের উপর ন্যস্ত করা ছাড়া গত্যন্তর নেই।

প্রথিতযশা আর স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গের প্রকাশনায় তথ্য বিভ্রাটের এহেন উপস্থিতিতে সাধারণ পাঠকের দ্বিধান্বিত না হয়ে উপায় নেই। বিগত বছরগুলোতে এই তথ্য বিভ্রাটের বলি হয়েছে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ, বিশেষত পার্বত্য চট্টগ্রামে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরেই তথ্য বিভ্রাটের মাত্রা এমনি ব্যাপক যে স্বয়ং বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করেও এমনটা ঘটেছে; যার প্রমাণ হল ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলী। যাদের সাথে বঙ্গবন্ধুর দেখাই হয়নি, তাদের দাবী না মেনে বসতে না দেয়ার মত অভদ্র আচরণ, এমনকি স্মারকলিপি ছুড়ে মারার মত শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজের দায়ভারে আক্রান্ত করা হয়েছে তাঁকে - দেশে, এমনকি বিদেশে, দীর্ঘদিন ধরেই।

তথ্যসুত্রঃ
১। খীসা, প্রদীপ্ত (১৯৯৬). পার্বত্য চট্রগ্রামের সমস্যা. ঢাকা: সাহিত্য প্রকাশ।
২। ইব্রাহিম, মেজর জেনারেল (অব.) (২০০১). পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি প্রক্রিয়া ও পরিবেশ- পরিস্থিতির মূল্যায়ন, ঢাকা: মাওলা ব্রাদার্স।
৩। চাকমা, জ্ঞানেন্দু বিকাশ (১৯৯১). ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পার্বত্য স্থানীয় সরকার পরিষদ. রাঙামাটি: স্থানীয় সরকার পরিষদ, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
৪। পারভেজ, মাহফুজ ( ১৯৯৯). বিদ্রোহী পার্বত্য চট্টগ্রাম ও শান্তি চুক্তি. ঢাকা: সন্দেশ।
৫। মুৎসুদ্দি, চিন্ময় (১৯৯২). অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য প্রসঙ্গ . ঢাকা: আগামী প্রকাশনী।
৬। মোর্তোজা, গোলাম (২০০০ ). শান্তি বাহিনী গেরিলা জীবন. ঢাকা: সময় প্রকাশন।
৭। রহমান, বিপ্লব (২০১৫). পাহাড়ে বিপন্ন জনপদ. ঢাকা: সংহতি প্রকাশন।
৮। দেওয়ান, ডা. এ.কে. দেওয়ান (২০১৫), পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বংগবন্ধু (২য় সংস্করণ), রাঙ্গামাটী, সুদিপ্তা দেওয়ান।
৯। Ahmed, Aftab (1993, November). Ethnicity and Insurgency in the Chittagong Hill Tracts Region: A Study of the Crisis of Political Integration in Bangladesh. Journal of Commonwealth & Comparative Politics, 31(3), 32-36.
১০। Ali, S Mahmud (1993). The Fearful State: Power, People and Internal War in South Asia . London: Zed Books.
১১। Ali, yed Murtaza (1996). The Hitch in the Hills: CHT Diary. Chittagong: Dil Monowara Begum.
১২। Bhaumik, Subir. (1996). Insurgent Crossfire North-East India. New Delhi: Lancer Publishers.
১৩। Mohsin, Amena. (1997). The Politics of Nationalism: The Case of the Chittagong Hill Tracts Bangladesh. Dhaka: The University Press Limited.
১৪। Mohsin, Amena. (2003). The Chittagong Hill Tracts, Bangladesh: On the Difficult Road to Peace. Dhaka: The University Press Limited.
১৫। Royhan, Syed Abu (2016). The Chittagong Hill Tracts. Dhaka: Kalikolom Prokashona.
১৬। Shelley, Mizanur Rahman (Ed.). (1992). The Chittagong Hill Tracts of Bangladesh: The Untold Story. Dhaka: Centre for Development Research, Bangladesh.
১৭। Society, Anti-Slavery (1984). The Chittagong Hill Tracts: Militarization, oppression and the hill tribes. London: Anti-Slavery Society.
১৮। Abedin, Mohammad Zainal (2003). The Chittagong Hill Tracts: A Victim of Indian Intervention. London: Eastern Publications.
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৩৭
২৭টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধের হাতি দেখা ও আধুনিক ব্লগারির এক করুণ রম্যকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২১


মানুষের জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে একটি প্রাচীন উপকথা যুগে যুগে নতুন অর্থে ফিরে এসেছে অন্ধের হাতি দেখা। কয়েকজন অন্ধ মানুষ হাতির ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ স্পর্শ করে প্রত্যেকে নিজেকে সত্যের একমাত্র অধিকারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাঁদগাজীর বয়ানে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৩৭



গাজী সাহেব বলেছেন, এই ছবির একদম পেছনে যাকে দেখছেন, তিনি ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। একই পরিবারের আত্নীয়সহ আরও পাঁচজন ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। পরিবারের যিনি কোনোভাবে বেঁচে আছেন, তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুতোষ কবিতাঃ মিষ্টি খাবো

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৩৬




"মিষ্টি খাবো, মণ্ডা খাবো"—
বায়না ধরলো খোকা।
"চেঁচাস নে আর, বড্ড জ্বালাস,
তোর যে দাঁতে পোকা!"

খোকা বলে, "কোথায় পোকা?
দেখি না তো চোখে!
মাঝে মাঝে ব্যথা তবে
ওঠে থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসুন দেখে আসি, রাজাকার, লালবদর,ছাত্রদল ও শিবিরের উত্তরাধিকারীরা পাকিস্তানে কেমন আছে‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:০১



কেমন আছে পাকিস্তানে বসবাসরত ৪০ লক্ষ বাঙালী?

১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে দাড়িয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিচার করার হুঙ্কার দিলেন। পাকিস্তানে বসে তখন খুনি জুলফিকার আলী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×