(অনেকদিন পর পুরনো ডায়েরীর সিরিজটায় ফিরে আসললাম)
।
আমাদের হল থেকে মসজিদটা সামান্য
দূরে। হেঁটে যেতে আমার মোটামুটি পাঁচ
মিনিট লাগে। অবশ্য আমার হাঁটার গতি
একটু বেশী। এই হাঁটার জন্য আমার অনেক
বন্ধুই বলে “কিরে তুই কাউকে মারতে
যাচ্ছিস নাকি?” যাই হোক দুই তিনদিন
আগে ফযরের নামাযে যাচ্ছি মসজিদে।
চারপাশে ঘন কুয়াশা ঘিরে রেখেছে। ইটের
রাস্তার ল্যামপোস্টে জ্বলা লাইটের
ঘোলাটে আলো ছাড়া আর কিছুই দেখা
যাচ্ছে না। আম্মুর দেওয়া লাল শালটা
গায়ে জড়িয়ে কাঁপতে কাঁপতে মসজিদে
পৌঁছালাম। নামায শেষে হুজুর অসাধারন
একটা অভ্যাস করার কথা বললেন। বললেন
ফযরের নামাযের পর সবুজ ঘাসের দিকে
অনেকক্ষণ সময় নিয়ে তাকিয়ে থাকতে ।
এতে নাকি চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়ে।
।
নামায শেষে রুমে ফিরছি। রাস্তার পাশে
বিন্দু বিন্দু শিশির জমা ঘাসে খালি
পায়ে হাঁটতে খুব ইচ্ছা করল। স্যান্ডেলটা
খুলে হাতে নিলাম। এরপর খালি পায়ে
শিশির ভেজা ঘাসের উপর আস্তে আস্তে
নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে লাগলাম।
ঠিক সেই মুহুর্তে কিভাবে যেন আমার
ছোটবেলায় চলে গেলাম। তখন খুব ছোট
ছিলাম সম্ভবত আমার বয়স সাত কিংবা আট
ছিল । তখন একবার.........
আমি আমার আব্বুর কোলে চড়ে ফযরের
নামায পড়ে বাসায় ফিরছিলাম সেই
সময়টাও ছিল প্রচন্ড শীতের সময়।
হঠাৎ করে আব্বুর কাছে বায়না ধরলাম আমি
খালি পায়ে শিশির ভেজা ঘাসে হাঁটব।
আব্বুতো কোনমতেই তার কোল থেকে
আমাকে নিচে নামতে দেবেন না। অনেক
জোরাজুরি করার পর শেষে হাঁটার অনুমতি
দিলেন ভেজা ঘাসে।
সেদিনের সেই মুহুর্ত আজকে হঠাৎ মনে পড়ে
গেল। সেদিনের বাবার বলা কথাগুলোও
কানে বেজে উঠল।
।
সেদিন আব্বুর পাশে আব্বুর হাত ধরে খালি
পায়ে হাঁটছি আর বাবা বলছেন “দেখেছ
বাবা আজকে তুমি কত সুন্দর ঘাস দেখতে
পাচ্ছ, পা শিশিরে ভিজিয়ে হাঁটতে পারছ।
এগুলো কিভাবে সম্ভব হল জানো? এই যে
তুমি আজকে আল্লাহর কথা শুনে ফযরের
নামায পড়তে এসেছ তাই আল্লাহ তোমাকে
তার এই সুন্দর সৃষ্টি উপভোগ করার সুযোগ
দিয়েছেন। যদি তুমি আজকে ফযরের নামায
পড়তে না আসতে তবে কি এই সুন্দর দৃশ্য
দেখতে পেতে? পেতে না। তাই সব সময়
আল্লাহ যা যা করতে বলেছেন সেগুলোই
করবে। তাহলে আল্লাহ তোমাকে তার রহমত
থেকে কখনও বঞ্চিত করবেন না, সারা
জীবন তাঁর রহমতের চাদরে তোমাকে
জড়িয়ে রাখবেন।’’
।
সেদিন সেই কথাগুলোর মানে বুঝতে পারি
নি। কথাগুলো কেমন যেন খুবই গুরুগম্ভীর
লেগেছিল। শুধু অপলক নয়নে আব্বুর দিকে
তাকিয়ে থেকেছিলাম। আর আব্বুর কাছে
আবদার করেছিলাম যেন আমাকে প্রতিদিন
ফযরের নামাযে নিয়ে আসে। আল্লাহর
রহমত যে এত বেশী হতে পারে সেদিন না
বুঝলেও আজকে বুঝতে পারি। ফযরের
নামাজের পর যখন সবুজ ঘাসের দিকে এক
দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি তখন মনটা শীতল
হয়ে যায় ,মনে হয় আত্মার শান্তি বুঝি
একেই বলে ।
আব্বু দোয়া কর আমার জন্য আমি যেন
তোমার আদর্শ আজীবন এই বুকে লালন করতে
পারি। যেন ঈমান নিয়ে এই পৃথিবীতে শেষ
নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারি।
।
ক্ষনিকের ডায়েরী
পর্ব-৪
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




