
কয়েকদিনের পত্রিকা ঘাটাঘাটি করে যা বুঝলাম,প্রতিবছর যতটা বাজেট ঘোষণা করা হয়,বাস্তবায়নের দিকটা ততটা নাজুক।একরকম আশানুরূপ বাণীর মতো,স্বপ্নের পসরা সাজানোর মতো ।বাজেটের মাধ্যমে দেশের অর্থবছর কোনদিকে মোড় নিবে সেটার নমুনা উন্মোচন করা হয়।একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে কোথায় কত ব্যয় হবে সেই অনুযায়ী প্রত্যেক বছরের মাঝামাঝিতে (জুন মাস) বাজেট ঘোষণা করা হয়।রাষ্ট্র আগে ব্যয়ের খাতগুলো নির্ধারণ করে এরপর ঠিক করে কোথা থেকে অর্থ আসবে।অর্থাৎ খরচ বুঝে আয় করা।আয়ের সাথে ব্যয়ের সামজ্ঞস্য না হলে রাষ্ট্র দেশ বিদেশ থেকে অর্থ ধার করে।আয়ের উৎসগুলো যদি দেখি...
১।প্রত্যক্ষ কর... ব্যক্তি শ্রেণীর আয়কর,ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের আয়ের উপর কর(কর্পোরেট কর), দান কর,উত্তরাধিকার কর,যানবাহন কর,মাদক শুল্ক,ভূমি রাজস্ব ইত্যাদি। ২।পরোক্ষ কর...আমদানি কর,আবগারি শুল্ক,ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর,সম্পূরক শুল্ক ইত্যাদি ।
৩।এছাড়াও সরকারি প্রতিষ্ঠানের লাভ-সুদ,সাধারণ প্রশাসন থেকে আয়,ডাক-তার-টেলিফোন থেকে আয়,পরিবহন আয়,জরিমানা দণ্ড থেকে আয়,ভাড়া-ইজারা-টোল ও লেভি থেকে আয় ইত্যাদি এগুলোকে বলে করবর্হিভূত আয়।
বাজেট দুধরনের, সুষম বাজেট,অসম বাজেট।সুসম বাজেট হচ্ছে মোট আয় এবং মোট ব্যয় সমান।সুষম বাজেট মূলত উন্নত রাষ্ট্রগুলো করে থাকে।তবে প্রতিবছর সুষম বাজেট করা সম্ভব নয় ।উন্নত বা ধনী রাষ্ট্রগুলো বাণিজ্যচক্র মেনে অর্থাৎ অর্থনীতির ওঠানামার সাথে সমন্বয় করে সুষম বাজেট ঘোষণা করে। আইন করেও সুষম বাজেট তৈরি করে অনেক উন্নত রাষ্ট্র।যুক্তরাষ্ট্রের বেশীর ভাগ রাজ্যে এই আইন আছে।সুইজারল্যান্ড,ইতালি,অষ্ট্রিয়াসহ বেশ কিছু উন্নত দেশে সুষম বাজেট প্রণয়নের আইন আছে।
অসম বাজেট হচ্ছে আয় এবং ব্যয় অসমান ।অসম বাজেট দু ধরনের হয় উদ্বৃত্ত বাজেট ও ঘাটতি বাজেট।ব্যয়ের তুলনায় আয় বেশী হল উদ্বৃত্ত বাজেট।এর উল্টোটাই হচ্ছে ঘাটতি বাজেট।ব্যয় বেশী,আয় কম।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন নিয়মিতভাবে সুষম বাজেট তৈরি করলে সুদের হার কমায়,সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বাড়ায় বটে কিন্তু দেশের অর্থনীতি মন্থর গতিতে,দীর্ঘমেয়াদে অগ্রসর হবে।আমাদের মতো দরিদ্র,উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে অসম বাজেটে থাকা ভালো।এতে অর্থনীতিতে উদ্দীপনা বাড়ে,অব্যবহৃত সম্পদের ব্যবহার বাড়ে,ঘাটতি পূরণের চাপ থাকে।
কথা হচ্ছে আমাদের দেশে প্রতিবছর অসম বাজেট ঘোষণা করা হয়।অসম বাজেটে ঘাটতি পূরণের চাপ থাকে মানলাম কিন্তু চাপ সামলানোর প্রেক্ষাপট কি আদতে তৈরি হচ্ছে।বছরের পর বছর বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত,নতুন মূল্য সংযোজন কর আইন প্রণয়ন করেছেন তা কতটা ফলপ্রস্রু হচ্ছে? আমাদের দৈনন্দিন চাহিদার উপর উপচেপড়া চাপ কি দেয়া হচ্ছে না?অব্যবহৃত সম্পদের ব্যবহার বাড়ে অসম বাজেটে কিন্তু আমরা যা ব্যবহার করছি তা কি স্বয়ং সম্পূর্ণভাবে করতে পারছি?আমাদের আয়ের উৎস কি বৃদ্ধি পাচ্ছে? যা আছে সেগুলোরই তো সদ্ব্যবহার করতে পারছি না।সরকারি ভাবে ক্ষেত্র তৈরি এবং ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছি কই?
শিক্ষার কি মূল্যায়ন হচ্ছে? মেধানুযায়ী কি চাকরি হচ্ছে ? চাকরির প্রেক্ষাপট অত্যন্ত নাজুক,ভয়াবহ।মেধা খাটানোর সুযোগ হচ্ছে না।ইঞ্জিনিয়ার পড়ে দেশে থাকা হচ্ছে না, পরিমিত সরঞ্জাম,পরিমিত প্রেক্ষাপট,মেধার মূল্যায়ন নাই বিধায়।শিক্ষা ব্যবস্থাপনার ভয়াবহ চিত্র বাড়ছে দিনকে দিন।এরকম বাজেট "গাছে কাঁঠাল,গোঁফে তেল দেয়া" মতই নয়কি?
সরকারের আগে দৃষ্টিকোণ দেয়া উচিত আয়ের উৎস বাড়ানো ।অযথা ভ্যাট,শুল্ক বাড়িয়ে সাধারণ জনগণের হয়রানি!এটাকে একধরনের শোষণও বলা চলে । শতকরা ১৫ ভাগ ভ্যাট চাপিয়ে দিয়ে মানসিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে ।এতে করে হিতে বিপরীতও হতে পারে,চুরি,ছিনতাই,ডাকাতি বাড়তে পারে। আয়ের জন্য অনেকে উন্মুখ হয়ে থাকে কিন্তু সুযোগ পাচ্ছে না,প্রেক্ষাপট পাচ্ছে না,ক্ষেত্র-বিশেষের বড্ড অভাব।আগে দৃষ্টিপাত দেয়া উচিত আয়ের উৎস কিভাবে বাড়ানো সম্ভব? ক্ষেত্র কিভাবে তৈরি করা যায়?
অর্থনীতিবিদদের কথিত সূত্র অনুযায়ী চললে,আমাদের দেশের অর্থনীতি চলমান,উন্নয়নশীল না হয়ে মুখ থুবরে পরে শিথিল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। দেখতে উচিত বাস্তবিক দিক,আমাদের প্রেক্ষাপট,বাস্তবায়ন যোগ্য কি না।আমাদের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী,আমাদের বার্ষিক বাজেট করা শ্রেয় বলে মনে করি ।
তথ্যসূত্র প্রথম আলো
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০১৭ দুপুর ১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




