somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
করোনা আক্রান্ত হয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মারা গেছেন [img|https://s3.amazonaws.com/somewherein/pictures/ManobManobik/ManobManobik-1601227423-08ec3e1_xlarge.jpg

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম ইন্তেকাল (ইন্নালিল্লাহি....রাজিউন) করেছেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাতে ৭টা ২৫ মিনিটে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।


তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেলের মৃত্যুতে আইন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তারা। তারা হাসপাতালে অবস্থান করা পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।

গত ৪ সেপ্টেম্বর জ্বর ও গলাব্যথা নিয়ে সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি হন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ওইদিনই করোনা পরীক্ষায় তার রেজাল্ট পজিটিভ আসে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভোরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। শনিবার তার অবস্থা আরো অবনতি হয়। ওইদিন তার ফুসফুস ঠিকভাবে কাজ করছিলো না। এরপর রবিবার আইসিইউতে থাকাবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার আবারো অবনতি হয়। পরে রাতে তিনি মারা যান।

মাহবুবে আলমের পুত্র সাংবাদিক সুমন মাহবুব এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, তার পিতা রাত ৭টা ২৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। মাহবুবে আলম মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা রেখে গেছেন।

সুমন মাহবুব সাংবাদিকতা ও কন্যা শিশির কনা ও তার জামাতা শেখ রিয়াজুল হকও আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। মাহবুবে আলমের স্ত্রী বিনিত মাহবুব একজন ভালো চিত্রকর।

অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম ১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও ১৯৬৯ সালে পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে আইনপেশা পরিচালনার অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনপেশা পরিচালনার অনুমতি প্রাপ্ত হন এবং ১৯৮০ সালে আপিল বিভাগে আইনপেশা পরিচালনার অনুমতি পান। ১৯৯৮ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

মাহবুবে আলম ১৯৭৯ সালে ভারতের নয়াদিল্লির ইন্সটিটিউট অব কনস্টিটিশনাল এন্ড পার্লামেন্টারি স্টাডিজ থেকে সাংবিধানিক আইন ও পার্লামেন্টারি বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির (১৯৯৩-৯৪) সম্পাদক ও ২০০৫-০৬ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৪-০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে মাহবুবে আলম বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন এবং এখন পর্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। এছাড়া পদাধিকারবলে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম একজন ভ্রমণ প্রিয় মানুষ ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সেমিনার সিম্পোজিয়ামসহ ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, হংকং, কোরিয়া ও তানজানিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন।

মাহবুবে আলম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলা পরিচালনা করেছেন। এছাড়া সংবিধানের ৫ম, ৭ম ও ১৩তম, ১৬তম সংশোধনী মামলা, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লা, মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী, মো. কামরুজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামীসহ অনেকের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেছেন। হাইকোর্টে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় নিহত ৫৭ সেনা কর্মকর্তা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলে রাষ্ট্রপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি করেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৪০
১০টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট জব

লিখেছেন রোদ্র রশিদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:১০



গত পনেরো দিন ধরে নতুন ম্যাডাম ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন। ট্রায়াল ক্লাস। ম্যাডামকে এখনো কলেজে পারমানেন্ট করা হয়নি। উনি খুব একটা খারাপ পড়ান না।

আজকের ক্লাস শেষে ম্যাডামের মন খুব খারাপ।
খুব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দশ বছরের ব্লগিং—মিষ্টি মুখ হোক সবার

লিখেছেন কাওসার_সিদ্দিকী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

আজ আমার ব্লগিং যাত্রার দশ বছর দুই মাস পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে পাঠকদের ভালোবাসা, মন্তব্য আর সমর্থন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই আপনাদের সবার সাথে—তাই আজকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×