somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহফুজ ইসলাম মেঘ
নিজের প্রসঙ্গে আলাদা করে বলার মতো কিছু নেই, ১৬ কোটি শেয়ার হোল্ডারের দেশে আমিও একজন শেয়ার হোল্ডার।

প্রতিবাদ হোক অত্যাচারীর বিরূদ্ধে.... সে যেই হোক।

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাস্তব জীবনে কিছুদিন পর পর একেকটা ঘটনা ঘটে, আর তার বিশাল বিশাল সব ঢেঁও এসে আঁছড়ে পরে সামাজিক গনমাধ্যমগুলোতে।
আর আমার মতো কিছু ফেবু, টুইটার অথবা ব্লগের পোকারা মেতে উঠি সেগুলো নিয়ে।
গত বেশ কবছর ধরেই একই দৃশ্য চলে আসছে, এবারও তার ভীন্ন নয়।
এবারের প্রসঙ্গটিও সবার জানা। প্যারিস ট্রাজেডি।
লেখা লেখিও হচ্ছে হরদম। মানবাধীকার থেকে শুরু করে জঙ্গীবাদের চৌদ্দগোষ্ঠী হয়তো এতক্ষণে চৌদ্দহাজারেরও বেশি বার উদ্ধার করে ফেলেছেন অনেকে।
যাই হোক, যেহেতু এ ব্যপারে বলার, শোনার এবং দেখার অনেকেই আছেন, তাই এ ব্যপারে কথা বলবো না। কিছুটা ভীন্ন সম্পর্কে বলবো।
.
আজ সকালে ফেবুতে ঢোকার পর একটা বিষয় বেশ চোখে পড়ল, প্রোফাইল পিকে ফ্রান্সের (সম্ভবত) পতাকা (অনেকটা সমকামিতা-আইন সমর্থনধর্মী উপায়ে) ।
তবে এটাকে অনেকেই অনেক কিছু বলেছেন,কেও বলেছেন পাকনামী, কারও মতে আতলামী,
আবার কারও কাছে প্রশংসনীয় ইত্যাদি ইত্যাদি।
তবে আমার কাছে বিষয়টি খারাপ লাগেনি, মানুষের জন্য মানুষ সাঁড়া দিবে সেটাই তো স্বাভাবিক।
একটু আগে বিবিসির একটা রিপোর্ট দেখলাম এ প্রসঙ্গে, বিশ্বের কিছু বড় বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের (বিশেষত টুইটার) প্রতিবাদগুলো (কেবল প্যারিসের ঘটনা কেন্দ্রিক) নিয়ে করা হয়েছে, বেশ আবেগ জাগানীয়া একটা রিপোর্ট।
এ থেকে আন্দাজ করা যায়, গোটা বিশ্বই এতে নড়েচড়ে উঠেছে।
বিষয়টি সত্যিই ভাল লাগার মতো।
.
.

তবে এর ভেতর একটা দুঃখও লুকায়িত আছে।
দুঃখটা ঠিক সেখানেই হয়, যখন আমরা কেবল বাইরের খোলসটাকেই দেখতে পাই, ভেতরটা দেখতে পাই না।
গতকালের এই ঘটনার পর, আজ ফেবু কর্তৃপক্ষ নিজে থেকে সেধে আপনার পিক কালার করে দিচ্ছে, টুইটারে বিশেষভাবে আহ্বান চলছে প্যারিস কর্তৃক পোস্ট করার জন্য, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, এছাড়াও নিজেদের দিকে চোখ ফেরালে দেখতে পাবেন, ইতিমধ্যেই বেশকিছু দেশীয় চ্যানেলে প্রচার হয়ে গেছে বা হচ্ছে 'প্যারিস হামলা কর্তৃক আলোচনা' টাইপ অনুষ্ঠান।
প্রায় সবগুলো জায়গাতেই দেধার্সে দোষ দেয়া হচ্ছে 'আই এস'এর। অবশ্য যদি তারা এটা করে থাকে, তবে ধীক্কারটা তাদেরই প্রাপ্য। কিন্তু কেবল কি তারা একাই?
.

