somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পয়লা বৈশাখ এবং........

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৬ ভোর ৬:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"শোনেন ভাই, পয়লা বৈশাখ মালূয়ানদের কাজ। এইসব হইল তাদের একটা পূজা। তাগোর কতো পূজা থাকে.......

আমগোর ধর্মে এইসব উৎসব পালন সম্পূর্ণ নিষেধ,নবী কি এইসব পালন করছিলেন?"
---- পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় যতটুকু শুনতে পেরেছি, তার সারাংশটা এরকমই।

বক্তা একজন টুপি-লুংগি-পাঞ্জাবি পরিহিত ব্যক্তি,
যিনি একটি জাতির জাতিগত পোষাক(লুঙ্গী) , জাতিগত ভাষা (বাংলা), জাতিগত ভূখণ্ড (বাংলাদেশ) সেই জাতিগোত্রে ভূমিষ্ঠ হবার পর থেকে কোনোরূপ সমস্যা ছাড়াই দেধার্সে ব্যবহার করে আসছেন, সেই তার কাছেই তার জাতির অন্যতম ঐতিহ্য,পরিচয়বাহক জাতীয় অনুষ্ঠান হয়ে দাঁড়ায় ধর্ম পালনের অন্তরাল!!

আসলে আমাদের ব্যাপারগুলোই যেন এরকম!!
যতো আকাজ কুকাজ আছে তা আমরা করি, অথচ যে কাজটা আসলেই করা উচিত, তা নিয়েই আমাদের পান্ডিত্যের জাহাজ একেবারে আটলান্টিক পাড় করে ফেলে!

এজন্যই বোধহয় সম্রাট আকবরের (একজন আপাদমস্তক মুসলমান শাষক) চালু করা সাল গননা, আজ চৌদ্দশ বছর পর এসে কোন এক "স্বীয় বিশালাকার ধার্মিকভাবি" খাটাসের কাছে পূজায় রূপ নিয়েছে!!

তবে এক্ষেত্রে খাটাস শ্রেণীর উপর সম্পূর্ণ দোষ চাপালে সেটাও বেশ খানিকটা দোষের কাতারে পৌছে যাবে।
দোষটা আসলে আমাদের সকলের। তথাপি সমগ্র বাঙালী জাতির।
প্রথমত জাতি হিসেবে আমরা পরনির্ভর্শীল এবং অনুকরণ প্রিয়,তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই স্বগোত্রের কাওকে নয়,ভীন্ন গোত্রের।
আর সেজন্যই বাপ যেখানে লুঙী পরে, সেখানে তার ছেলে পড়ে ফুল প্যান্ট, আবার তার ছেলে তার সময়ের অনুকরন প্রতিভা দেখানোর নমুনাস্বরূপ অঙ্কিয়দেশ ঢাকে থ্রি কোয়ার্টারে।
কথা বলায় বাপ দাদাকে অনুসরণ করে এমনও নিদর্শন হাতে গোনা।
আর রুচিবোধের বেলায় সেটা এ জাতিতে ইতমধ্যেই বিলুপ্ত।

কেবল একটা বেলাতেই এর ব্যতিক্রম চোখে পড়ে, আর সেটা হচ্ছে পয়লা বৈশাখ,
এদিন যে যার বেশভূসা ভুলে সবাই হয়ে উঠে বাঙালী, সকালে না হলেও দিনের একটা বেলাতে চৌদ্দশ বছর আগের চৌদ্দগুষ্ঠির স্মরণে (এটা স্মরণ আদৌ থাকুক আর না থাকুক) একবার চলে পান্তা ইলিশ ভোজ।

বিকেলে চলে মেলায় ঘুরাঘুরি, হাটাহাটি, ছোয়াছুয়ি, ঠেলাঠেলি, লাগালাগি...... বাকিগুলো না হয় নাইবা বললাম (যারা এসব করেন এবং করে মজা পান, তাদের না বললেও তারা তা করবে, কথায় আছে কিনা কুকুরের লেজ কখনো সোজা হয় না) !!
এরপর শুরু হয় অনলাইন আপলোডিং, বৈশাখী সাজে সাজে ভরে যায় সবার প্রোফাইল পিক!!
ধুমধারাক্কা চলে কমেন্ট, পরে লাইকের উপর লাইক।

এভাবে একটা অদ্ভূত ও আশ্চর্যপ্রকার আরম্বরের মধ্য দিয়ে কেটে যায় একদিন, দুদিন, পাঁচদিন কিংবা সর্বোচ্চ একটা সপ্তাহ।
নতুন বৈশাখের নতুন উঠা চাঁদটা পুরাতন হবার সুযোগটি পায় না, তার আগেই ফুরিয়ে যায় আমাদের বাঙালীয়ানা।
আবার ফিরে যাই সেই বানরতত্ত্বের অনুকরণ শিল্পে, ফিরে যাই এক পঙ্গু বিকলাঙ্গ অদ্ভূত কৃষ্টিতে।
অদ্ভূত জাতিই বটে আমরা!!!

