somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"ফেরা/ক্ষনিকের-ডা্য়েরী-১৭"

২১ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৯:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি আমার চোখের সামনে পরিবর্তিত হতে দেখেছি বেশ কিছু মানুষকে। ছাত্রাবস্থায় এবং চাকুরী জীবনে আমার আশেপাশের বেশ অনেক মানুষকে দেখেছি ইসলামের প্রতি গা ছাড়া ভাব থেকে সিরিয়াস অবস্থায় রুপান্তরিত হতে। নাম উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছিনা। এরকম এক বন্ধুর কথা নিয়ে আজকের ক্ষনিকের_ডায়েরী।

ছেলেটার সাথে আমার প্রথম পরিচয় অফিস রেসিডেন্সের ডাইনিং রুমে। ডাইনিং টেবিলে বসে রাতের খাবার খাচ্ছিলাম তখন ছেলেটা আমার সামনে এসে বসল খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে। ও বলা হয়নি, ছেলেটা আর আমি একই ডিপার্টমেন্টে আছি। তো ছেলেটা আমাকে জিজ্ঞাস করল, " তুমি চাইনিজ অনুষ্ঠানে যাওনি?" (বলে রাখা ভাল। যেদিন তার সাথে আমার কথা হচ্ছে তার দুই একদিন আগে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে চাইনিজ নিউ ইয়্যার উদযাপন উপলক্ষ্যে এক জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নাচ গান খাওয়া দাওয়া এইসব আরকি।)"
আমি তার উত্তরে বলেছিলাম, "না যাইনি। আসলে আমি গান বাজনা তেমন একটা পছন্দ করিনা।" সেদিন আমি ছেলেটার মুখে বিষ্ময় দেখেছিলাম। হয়তো ভেবেছিল, এই যুগে এসে গান শোনে না বা পছন্দ করেনা এরকম হয় নাকি?

যাইহোক সেদিন থেকে তার সাথে আমার পরিচয়। খুব মিশুক এবং সফট হার্টেড একটা ছেলে। দেখা হলেই গল্প হয় আমাদের দুইজনের মধ্যে। আমার নগন্য জ্ঞান থেকে তাকে টুকটাক দেওয়ার চেষ্টা করি। সেও তার বিভিন্ন নলেজ আমার সাথে শেয়ার করে। ভাষা শিখার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ। জাপানিজ ভাষায় দক্ষ বন্ধুটি এখন চাইনিজ শিখছে। আমি তার সাথে শেয়ার করি আমার অন্ধকার জীবন থেকে আলোতে আসার ঘটনাগুলো। নওমুসলিমদের জীবনি পড়ে কীভাবে ইসলামকে জানার প্রতি আমার আগ্রহ তৈরী হল। কি কি বই পড়েছি, পড়ছি ইসলামকে জানার জন্য। এসব গল্প করতাম তার সাথে প্রায়ই। ভার্সিটি লাইফের অনুভুতি, স্কুল কলেজে কিরকম কি করেছি এই সব খুটিনাটি বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা চলতো প্রায় দিনই। এভাবে আস্তে আস্তে কয়েকমাস কেটে গেল।

