somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মায়াস্পর্শ
মানুষের মাঝে মিশে থাকতে চাই, তবে কিভাবে শুরু করব তা ভাবতেই অনেক সময় পেরিয়ে যায়। তাই, গান কবিতা এগুলোর আশ্রয় নিয়ে চলি নিজেকে আড়াল করে।

ঘ্রাণ

২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভাবছিলাম, লিখবো কি লিখবো না। ব্লগে এমন লেখা কেউ হয়তো খুব একটা লেখেন না।
‘ঘ্রাণ’, আমার একটা নেশা। তবে সাধ্য অনুযায়ী আমি সস্তায় ঘ্রাণ (আতর, পারফিউম, বডি স্প্রে) ব্যবহার করি। আমার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা একটা পারফিউম ছিল Sauvage Dior। ওটা কিনে আমি আর্থিক সংকটে পড়ে গিয়েছিলাম। ঐ যে বললাম, নেশা—তাই কিনেছিলাম।
প্রতিটি ঘ্রাণ একেকটা স্মৃতি। এই যেমন তিব্বত আতর। বাবা গায়ে দিতেন, এখন আর তেমন কাউকে মাখতে দেখি না। একদিন বায়তুল মোকাররমের সামনে দিয়ে হাঁটছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়লো সেই তিব্বত আতরের শিশি। সামনে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, দাম কত? ৭০ টাকায় কিনে নিলাম।
আব্বু যখন ফজর নামাজ পড়ে বাইরে যেতেন কাজের জন্য, তখন ওই তিব্বত আতর গায়ে মাখতেন। ১৯৯৯ সালে টাইম ট্রাভেল করে এলাম সেই আতরের ঘ্রাণ নাকে নিয়ে।
একটা পাগলামির গল্প শোনাই।
একদিন অফিস শেষ করে বাসায় ফিরছিলাম। বাংলামোটর থেকে বাসে উঠে গুলিস্তান গিয়ে নামি প্রতিদিন। তারপর সেখান থেকে আবার বাস অথবা বাইকে করে বাসায়। সেদিন স্যালারি ক্রেডিট হয়েছে। প্রচণ্ড জ্যামের কারণে সচিবালয় নেমে গেলাম। রাস্তা পার হয়ে ভাবলাম, পল্টন দিয়ে শর্টকাট মেরে গুলিস্তান চলে যাই। তাই করলাম।
মনে হলো, দেখি কোনো নতুন আতর পাই কিনা। বায়তুল মোকাররমের মার্কেটের ভেতর গেলাম। এই দোকান, সেই দোকান ঘুরে কিছুই ভালো লাগলো না।
একটা ছোট্ট দোকান, সর্বোচ্চ দেড় হাত স্কয়ার হবে। দোকানদার ডাক দিয়ে বললেন, কী লাগবে? বললাম, ভাই, আতর খুঁজছিলাম, একটু ভালো টাইপ।
লোকটা একটা কাছের ঝলমলে শিশি বের করে বললেন, হাত দেন। দিলাম। শিশির কাঁচের সিপিটা নিয়ে হাতে ছুঁয়ে দিলেন। নাকের কাছে নিয়ে এসে আমি হাতটা ৩ থেকে ৪ মিনিট আর নাক থেকে সরাতে পারলাম না।
না আতর, না পারফিউম, না জেন্টস, না লেডিস। এত সুন্দর ঘ্রাণ এ জীবনে আর পাইনি।
লোকটা বললো, প্রতি ml ৩৫০ টাকা। স্বভাবগত কারণেই একটু দামাদামি করে ৩০০ টাকা ml করে নিয়ে নিলাম ৬ মিলি।
তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এটার নামটা বলে দিন। উনি বললেন, নাম জানেন না। তার দোকানে এলেই পাওয়া যাবে। বাসায় ফেরার তাগিদ থাকায় উনার দোকানের একটা কার্ড নিয়ে চলে এলাম।
চলতে থাকলো আমার সেই আতর গায়ে-হাতে মেখে সানন্দে চলাফেরা। আমি যেন একটা নেশার মধ্যে পড়ে গেলাম, একটা মায়া। আশেপাশের অনেকেই জিজ্ঞেস করতো যে কী দিয়েছি গায়ে।
হালকা বাতাস শরীরে লাগলেই যেন সেই ঘ্রাণ একটা সুখের সাগরে ভেসে নিয়ে যায়, মাথায় ঠান্ডা রাখে সবসময়। এভাবে একসময় প্রায় শেষের দিকে চলে এলো শিশির সবটুকু।
ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেলাম। ব্যস্ততার কারণে ঈদের আগে আতরটা আবার কিনে নিতে পারিনি। যেহেতু সামান্য একটু ছিল, ভেবেছিলাম ১ সপ্তাহ পার হয়ে যাবে এটুকু দিয়ে, তারপর কিনে নেবো ঢাকায় ফিরে।
ঈদের ছুটি শেষ। ঢাকায় ফিরলাম, যথারীতি অফিস শুরু হয়ে গেলো। প্রথম দিন অফিস করে এসে রাতে খোঁজাখুঁজি করেও আমার আতরের শিশিটা আর খুঁজে পেলাম না। পুরো ঘর-বাড়ি বিন্যস্ত করে খুঁজলাম। নেই, কোথাও নেই।
মনে হলো, আমার কী যেন নাই হয়ে গেছে। সারারাত ঘুম নেই। সকালবেলা অফিসে জানালাম, আসতে ২ ঘণ্টা লেট হবে। বাসা থেকে বের হয়ে সোজা চলে গেলাম বায়তুল মোকাররম মার্কেট।
সকাল ৮:৩০টা বাজে। মার্কেটের সব দোকান বন্ধ। অপেক্ষা করতে করতে আস্তে আস্তে দোকানগুলো সব খুলতে লাগলো।
আমি সেই দোকানের কাছে গিয়ে একটু চমকে গেলাম। সেই আগের দোকানদার নেই। অন্য একটা মানুষ। জিজ্ঞেস করলাম, আগের মানুষ কোথায়? বললো, উনি তো দোকান ছেড়ে চলে গেছেন।
বললাম, তার মালামাল কি আপনার কাছেই বিক্রি করে গেছেন, নাকি নিয়ে গেছেন?
