(আলহামদুলিল্লাহ্ ২০১৬ এর শেষের দিকে শুরু করা ক্ষনিকের ডায়েরী আজ ৬ষ্ঠ পর্বে উপনীত হয়েছে। আপনাদের সহযোগীতা থাকলে আরও বেশ কয়েক পর্ব লেখার ইচ্ছা আছে ইন-শা-আল্লাহ)
.
একসময় প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকতে খুব ভাল লাগত। কখনও এমন হয়েছে যে আমি ফযরের সালাতের পর বারান্দায় সবুজ ঘাসের দিকে তাকিয়ে আনমনা হয়ে বসে আছি আর মা চা দিয়ে গেছে। খেয়াল হওয়ার পর চা খেতে গিয়ে দেখি পুরো চা ঠান্ডা। এটা ছিল খুব ছোটবেলার কথা। এরপর আস্তে আস্তে বড় হলাম।
.
এরপর যখন একটু বড় হলাম। কোর'আন পড়া শিখলাম তখন ভাল লাগত আমার চেয়ে ছোট বাচ্চাদের কোর'আন পড়া দেখতে। এরকমও হয়েছে বাচ্চাদের কোর'আন পড়া শুনে কিছুক্ষণের জন্য থ হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছি। এরকম ঘটনা একবার ঘটেছিল তখম ফাইভ কি সিক্সে পড়ি। মাদ্রাসায় যাওয়া আসা করতাম সাইকেলে। একবার খুব সকালেই সাইকেল নিয়ে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বের হলাম। একটা মসজিদের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অনেকগুলো বাচ্চার চিৎকার করে কোর'আন পড়ার শব্দ শুনতে পেলাম। কোর'আনের আয়াত কানে প্রবেশের পর কি হল বুঝতে পারি নি। ব্রেকে হাত দিয়ে থমকে দাঁড়ালাম আর মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনতে লাগলাম তিলাওয়াত। রক্তে কেমন একটা স্রোত বয়ে গেল তখন।
.

.
আরেকটা দৃশ্য দেখলাম কিছুদিন আগে। টিউসনি থেকে ফিরছি আসরের কিছু পরে। দেখলাম এক ঝাঁক পিচ্চি পিচ্চি ছেলে রাস্তা পার হচ্ছে। প্রত্যেকের গলায় লাল কাপড়ে মোড়ানো কোর'আন ঝুলানো আর হাতে রেহাল। ঠিক তখনই আমি দাঁড়িয়ে গেলাম। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রত্যেকটা পিচ্চির রাস্তা পার হওয়া দেখলাম। প্রত্যেকটা পিচ্চি রাস্তা পার হওয়ার পর আমি ঐ স্থান ত্যাগ করলাম।
.
জানি না কেন এই দৃশ্যগুলো খুবই ভাল লাগে। পাঁচ সাত বছরের একটা পিচ্চি মেয়ে রেহালের উপর রাখা বিশাল সাইজের একটা কোর'আন ঝুকেঁ ঝুকেঁ পড়ছে এরচেয়ে দামী এরচেয়ে পবিত্র দৃশ্য বোধহয় আমি দ্বিতীয়টি পাব না। কি মধুর তাদের কন্ঠ! কতটা মায়া, দরদ এই কন্ঠে!
.
আল্লাহকে মাঝে মাঝে জিজ্ঞাস করতে ইচ্ছা করে হে! আল্লাহ কিভাবে কালো কালির কিছু লেখার ভিতর এত মায়া থাকতে পারে? কিভাবে একটা কিতাব একটা মানুষকে থমকে দিতে পারে? কিভাবে কতগুলো লেখা পড়ে মানুষের চোখে পানি আসতে পারে।?
মন উত্তর দিয়ে দেয় হে আল্লাহ! আপনি মহান, আপনার প্রদত্ত কোর'আনুল কারীম মহান।
.
ক্ষনিকের ডায়েরী
পর্ব -৬
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