এবার বলছি গত কয়েক রাত আগের কথা। তার সাথে আমার বন্ধুত্ব হওয়ার পর আমরা প্রায় প্রতিদিন রাতেই এক চাচার দোকানে বসে চা খাই। সেদিন রাতে চা খাচ্ছি আর বাসিরা মিডিয়া ইউটিউব চ্যানেলটির প্রচারকৃত বিভিন্ন ভিডিও নিয়ে আলাপ আলোচনা করছি। সে বাসিরা চ্যানেলের প্রায় সবগুলো ভিডিও দেখে ফেলেছে। আমি বাসিরা চ্যানেলের শ্রেষ্ঠ মানুষেরা সিরিজটা সম্পূর্ণ দেখলেও কুর'আনের কথা, জীবন মৃত্যু জীবন সিরিজের কিছু কিছু পর্ব দেখেছি। জীবন মৃত্যু জীবনের ৫ম পর্ব নিয়ে আমি আমার বন্ধুর সাথে কথা বলতে লাগলাম। তাকে বললাম, "ভিডিওটিতে লাস্ট ৩-৪ মিনিট শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কমপক্ষ্যে ৫-১০ বার রিওয়াইন্ড করে করে লাস্ট ৩-৪ মিনিট বারবার শুনেছি। যে কয়বার শুনেছি সেই কয়বার চোখ দিয়ে পানি পড়েছে।" সে আমার সাথে একমত হল এবং নিজে থেকে মহানবী (সাঃ) এর তায়েফে ইসলামের বাণী পৌঁছাতে যাওয়া, সেখান থেকে ফিরে আসার সময় পাথর বৃষ্টির কবলে পড়ে রক্তাক্ত হওয়ার কথাগুলো বলছে আর কিছুক্ষন পরপর অনেক কষ্টে কান্না চেপে রাখছে। তার চোখের পানি দেখে আমিও আর নিজেকে স্থির রাখতে পারিনি। হঠাৎ মন বলে উঠল, "আহ! ১৪০০ বছর আগে যদি আমি আমার সুপার হিরো মহানবী (সাঃ) এর যুগে জন্মগ্রহণ করতে পারতাম। আহ! এই মানুষটাকে (সাঃ) যদি এক পলক দেখতে পেতাম। কি করে মানুষটা (সাঃ) এত ভালবাসলেন আমাদেরকে? কি করে তাঁকে (সাঃ) না ভালবেসে থাকি ইয়া আল্লাহ? কি অদ্ভুত এক ভালোবাসা তৈরী করে দিলে আল্লাহ! যে মানুষটাকে (সাঃ) কখনও দেখিনি, তাঁর (সাঃ) জন্য কেন চোখের পানি পড়ছে? কেন তাঁকে (সাঃ) এক নজর দেখার জন্য বুকটা চিড়ে যাচ্ছে? আহ!।
"মামুন কিছু বইয়ের নাম সাজেস্ট করতো।

যেগুলো পড়ে মহানবী (সাঃ) এর জীবনি সম্পর্কে আরও বেশী জানতে পারব। " রাসূল (সাঃ) এর সান্নিধ্য পাওয়ার চিন্তায় এতটাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়েছিলাম যে, বন্ধুর কথাটা ঠিকমত কানে যায়নি প্রথমবার। দ্বিতীয়বার শোনার পর আমার কাছে থাকা নবিজী (সাঃ) বইটি তাকে নিতে বললাম।

#ক্ষনিকের_ডায়েরী
#পর্ব_১৭
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৯:১৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুখু মিয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৬



গভীর অন্ধকার রাত প্রবল গর্জন করে আকাশ ডাকছে, দুখু মিয়া আর তার মেয়ে ফুলবানু খুপড়ি মতো ছাপরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আকাশ দেখেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তারপরও বাপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে শহরে বৃষ্টি নেই

লিখেছেন রিয়াজ দ্বীন নূর, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩০



শহরটা নিচে। অনেক নিচে। রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, কারো হাসির শব্দ, কারো ঝগড়ার শব্দ — সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত শহর। কিন্তু রিয়াজের কাছে এই সব শব্দ এখন অনেক দূরের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dual Currency Card Needed for Meta Monetization. Urgent National Interest.

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় চল্লিশ মিনিট। এক জায়গায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে সাধারণত দুই ধরনের সন্দেহ হয়- এক, লোকটা কিছু করতে এসেছে। দুই, লোকটার করার কিছু নেই। আমি কোনোটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:১৩

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”
==========================================
চুক্তি মানেই তো স্বার্থের ভারসাম্য। কিন্তু সেই ভারসাম্য যখন দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে, তখন সেটি আর চুক্তি থাকে না প্রশ্নবিদ্ধ সমঝোতায় পরিণত হয়। ইউনূসের শেষ সময়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×