ইলিশ খেতে খেতে ইলিশ নিয়ে অনেক পুরনো কথা মনে পড়ে গেল। গত দুদিন আগে ইলশে গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল সকার ফিশারী ঘাটে গিয়ে ০৭ টি ইলিশ কিনে আনলাম। সেই ইলিশ ভাজা দিয়ে দুপুরে আহার পর্ব সারলাম। কিন্তু কোথায় সেই ঘ্রাণ, কোথায় সেই স্বাদ ? ছেলেবেলায় বাবা যখন দাউদকান্দি বাজার থেকে বড় ইলিশ নিয়ে বাড়ি ফিরত, মা তখন সাথে সাথে কাটা-কুটা সেরে মাছ ভেজে গরম গরম আমাদের পরিবেশন করত। সেই কাটা মাছের রক্তের ঘ্রাণ যেন আজও সুদূর অতীতের রোমাঞ্চকর সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, সেই ভাজা ইলিশের মৌ মৌ ঘ্রাণে বাড়ি যেন গমগম করত। অনেক দূর থেকে বুঝা যেত এবাড়িতে ইলিশ ভাজা হচ্ছে। আহা! সেই অতীত, সেই মাছ, সেই স্বদ এজীবনে ভুলবার নয়।
ইলিশ এখন ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশের পন্য ও সম্পদ।ইলিশ ভোজন বাঙালির রসনা বিলাশে যেন ষোল আনা তৃপ্তির ঢেকুঁর। ইলিশ ছাড়া আজকাল ১লা বৈশাখ যেন কিছুটা অপূর্ণ। ইলিশ মাছ দিয়ে হরেক রকম পদ তৈরী করা বাঙালি রমনীর অন্যরকম শখ- সর্ষে ইলিশ,দই-ইলিশ, ইলিশের রোষ্ট, ইলিশ ভুনা,ইলিশ ভাজা, ইলিশের দোপেয়াজু,ইলিশ পোস্ত, ঝুড়া ইলিশ, ভাপে ইলিশ,ইলিশের ভর্তা, লাউপাতায় ইলিশ, ইলিশের কোফতা, পুদিনা পাতায় ইলিশ,ইলিশের ঝোল আরো কত কি ?
জাতীয় মাছ ইলিশ নিয়ে আছে বিভিন্ন গাল গল্প, কবিতা, স্মৃতিকথা, কাহিনি ইত্যাদি। ছেলেবেলায় দাদীর কাছ থেকে শুনেছিলাম ইলিশ মাছ নাকি গাঙে ডুবে যাওয়া মরা মানুষের গোসত খায়, সেই কাথা শুনে আমার বোন অনেক দিন এ মাছ খাওয়া থেকে বিরত ছিল। সূর্যের সোনালী কিরণ গায়ে লাগতে্ই রুপালী ইলিশোর প্রাণবায়ু বেরিয়ে যায়। পদ্মার ইরিশের স্বাদই আলাদা। চাঁদপুরের ইরিশেরও আছে সুখ্যাতি। তবুও বাজেরে ইলিশের আগুন দাম কিছুতেই কমেনা। ইলিশের দাম কমুক, হোক সহজলভ্য। বাংলার সকল মানুষের ইলিশ ভোজন হোক সুখকর। বাংলার ইরিশের সুনাম ছড়িয়ে পড়ুক দিকে দিকে।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




