
আজকের সমাজে আমরা নীতি-নৈতিকতার বুলি শুনি অনেক, কিন্তু তার প্রয়োগ দেখি ঠিক বিপরীত জায়গায়। শিক্ষিকা বিউটি পালকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়া ও জনপরিসরে যে অশালীন, নোংরা ও কুরুচিপূর্ণ সাইবার আক্রমণ চলছে, তা কোনো বিবেকবান মানুষের পক্ষে সহ্য করা কঠিন। ধর্মকে ঢাল বানিয়ে, কোনো নারীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা কিংবা হেয় করার মধ্যে কোন ধার্মিকতা বা নৈতিকতা লুকিয়ে থাকে, তা বোধগম্য নয়। চরম সত্য হলো—অন্যের চরিত্রে কালিমা লেপন করার আগে নিজেদের বিবেক ও মানসিকতার পচন যাচাই করা জরুরি।
আমাদের সমাজের দ্বিমুখী আচরণ আজ মারাত্মক ব্যধিতে পরিণত হয়েছে। যখন কোনো ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুরা নির্যাতনের শিকার হয়, কিংবা মাদ্রাসায় ছাত্রীরা কোনো বিপথগামী শিক্ষকের হাতে নিপীড়িত হয়—তখন এই নীতিবাগীশদের নীরবতা কেন ভাঙতে দেখা যায় না? যখন কোনো বয়োবৃদ্ধ প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা কিশোরীকে অনৈতিক সুবিধা বা প্রলোভন দেখিয়ে ধরা পড়ে, তখন কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তাদের পক্ষে অন্ধ সাফাই গাওয়া শুরু হয়। এমনকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিন ও গাজার হাজার হাজার নিরীহ মানুষের ওপর নিপীড়ন চললেও ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা বা গদি হারানোর ভয়ে অনেক তথাকথিত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনুসারী টু শব্দ পর্যন্ত করেন না। এই যে সুবিধাবাদী নীরবতা এবং সুবিধাজনক জায়গায় অন্যায্য সোচ্চার হওয়া—এটাই কি প্রকৃত ধর্মানুরাগ?
সংস্কৃত ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে দেখা যায়, কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন:
"মানুষেরে ঘৃণা করি’
ও কাহার পূজা করে মসজিদ মন্দিরে গির্জায়?"
বিশ্বের অন্যতম মহান শিক্ষা হলো—ধর্ম কখনো হিংসা, বিদ্বেষ বা নারীর প্রতি কুৎসিত আক্রমণের লাইসেন্স দেয় না। ইসলাম শান্তি, ইনসাফ ও মানবিক শ্রদ্ধাবোধের ধর্ম। যে মানুষ নিজের ধর্মের মাহাত্ম্য তুলে ধরতে গিয়ে অন্য মানুষকে অসম্মান করে, সে মূলত নিজের ধর্মকেই খাটো করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে ভার্চুয়াল ট্রোল বা আক্রমণ করা বীরত্ব নয়, বরং তা এক ধরনের নৈতিক দেউলিয়াত্ব। অন্যায়ের প্রতিবাদ সব জায়গায় সমান হওয়া উচিত—নির্যাতক নিজের দলের বা ধর্মের লোক হলেও তার বিরোধিতা করতে হবে, আবার ভিন্ন ধর্ম বা আদর্শের মানুষ হলেও তার আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে হবে।
অন্যায়কারী নিজের সম্পর্কের লোক হলে চুপ থাকা আর দুর্বলকে আক্রমণ করা—এটি ধর্ম নয়, শুধুই চরম ভণ্ডামি। সমাজে মানবিকতা ও সুস্থ মানসিকতা ফিরিয়ে আনতে আমাদের নিজেদের দিকে তাকানো জরুরি।
মানবিকতা ও সত্যের পক্ষে এই দ্বিমুখী আচরণের বিরুদ্ধে আপনার মতামত কী? কমেন্টে জানাতে পারেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
