বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে যা ব্যবসায় বিনিয়োগ করলে দেশের আরও উন্নতি হবে। তবে, এক্ষেত্রে, সরকারকে একটু কৌশল খাটাতে হবে।
বাংলাদেশের মানুষ নিজের হাতে উদ্বৃত্ত টাকা আসলে, কি কি করে তা সরকারকে আরও ভালো ভাবে বুঝতে হবে। যেমন, আমি দেখেছি, আমার নিকটজনেরা হাতে অতিরিক্ত টাকা আসলে হয় গাড়ি কিনেন, নাহয় বাড়ি কিনে ফেলেন অথবা জমিতে ইনভেস্ট করেন। কেউ কেউ বৌকে অতিরিক্ত সোনার গয়না কিনে দেন। এছাড়াও, দোকানপাট কিনেন। তবে, সবার আগে সবচেয়ে নিরাপদ কোন ব্যাংকে এফ,ডি,আর করে রাখেন নিজেদের অতিরিক্ত সম্পদ। এছাড়াও, শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করেন।
এখন একজন উচ্চ মধ্যবিত্ত মানুষ কেন উপরের উপখাতগুলোতে নিজেদের জমানো অতিরিক্ত টাকা খরচ করেন? তাঁরা কেন একটি ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন না? এর অনেকগুলো উত্তরের কয়েকটি হচ্ছে, ১) তাঁরা ব্যবসা বুঝেন না, ২) ব্যবসাকে নিরাপদ মনে করেন না, ৩) ব্যবসা করাকে সম্মানজনক মনে করেন না ইত্যাদি ইত্যাদি।
এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে, এই মানুষগুলো থেকে বিনিয়োগ নিতে হলে, সরকারকে নিজেকে ব্যবসায় নামতে হবে। পাবলিক - প্রাইভেট পার্টনারশীপের আন্ডারে ব্যবসায়িক সেইফ প্রজেক্ট তৈরি করে তাতে জনগণকে বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানাতে হবে।
এইসব ক্ষেতরে কি কি ধরণের প্রজেক্ট নেওয়া যায় যাতে সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণী ব্যাংকে বা উপরের ২য় প্যারায় দেওয়া খাতগুলোতে নিজেদের টাকাপয়সা খরচ না করে ব্যবসায় পাবলিক - প্রাইভেট পার্টনারশীপ ব্যবসায় বিনিয়োগ করবে?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো, সরকারী লাভজনক প্রজেক্টগুলোতে বিদেশ থেকে ঋণ না নিয়ে দেশের জনগণ থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিন। এরপরে, ব্রিজ-মনোওয়ে-বিমানবন্দর থেকে আসা আয় থেকে দেশের জনগণকে তাঁদের বিনিয়োগকৃত অর্থের মুনাফা দিন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একবার চিন্তা করে দেখুন, বাংলাদেশের ১ কোটি মানুষ যদি মাসে ৫০০০ টাকা করে সরকারী প্রজেক্টে বিনিয়োগ করেন, কয়েকটি লাভজনক সরকারী প্রজেক্ট দাঁড়াতে সময় নিবে না!!!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