তবে এবার এ অদ্ভুততার পালে এক নতুন হাওয়ার ঝাপটা খেলাম!!!

রাত বারোটা পার হবার পরই অনেকের কাছ থেকেই নববর্ষের শুভেচ্ছা পেলাম।
যারা শুভেচ্ছা দিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই শিক্ষিত এবং আত্বসচেতন, তাই বাংলা সালের তারিখগুলো যে রাত বারোটার পর নয়, বরং ভোরের মিস্টি সূর্যের প্রথম ক্বিরনের ছোঁয়ায় শুরু হয়, তারা এটা জানেন না, এটা আমি কোনভাবেই মানতে পারবো না। বরং এই যুক্তি যথেষ্ট সম্ভব যে তারাও হয়তো অনুকরন করতে করতে অন্যের দেয়া কোনো বিষয়ে বিভোর হয়ে গেছেন,যার কিনা নতুন তারিখ শুরু হয় মধ্যরাতের তিমির অন্ধকারে।
তবে সেটাও একদিক দিয়ে ভালোই, তারা একপৃষ্ঠে তো মানিয়ে নিয়েছেন, আমার মতো তো আর গিরগিটি হয়ে ক্ষণে ক্ষণে রং বদলাচ্ছেন না, যে কিনা নববর্ষে হবে বাঙালী অথচ পরদিনই চলবে পাশ্চাত্যের হোলি!!
কথায় কিন্তু আছে, গিরগিটি টাইপ মানুষ সমাজের পক্ষে ভীষন ক্ষতিকর!!

যা হোক, ভোর হয়ে গেছে, এতোক্ষন যাবত যারা আমার এই অর্থহীন পেচাল (মতান্তরে লেকচার) পড়লেন, তাদের জানাই "শুভ নববর্ষ। "

নিজে ভালো থাকুন,পাশে থাকা মানুষগুলোকে ভাল রাখুন।
আর আরেকটু বাঙালী হবার চেষ্টা করুন।ভাল কাটুক নতুন বৎসর। :-)

শুভ নববর্ষ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগের পরিবেশ এখন যথেষ্ট ভালো

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫




ব্লগে মাঝে মাঝে কোন লোক থাকে না। মাঝে মাঝে কম লোক থাকে। সাইলেন্স ইজ গোল্ডেন-নিস্তব্ধতা হিরম্ময়।এ অবস্থা বিরাজমান হওয়াতে ব্লগের পরিবেশ এখন যথেষ্ট ভালো। কোখাও কেউ নেই। ব্লগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

একলা বিকেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৫

-একা থাকো?
-না।
-কে থাকে সাথে?
-কেউ না।
-তাহলে কিভাবে বলছো একা থাকো না?
-থাকি না তো।
-কিভাবে?
-তুমি থাকো যে পাশে।
-বাহ! ………কতক্ষণ থাকি?
-সারাক্ষণ। টেবিলে বসে খাচ্ছি, তুমি সামনে। রান্না করছি, তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই লাল সূর্যের নিচে, আমরা, যারা হেঁটেছিলাম—২

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯



সেই চকচকে গ্রাফিতি মনে পড়ে। সদ্য এঁকে গিয়েছিলো। স্কুলগামী বালক-বালিকা। ঘাশ-ফুল-পাতা। অ-আ-ই-ঈ। লাল সূর্যের নিচে বেলাবেলি পাখির ঝাঁক ফিরছে কুলায়। নতুনবাজার, একশো ফিট রোড, নুরের চালা।

তার সাথে কথা বলো আকাশ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন রথো রাফি

লিখেছেন ফেনা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩



আজ অনেক দিন পর ব্লগে আসলাম। আসলে চাকুরী জীবনের প্রেসার সামলাতে সামলাতেই সময় চলে আয়, নেটে আর তেমন আসা হয় না। আজ আসলাম রাফি ভাই এর মৃত্যু সংবাদটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পোষ্টে ব্লগার অপু তানভীরের এআই আপত্তি এবং এর এআই জবাব

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০





কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

অপুতারভীরের এআই আপত্তি-
আপনার লেখা সম্পর্কে এআই মূল্যায়ন নিচে দিলামঃ
১. শূন্যতা ও উদ্ভবের ভুল ব্যাখ্যা (Misinterpretation of Void and... ...বাকিটুকু পড়ুন

×