somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন নিজেই গড়ে তুলি একটা ব্লাড ব্যাংক- Personal Blood Bank !

০৮ ই আগস্ট, ২০১৪ ভোর ৪:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ঘটনা– ১
১৯৮৮ সালে ঢাকার মতিঝিলে বন্যার পানি যেদিন উঠেছিল তার আগের দিনের ঘটনা। বাবা অসুস্থ, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত পি জি হাসপাতালে ভর্তি। অপারেশন হবে, ৩ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন, রক্তের গ্রুপ AB+। হন্যে হয়ে খুঁজছি, কোথাও রক্ত পাচ্ছি না। দুই চারজন পরিচিত যারা ছিল তাদের রক্তের গ্রুপ মিলছে না। বাহিরে প্রচুর বৃষ্টিপাত চলছে কিছুই দেখা যাচ্ছে না, এমন বৃষ্টিপাত আমি দ্বিতীয়বার আর দেখি নাই। এই বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে প্রথমে গেলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সন্ধানী, সেখান থেকে আগারগাঁও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, কাজীপাড়া, সেনপাড়া, মিরপুর ১০, ১৩, ১৪, কচুক্ষেত, ইব্রাহীমপুর। তখন ছিল এনালগ যুগ এখনকার মত ডিজিটাল যুগ (মোবাইল) ছিল না। বৃষ্টির জন্য ১০ হাত দুরের কিছুই দেখা যাচ্ছে না। রাস্তায় গাড়ী চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে, রাস্তার কোথাও কোথাও কোমর সমান পানি। আমার নিজের রক্ত দেওয়ার বয়স হয়নি, তাছাড়া আমার রক্তের গ্রুপও ভিন্ন A+। আমার পরিচিত সব জায়গায় রক্ত খোঁজার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোথাও পাইনি। মিরপুর ১৪ নং থেকে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে এবং হেঁটে হেঁটে ফার্মগেট পর্যন্ত আসি। শাহবাগ যখন নামি তখন রাত সাড়ে এগারোটা। শেষ পর্যন্ত এক ব্যাগ পেলাম এবং বাকী দুই ব্যাগ পেশাদার রক্তদাতাদের কাছ থেকে ক্রয় করে বাবার অপারেশন সম্পন্ন করি। ঐ দিনের সমস্ত ঘটনা খুব সংক্ষেপে আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি মাত্র, কিন্তু বাস্তবতা কি কঠিন ছিল তা আপনাদের বুঝাতে পারবো না।


ঘটনা – ২
দুই বছর আগের ঘটনা। রাত তিনটা নাগাদ অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন পেলাম একটা। যিনি ফোন কল করেছেন তিনিও আমার অপরিচিত। জরুরী ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন, রক্তের গ্রুপ O- রুগী একজন মহিলা, ডেলিভারির পর প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। তাছাড়া রুগী হচ্ছে ফেনীর এক ক্লিনিকে আর আমি চিটাগাং। যিনি ফোন করেছেন তিনি অনবরত কান্না করছেন। ইতিপূর্বে তার তিনটা বাচ্চা হয়েছিল সব গুলোই মারা গেছে প্রসবের পরপর। এবার বাচ্চা সুস্থ আছে, কিন্তু বাচ্চার মা’র অবস্থা খুব খারাপ। আমি তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম একটা মাইক্রোবাস ঠিক করেন, কাউকে দিয়ে রক্তের রিকুইজিশন এবং ক্রস ম্যাচিং করার জন্য রক্তের স্যাম্পল পাঠান যত দ্রুত সম্ভব। ফজর নামাযের আযান হচ্ছে এমন সময় আমার বাড়ীর সামনে একটা গাড়ী এসে পৌঁছার শব্দ পাই। দ্রুত নেমে তাদের নিয়ে আমার পরিচিত ডোনারকে তাঁর বাসা থেকে তুলে নিয়ে চলে গেলাম আন্দর কিল্লা রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, সেখানে কাউকে না পেয়ে গেলাম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সেখানে রক্ত সংগ্রহ করে এবং স্ক্রিনিং, ক্রস ম্যাচিং শেষে রক্ত দিয়ে দিলাম। সকাল আটটার আগেই রুগীর কাছে রক্ত পৌঁছে দিতে পেরেছি।



অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন:
১। আপনি কি আপনার পরিবারের সকলের রক্তের গ্রুপ কি জানেন ?
উত্তর: জানেন না।
২। আপনি কি আপনার বন্ধু-বান্ধব সকলের রক্তের গ্রুপ কি জানেন ?
উত্তর: জানেন না।
৩। আপনি কি আপনার কলিগ/ সহপাঠী সকলের রক্তের গ্রুপ কি জানেন ?
উত্তর: জানেন না।
৪। আপনি কি আপনার পরিচিত সকলের রক্তের গ্রুপ কি জানেন ?
উত্তর: জানেন না।

লক্ষ্য করুন:
আমরা অনেকেই নিজেদের পরিবারের সদস্যদের, নিকটস্থ বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠী-কলিগ, আত্মীয়-স্বজন, অর্থাৎ আমরা আমাদের খুব কাছের মানুষগুলোর রক্তের গ্রুপই জানি না। যদি জানা থাকে তা হলে নিজের প্রয়োজন এবং অনেকের উপকার করা সহজ হয়ে যাবে। আমার এই পোস্টের একটাই লক্ষ্য: সবাইকে ব্যক্তিগত Blood Bank তৈরিতে উৎসাহিত করা। কিন্তু কথা হচ্ছে ব্যক্তিগত Blood Bank বলতে কি বুঝি?

Personal Blood Bank (ব্যক্তিগত ব্লাড ব্যাংক):
আপনার পরিচিত মানুষগুলোর রক্তের গ্রুপ সংগ্রহে রাখা। এটা আসলে আলাদা কোন কাজ নয়, এটা একটা অভ্যাস। একটু লক্ষ্য করুন, আপনার পরিচিত কমপক্ষে ৫০০/৬০০ মানুষ আছে, যাদের সাথে আপনার নিয়মিত দেখা হয়, কথা হয়, ব্যক্তিগত যোগাযোগ হয়। আপনার এলাকার মানুষজন, আপনার নিকটাত্মীয়, অফিস কলিগ, আপনার বন্ধুবান্ধব এবং আরও অনেক অনেক পরিচিত-জন, ভেবে দেখুন এদের প্রত্যেকের রক্তের গ্রুপ যদি আপনার জানা থাকে, তাহলে আপনি নিজেই হতে পারেন একজন মোবাইল Blood Bank এর গর্বিত মালিক।




কীভাবে তৈরি করবেন আপনার নিজস্ব ব্লাড ব্যাংক?
আগেই বলেছি, এটা আসলে কোন কাজ নয়, এটা একটা অভ্যাস। তাই আপনাকে অভ্যস্ত হতে হবে, বন্ধু-বান্ধব যার সাথেই কথা হবে তার রক্তের গ্রুপ জেনে নিন এবং সংগ্রহে রাখুন। লিখে রাখাটা অনেকের কাছেই বাড়তি ঝামেলা মনে হতে পারে। তাই একটা টেকনিক Follow করতে পারেন। সেটা হচ্ছে আপনার মোবাইল ফোনে Contact Number লিখার সময় নামের সাথে রক্তের গ্রুপটা লিখে রাখা। একবার দেখুন তো আপনার মোবাইল ফোনে ৪০০/৫০০ নাম্বার সেভ করা আছে। সাথে যদি এদের প্রত্যেকের রক্তের গ্রুপ সংযুক্ত করা থাকে তাহলে কেমন হয়?
যেমন:
1 A Hamid ( A+ ) 016 - - - - - - - -
2 A Kayum ( O+ ) 017 - - - - - - - -
3 Abed - 8No. Line ( A-) 017 - - - - - - - -
4 Abdullah al Emran ( A+ ) 017 - - - - - - - -
5 Abdur Rahim Shohag ( A+) 016 - - - - - - - -
6 Afirun Nahar ( O+ ) 016 - - - - - - - -
7 AftabUddin ( A- ) 018 - - - - - - - -
8 Ali Hyder ( A+ ) 017 - - - - - - - -
9 Ambia Khatun ( A+ ) 015 - - - - - - - -
10 Anasur R. ( AB+ ) 016 - - - - - - - -
11 Apu ( O+ ) 017 - - - - - - - -
12 Apu ( O- ) 018 - - - - - - - -
13 Apu ( AB+ ) 018 - - - - - - - -
14 Arifur Alam ( B+ ) 018 - - - - - - - -
15 Arifur R. ( AB- ) 017 - - - - - - - -



