somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কাইকর
অনেক বড় মাপের একজন মানুষ হতে চাই। কারণ- ভালোবাসার মানুষটির নাম ছোট্ট কোন মঞ্চে দাঁড়িয়ে থেকে বলতে চাইনা, ভালবাসার মানুষটির নাম বড় কোনো মঞ্চে দাঁড়িয়ে থেকে বলতে চাই।আই লাভ ইউ (মা)

"আমাদের বাবা-মা ও আমাদের শিক্ষানীতি"

১৪ ই জুন, ২০১৮ দুপুর ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাবা-মা চায় তার সন্তান ভালোভাবে পড়াশোনা করে ভালো একটা চাকরি করুক। এইজন্য তারা তাদের সন্তানের অনেকভাবে পড়াশুনার জন্য চাপ দেই। পড়াশুনার জন্য চাপ দেওয়া দরকার। সেটা যদি আমার সন্তান হয় তাহলে আমিও চাপ দিতাম। কিন্তু বেশীরভাগ বাবা-মা তাদের সন্তানদের জোর করে "বিজ্ঞান " শাখায় পড়াশুনা করার জন্য বাধ্য করেন। কিন্তু কতজন সফল হয়??

আপনার সন্তান কি নিতে পাড়বে "বিজ্ঞান" শাখার পড়াশুনার চাপ?? তাকে জিজ্ঞাস করার কি কোন দরকার নেই?? আমার জানামতে হাজার-হাজার ছাত্র-ছাত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজে পরিক্ষা দিয়ে পাস করতে পারে না। কিন্তু কেন??
আমেরিকা বা ইউরোপ অঞ্চলে তাদের সন্তানদের বারো বছর বয়সে তাদের ইচ্ছার কথা শোনেন। তারা কি হতে চায় বা কি করতে চায়। যে যা হতে চায় বা যা নিয়ে পড়াশুনা করতে চায় তাকে সেটা নিয়েই পড়াশুনা করতে দেওয়া হয়। এজন্যই ওইসব অঞ্চল থেকেই বড়-বড় ডাক্তার, খেলোয়াড়, বিজ্ঞানী বের হয়। আপনারা বলতে পাড়েন তারা উন্নত দেশ। কিন্তু আমাদের বাবা-মা কি তাদের সন্তানের ইচ্ছার কথা একবারও শুনে?? তারা শুধু ব্যস্ত তাদের স্বপ্ন নিয়ে। তাদের সন্তানদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে তা না হলে চলবে না। আগে আপনার দেখা উচিৎ, আপনার সন্তানকে যেই চাপ দিতে চাইছেন সেটা সে নিতে পাড়বে কি না বা তার ইচ্ছার কথা শুনুন।

শুধু বড়-বড় নামকরা স্কুল -কলেজে ছেলেকে পড়ালেই হবে না।একটু বুঝার চেষ্টা করুন আপনার সন্তান কি করতে চায় বা হতে চায়।এইসব নিয়ে লিখতে গেলে অনেক কিছুই লেখার বা বলার আছে। কিন্তু আমি নিজেও জানি আমার এই কথার কোন দাম নেই বা মানে নেই কারো কাছে। তারপরেও আমি লিখলাম। যতদিন না এইসব আমাদের দেশের বাবা-মা না মানবে, না করবে ততদিন আমাদের দেশ থেকে বড়-বড় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং বিজ্ঞানী তৈরি হবে না।

আপনার ছেলেকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে?? আর কি কিছু নেই আমাদের দেশে?? তার চাইতে বড় কথা আপনার ইচ্ছার চিন্তা বাদ দিয়ে একবার জিজ্ঞাস করুন আপনার সন্তানের ইচ্ছাটা কে। আপনাদের মতো বাবা-মার জন্য আজ দেশের হাজার-হাজার শিশু। আত্মহত্যা বা পড়াশুনা ছেড়ে দিচ্ছে শুধু আপনাদের ইচ্ছার জন্য।
এবার আসল কথায় আসি : এসএসসি পরিক্ষার পরে অনেক ছেলে-মেয়ের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়। কেউ পারিবারিক কারণে পড়াশুনা ছেড়ে দেয় আবার মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বেশিরভাগ পড়াশুনা বন্ধ হবার কারণ ছেলে-মেয়েরা যখন ফেল করে। তখন তাদের মন খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু কেন এই ফেল??
আমাদের দেশে সাধারণত জে.এস.সি পরিক্ষার পর ছাত্র-ছাত্রী কে যে কোন বিষয় নিয়ে আলাদাভাবে পড়াশুনা করতে হয়। আমাদের দেশে তিনটি শাখা আছে : মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায়ী শাখা। এই তিনটি শাখার মধ্যে "বিজ্ঞান" শাখাতে সবসময় বাবা-মা চায় তার সন্তান পড়াশুনা করুক তাতে করে তার সন্তান বড় ডাক্তার হতে পাড়বে। কিন্তু ডাক্তার হতে পারে কতজন?? পরিশেষে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে না পেরে অনেক ছাত্র ছাত্রী আত্মহত্যা বা পড়াশোনা বন্ধ করে দেন। আর ঢাকা শহরে "বিজ্ঞান" শাখার পর "ব্যবসায়ী " শাখাতে ছেলে-মেয়ে বেশী পড়াশুনা করে আর "মানবিক" শাখায় একেবারে যারা খারাপ ছাত্র-ছাত্রী তারা পড়াশুনা করে। হয়তো কিছু সংখ্যক ভালো ছাত্র ছাত্রী মানবিক শাখায় পড়াশোনা করে। আমার প্রশ্ন "মানবিক "শাখা নিয়ে।