আজকের আই এস এর পেছনে কি মার্কিনীদের কোনই অবদান নেই? তাদের উপর এর দায়ভার কি একটু হলেও বর্তায় না? আজকের 'আই এস' তৈরীর এসব মূল কারিগরেরা কি ধোয়া তুলসী পাতা??
তবে কেন তাদের কেও দোষ দিচ্ছে না?
.
সত্য কথাটা জানেন কি?
আসলে জোর যার মূল্লুক তার।
.
আসলে আমাদের এই এতো আন্দোলন প্রতিবাদ মূলত কিছুই না,কেবল বস্তুত আমেরিকাকে খুশী করা ছাড়া।
.
সেটা না হলে, ফ্রান্সের পতাকার বহু আগেই ফেসবুক সয়লাব হতো ইরাক, আফগানিস্থান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, মায়ানমার কিংবা আফ্রিকার শোষিত নীপিড়িত দেশগুলোর জাতীয় পতাকায়।
টুইটারের টুইটে হাজার হাজার রিপোর্ট হতো বিবিসি/সিএনএনের মতো মার্কিনমূলুকের পা চাটা চামচাদের, যেখানে উঠে আসতো ইসরাইলি পিশাচদের গুলিতে নিহত হওয়া ফিলিস্তিনি শিশুদের শেষ চিতকারগুলো।
.
কই ??
কিছুই তো এতোদিন আসেনি।
তবে আজ কেন এতো কোলাহল??
এখানে তো কেবল দেরশোটা প্রান গিয়েছে কিন্তু যেখানে দেরশো, দের হাজার, দেরলাখ লাশের স্তুপেও যাদের ঘুমন্ত চোখ কিছুই ধরা পড়ে না, সেখানে এই দেরশো জনের কি আলাদা বৈশিষ্ট্য কিংবা সকিয়তা আমাদের আকৃষ্ট করছে?? তবে কি এই দেরশো জনই মানুষ? অন্যরা কুকুর, বেড়াল, নাকি শেয়ালের বাচ্চা????
আমার দেশে রাস্তাঘাটে মানুষ মরছে, কথা বললে গলা কাটা হচ্ছে, কিছু দেখলে চোখ উপড়ে ফেলা হচ্ছে, মানবাধীকারের হন্তদন্ত করে চৌদ্দটা বাজানো হচ্ছে, কই???
.
কেও তো বুক এগিয়ে বের হয়ে আসছে না তা রুখতে?
.
যদি এটি করার সাহস মোদের নাই থাকে, তবে কিসের উল্লাসে আমরা মাতি যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁশির রায় শুনে??
.
বরং জয় কিন্তু তাদেরই হচ্ছে, এবং পরাজিত হচ্ছি আমরা। অথচ আজ তা আমরা অনুধাবনটিও করতে পারছি না।আমার দুঃখটা সেখানেই।
আমরা আমাদের সকিয়তা হারিয়ে ফেলছি।আমরা ভেদাভেদ করতে শিখে গেছি। মানুষকে প্রাণী ভাবতে শিখে গেছি।
.
অথচ,
মানুষ হিসেবে মানুষের সেবা করবো এমনটিই মূল মন্ত্র হওয়া উচিত।কাল আমি হানিমুন কাটাতে ফ্রান্সে যাব বলে, আজকে ফ্রান্সের দুঃখে দুঃখী হয়ে নীলচে হয়ে যাব, আর আমার পাশের ঘরের রোহীঙ্গাটি বাঁচলো,নাকি কেও তার চামড়া ছিলে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখলো তার খোঁজই রাখলাম না, এমনটি হওয়া উচিত না, কখনোই না, কারণ এমনটি হলে তার মাশুলটিও গুনতে হবে আমাদেরকেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৩৫
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×