somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রেপ হওয়ার হাত থেকে আপনি কি পারবেন এই লামিয়াদের বাঁচাতে???"

২০ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক বোনের কথা ............................
"আমি লামিয়া, এবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি
পরীক্ষা দিয়েছি কিন্তু কোথাও সুযোগ পায় নি।আমি ছাত্রী হিসাবে প্রথম সারির ছিলাম বরাবর।ফলাফল নিয়ে কখনও আমাকে পিছিয়ে থাকতে হয় নি বা ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় বাধা হতে পারে নি।তবে কেন আমি কোথাও টিকলাম না????
<
একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার কথা বলি.....
খুব সকালে রেডী হয়েছি পরীক্ষা দিতে যাব।এখন বাস পাওয়াটা খুব মুশকিলের ব্যাপার।বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি একটা বাস আসল কিন্তু বাসের মহিলা আসনের দিকে তাকিয়ে কোন মহিলা দেখতে পেলাম না। তাই সেই বাসে আর উঠলাম না।এভাবে বাসে না উঠতে না উঠতে অনেকগুলো বাস চলে গেল চোখের সামনে দিয়ে তারপরেও সাহস পাচ্ছি না। একা একটা মেয়ে এতগুলো ছেলে বোঝাই বাসে উঠতে।শেষপর্যন্ত একটা বাসে উঠলাম। কিন্তু উঠার সময় আমার জীবনে সবচেয়ে ঘৃনিত ঘটনা ঘটল।সিঁড়ি দিয়ে উঠতে যাব ঠিক সেই মুহুর্তে হেল্পার সাহায্য করার ছলে আমার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিল।চোখ বন্ধ করে কান্না আটকানোর চেষ্টা করলাম।ঠোঁট দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে এই লজ্জা ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করলাম, ঠোঁট কেটে রক্ত বের হল। এই রক্ত দেখা যাচ্ছে কিন্তু আমার মেয়ে হয়ে জন্মানোর অপরাধে মনে যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তা কেও দেখছে না।এতগুলো ছেলে এই দৃশ্য দেখেছে আর উপভোগ করেছে।
<
পরীক্ষার হলে গেলাম এখানে আরেক চিত্র।ছোট একটা বেঞ্চে তিনজন বসার ব্যবস্থা। আর আমারও সেই লেভেলের ভাগ্য সিট পড়ল মাঝখানে আর দুই পাশে দুইটা ছেলে।ছেলেগুলো যখনই আমার দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছে তখনই আমি আঁৎকে উঠছি।আর আমি যখনই আমার ডান হাত টেবিলের উপর উঠিয়ে বৃত্ত ভরাট করছি ডানপাশের ছেলেটা ঠিক তখনই আমার শরীরের দিকে তাকাচ্ছে।আসলে আমি মাদ্রাসার ছাত্রী তাই কখনও ছেলেদের সংষ্পর্শে আসি নি। বা কোন ছেলের সাথে কথা বলা তো দূরে থাক এরকম নগ্ন দৃষ্টিরও স্বীকার হই নি।কারন আমি ছোট থেকেই মহিলা মাদ্রাসায় আলিম(এইচ.এস.সি) পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি।আর আমি মাদ্রাসায় গণ্ডিতে যখন চলাফেরা করতাম তখন আমার এই পোশাক বোরকা নিয়ে খুব নিরাপত্তা অনুভব করতাম।মনে করতাম আমার পোশাক তো ঠিকই আছে তাহলে বখাটে ছেলেদের নিয়ে আমি চিন্তা করব কেন??
<
যাই হোক এই মানসিক অবস্থা নিয়ে পরীক্ষা দেওয়া যায় না।আমিও কয়েকটা বৃত্ত ভরাট করে আর পারলাম না।অশ্রুবিহীন কান্না করতে করতে হল থেকে বেরিয়ে আসলাম।"
<
এটা আমাদের দেশের হাজারও লামিয়ার ভিতরে একজন লামিয়ার গল্প।যে দেশের জনগন যতদিন নিরাপত্তা অনুভব করবে না সে দেশে ততদিন শান্তি ফিরে আসবে না।সেটা হোক আর্থিক নিরাপত্তা, জীবনের নিরাপত্তা বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মান সম্মানের নিরাপত্তা।বনের ভিতরে বাঘের ভয়ে তাড়া খাওয়া হরিনেরও একটা নিরাপত্তা থাকে যখন সে তাড়া খায় তখন তার সাথে তার আশেপাশে অন্যান্য হরিনরা থাকে।কিন্তু আমাদের সমাজে এই মেয়েদের প্রতি আমাদের অধিকাংশের শুধু নগ্ন দৃষ্টিই থাকে।যেই দৃষ্টি দেখে এই মেয়েরা সাহায্য চাওয়া তো দূরের কথা ভয়ে আরও কুঁকড়ে যায়।
<
কিছু কিছু পুরুষ নামক পশুর জন্য সত্যিই আমাদের লামিয়ারা আজ বড্ড অসহায়। এই লামিয়ারা মেয়ে হয়ে জন্মানোকে জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসাবে ধরে নিয়েছে। এই লামিয়াদের চিন্তা হল পুরুষ মানে খাদক। পুরুষরা শুধুমাত্র তাদের ছিঁড়ে খাওয়ার জন্যই ওত পেতে আছে। তাই এরকম হাজারও লামিয়া নিজেকে চার দেয়ালের আড়ালে আটকে ফেলেছে। তাদের কাছে চার দেয়ালের বাইরের পৃথিবী অত্যান্ত ভয়াবহ।
<
আমরা কি পারব এই ধরনের পুরুষ হওার কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে। নাকি গুটি কয়েক পুরুষ নামক পশুকে রুখতে না পেরে আমরা ঘরে চুরি পড়ে বসে থাকব???
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১:২৬
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবননগর

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।



বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে দেশটি নেপালের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির বন্যা আসার আগেই চাকরির বাজারে খরা!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬



জুলাইয়ের পর বলা হয়েছিল দেশে নাকি চাকরির বন্যা বয়ে যাবে। অর্থনীতি ঘুরে দাড়াবে, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাবো। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিও হবে।

দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থানের অবস্থা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি তাহলে গুহা যুগে ফেরত যাচ্ছি?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫০



বিশ্ব যেখানে উন্নতির প্রতিযোগিতা করছে, কীভাবে জীবনমান আরও উন্নত এবং সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে আর আমরা ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটছি। চারদিকে ভয়াবহ অবস্থা!! চাঁদাবাজি, খুন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

।। রাশিয়ার মতো বাংলাদেশে হামলা করুক ভারত।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১২


আমি আজ পর্যন্ত আম্লিগে কোন ভালোমানুষ খুঁজে পাইনি। আম্লিগ মানেই ইয়ের বাচ্চা। আম্লিগ মননে মগজে ধর্ষক, লুন্ঠনকারী, দেশদ্রোহী ও পাচারকারী। এদের মাঝে কোন কালেই কোন ভালোমানুষ ছিলোনা বর্তমানেও নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×