আমরা সবাই ভাল করেই জানি, যারা অনেক খারাপ ছাত্র-ছাত্রী তারা "মানবিক" শাখায় পড়াশুনা করে। তাহলে এস.এস.সি তে কেন "মানবিক"শাখায় গনিত নামে এক কঠিন বিষয় রাখা হয়েছে?? যারা মানবিক শাখায় পড়াশুনা করে তাদের কি প্রয়োজন এস.এস.সি তে গনিত বিষয়ের???তারা খারাপ ছাএ-ছাএী বলেই "মানবিক"শাখা নিয়ে পড়াশুনা করছে তাহলে কেন গনিত?? যদি এস.এস.সি পরিক্ষার পর "মানবিক"শাখায় গনিত বিষয় থাকতো তাহলে কোন সমস্যা ছিলো না। যেহেতু, এস.এস.সি পরিক্ষার পর গনিত বিষয় নেই তাহলে কেন এস.এস.সি তে গনিত বিষয়??
বাংলাদেশে সাধারণত পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় এসএসসি পরীক্ষার পর। তার বড় কারণ- ছেলে-মেয়েরা ফেল করে আর পরবর্তীতে পড়াশুনা করতে চাইনা।আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা ৮০ ভাগ ফেল করে "গনিত " বিষয়ে। আমার প্রশ্ন : যেহেতু, আমরা জানি "মানবিক" শাখায় যে ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনা করে তারা একটু পড়াশুনায় খারাপ তাহলে কেন তাদের এস.এস.সি তে গনিত নামে অতিরিক্ত একটি বিষয় তাদের কাধে তুলে দেওয়া হয়?? তাদের তো কোন প্রয়োজন নেই এই বিষয়ের। অধিকাংশ ছেলে-মেয়ে গনিতে ফেল করে পড়াশুনা বন্ধ করে দিচ্ছে আর এদের বেশীরভাগ ছেলে-মেয়ের "মানবিক"শাখার। তারা অন্যসব বিষয়ে পাস করলেও গনিত বিষয়ে পাস করতে হিম-শিম খাচ্ছে। কেন তাদের কাধে অতিরিক্ত বিষয় তুলে দিয়ে আমরা তাদের স্বপ্ন এবং ভবিষ্যত নষ্ট করে দিচ্ছি। "মানবিক" শাখায় গনিত বিষয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞান বিষয়ের কোন প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি এটাও অতিরিক্ত একটি বিষয়।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৮ দুপুর ১:১৪
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রূপালী হ্রদের তীরে অপরূপ দ্রাক্ষাকুঞ্জে ঘুরে আসা একবেলা ( ছবি ব্লগ)

লিখেছেন জুন, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:১৯


সিলভার লেকে আপনাকে স্বাগতম

গালফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনোদন মূলক পোষ্ট

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১১:৪৯



ফেসবুকে বাংলা সিনেমার একটা ছোট্র ভিডিও ক্লিপ দেখলাম।
ভিডিও ক্লিপটি দেখে আমি মুগ্ধ! প্রচন্ড মেজাজ খারাপ ছিল, ভিডিওটি দেখে মেজাজ স্বচ্ছ দীঘির পানির মতো ঠান্ডা হয়েছে। বাংলা সিনেমাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাইফ অব Dুবাই যাপিত জীবন-৬

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১১:৫০


সমস্ত'টাতে রুক্ষ মরুর হাহাকার ধরে রাখা এ শহর- যত্নে আদরে লাবণ্য কিনে আনে !

প্রকৃতি অনাদরে রাখলে ও এখানকার মানুষগুলো বিষের বালিতে শুদ্ধ হয়ে মুক্তা ফলাতে শিখেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

৪০ ফলের এক গাছ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:২১




পৃথিবীতে যে কত অদ্ভুত ঘটনা ঘটে চলেছে তার কোন শেষ নেই। কিছু কিছু রহস্য অমীমাংশীত। আর কিছু রহস্য সৃষ্টি করেছে মানুষ নিজেই। যুক্তরাষ্ট্রের পেন্সিলভানিয়ার স্যাম ভেন অ্যাকেন এক গাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"অনাগত কাব্যের অসম্পূর্ণ কচড়া"... বছরের প্রথম কবিতা সংকলন-২০১৯!!

লিখেছেন বিজন রয়, ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৫

বছরের প্রথম কবিতা সংকলনে আপনাকে স্বাগতম!


বই উৎসবঃ

বছরটা শুরু হয় আমাদের বই আর বই উৎসবে, এটা আমার খুব ভাল লাগে। কেননা এই বই উৎসবের মধ্যমনি হলো আমাদের নিষ্পাপ শিশুরা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×