আমার ধারণা Personal Blood Bank তৈরি করার এটাই সবচেয়ে সহজ উপায় । তবে এর পাশাপাশি ডাইরিতে লিখা রাখতে হবে । কারণ কখনও মোবাইল ফোন হারানো গেলে বা মোবাইল ফোন নষ্ট হলে সমস্ত তথ্য হারানোর আশংকা থাকে। যদি বাসায় একটা ডাইরিতে সংরক্ষণ করা থাকে যে কোন সময় কাজে লাগতে পারে। কেননা কারো রক্তের গ্রুপ কখনও পরিবর্তন হয় না। সুতরাং মাত্র ১০/১৫ টাকা দিয়ে ছোট্ট একটা ডাইরি কিনুন যেটা সবসময় আপনার ড্রইং রুমে থাকবে এবং আপনি, আপনার মিসেস, আপনার সন্তান নিজের সুবিধামত সময়ে নতুন মানুষ গুলির রক্তের গ্রুপ সেখানে লিখে রাখবেন। ব্যাস, এভাবেই একদিন, দুদিন, একমাস, দুমাস … … তিন মাস পর দেখবেন আপনার ব্যক্তিগত Blood Bank কত বড় হয়ে গেছে … … আর এভাবে আপনার সন্তানের মাঝে ছোটবেলা থেকেই একটা ভাল কাজের অভ্যাস গড়ে উঠবে ।

সুবিধা
কখনও যদি রক্তের প্রয়োজন পরে তখন খুব দ্রুত সময়ের মাঝেই রক্তের যোগান আপনার হাতের নাগালের কাছেই পাচ্ছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে আপনি রোগীকে যে রক্ত দিচ্ছেন তা বিশুদ্ধ এবং নিরাপদ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে শত ভাগ। নিজে সামান্য একটু সচেতন থাকলেই কত বড় সমস্যা থেকে নিজে যেমন চিন্তামুক্ত থাকতে পারবেন এবং দেশকে এগিয়ে দিতে বড় একটা ভূমিকা রাখতে পারবেন। এত করে যে পরিতৃপ্তি অর্জন করবেন তা আপনাকে হাজার কোটি টাকা দিলেও পাবেন না। তাই আপনার পরিচিত নিকটজনই হতে পারে আপনার সবচেয়ে নিরাপদ ঠিকানা। নিজের প্রয়োজনে যেমন লাগবে তেমনি জরুরী মুহূর্তে বন্ধু-বান্ধবের সাহায্যেও এগিয়ে আসতে পারবেন । চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে খুব কাছের আত্মীয়দের কাছ থেকে রক্ত না নেওয়াই ভালো, এতে করে পরবর্তী প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মনে রাখবেন আমাদের সব পরিচিত কাছের মানুষই কিন্তু আমাদের কাছের আত্মীয় নয় ।


পরিশেষ
আমার এই পোস্টের গুরুত্ব অনেকের কাছেই হালকা মনে হতে পারে কিন্তু যারা রক্তের ঝামেলায় পড়েছেন একমাত্র তারাই বুঝবেন রক্ত কি জিনিস । রক্তের বিকল্প শুধুই রক্ত অন্য কিছু দিয়ে হয় না। আমার এই পোস্টের উদ্দেশ্য সবার মাঝে রক্তের ব্যাপারে ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধি করা । তবে এর মানে এই নয় যে, আমরা বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংকে রক্ত দেব না। যারা নিয়মিত ডোনার, তারা অবশ্যই নিয়মিত অন্যকে রক্ত দিব। তবে সেই সাথে নিজের একটা ব্লাড ব্যাংক থাকলে বিষয়টা আরও ভাল হয় না ? মনে রাখবেন, প্রয়োজনের সময় আপনার শুধু রক্ত দরকার না, দরকার বিশুদ্ধ ও নিরাপদ রক্ত। তাই আপনার পরিচিত নিকটজনই হতে পারে আপনার সবচেয়ে নিরাপদ ঠিকানা ।

প্রতি বছর অসংখ্য লোক মারা যায় শুধুমাত্র বিশুদ্ধ রক্তের অভাবে। বাংলাদেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ রক্তের প্রয়োজন তার খুব সামান্যই আসে দেশে প্রতিষ্ঠিত ব্লাড ব্যাংক গুলো থেকে। আপনার সামান্য উদ্যোগই এ দেশকে গড়ে তুলতে পারে রক্তে সাবলম্বি দেশ হিসাবে।

ছোট ছোট বালুকণা বিন্দু বিন্দু জল
গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল ।
আসুন আজ থেকেই শুরু করি এবং অন্যকেও উৎসাহিত করি ।




৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×