বললো, না, সব নিয়ে গেছেন।
জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় গেছেন?
বললো, উনি আর এই বিজনেস করেন না। হয়তো দেশের বাড়ি চলে গেছেন একেবারে।মনটা ভেঙে গেলো একদম।
বের হয়ে মাকে কল করলাম। বললাম, একটা আতরের শিশি বাড়িতে রেখে এসেছিলাম, মনে হয় একটু খুঁজে দেখো।
ওপাশ থেকে মা বললো, ভিডিও কল দে। একটা শিশি পেয়েছিলাম, দেখ তো ওটা কিনা।
সাথে সাথে ভিডিও কল দিলাম। দেখলাম, হু, ঠিক আছে, ঐটাই। বললাম, ওটা রেখে দাও, আমি এসে নিয়ে যাবো।
রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার অবধি একটা অস্বস্তিকর অবস্থায় পার করলাম। বৃহস্পতিবার অফিস শেষ করে রাতেই আবার রওনা দিলাম বাড়িতে।ভোরে বাড়িতে পৌঁছেই ঘরে ঢুকে আগে শিশিটা হাতে নিয়ে হালকা করে হাতে ঘ্রাণটা মেখে নিলাম। মনে হলো, আমার পুরো দুনিয়া শান্ত হয়ে গেলো।অনেকেই ভাববেন, অতিরঞ্জিত করে বলছি। আসলে তা নয়। ওই মুহূর্তটা আমার জন্য কী ছিল, তা হয়তো লিখেও প্রকাশ করতে পারবো না।
বাড়িতে একদিন থেকে আবার ঢাকায় চলে এলাম। ওই শিশির তলানিতে থাকা সামান্য ঘ্রাণ নিয়েই আবার গেলাম বায়তুল মোকাররমে।প্রতিটা দোকানে দেখতে থাকলাম আর জিজ্ঞেস করলাম, এটা আছে কিনা। সবাই বলে যে নাই। কী পরিমাণ যে বিরক্ত লাগছিলো না পাওয়াতে, তা বলার মতো নয়।
এক দোকানদার বললো, পাওয়া যাবে। শিশিটা তাকে দিলে সে নিয়ে এসে দিবে, দুই দিন সময় লাগবে।
তাকে বললাম, কোথা থেকে আনবেন আমাকে বলেন, আমি যাবো।
সে বললো, মিটফোর্ড হাসপাতালের ওখানে যান। পাইকারি ঘ্রাণের সব দোকান ওখানে।
আর দেরি না করে চলে গেলাম। কয়েকটা দোকান ঘুরে একটা দোকানে পেয়ে গেলাম।
সবার আগে নাম জিজ্ঞেস করলাম। লোকটি বললো, “মিস্ক রিজালি”।
দাম জিজ্ঞেস করতে বললো, ২৫০ টাকা ml। আর দামদর না করে ৫০ ml নিয়ে নিলাম। লোকটা মোটের ওপর ১৫০০ টাকা কম রেখেছিলো।প্রায় আড়াই বছর ব্যবহার করেছি। এখন দেশের বাইরে থাকি। কত ধরনের পারফিউম ব্যবহার করলাম, কিন্তু না—ঐটা যেন আমাকে অন্যগুলোর কাছে থাকতে দেয় না।
এরাবিয়ান ঔদ, রিগাল পিক, ঔদ এলাইট, দির্রাহ—এসবের কয়েকটা পারফিউম ব্যবহার করলাম। ভালো লাগে, কিন্তু নেশা লাগে না।
আমার এক কলিগ ভ্যাকেশনে গিয়েছিলো ইন্ডিয়াতে। ওকে বলে আবার ২৪ ml আনিয়েছি।
দেশে গেলে আবার কিনে নেবো।
কারো কাছে এরকম পাগল করা, নেশার মতো ঘ্রাণের সন্ধান থাকলে অবশ্যই জানাবেন।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩১
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×