somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভয়াল রাত

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শীতকাল শুরু হয়ে গেছে। গাছের পাতায় পাতায় শিশির জমে, কুয়াশার হালকা চাদর প্রকৃতি জুড়ে। ঠিক এমনই এক কালীসন্ধ্যায় রেজাউল কোত্থেকে এসে রুমে ঢুকে বলল- এই মেসে আর থাকা যাবেনা। বই থেকে চোখ ফিরিয়ে ভ্রু কুচকে মাহিন জানতে চাইল-কেন ?

জানুয়ারী থেকে মালিক ভাড়া বাড়িয়েছে। তাও জন প্রতি ৫০০/- টাকা করে। ওমা ! বল কি ? আমিতো জানিনা।
রেজাউল মুখে কৃত্রিম ভাব এনে বলল- তুমি জানবে কেন ? তুমি শুধু পড়া নিয়ে থাক। আমি জেনেছি এই ঢের।

তারপর থেকে দু’বন্ধতে সময় করে মেস খোঁজা শুরু হলো। বেশ কিছুদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অবিরাম খুজে চলল। অবশেষে পেয়ে গেল তাদের নতুন গন্তব্য। পুরাতন বিল্ডিং। দোতালায় মালিক থাকেন আর নীচতলার ৫টি রুম সব ফাঁকা। সেই ৫টি রুমের একটি ভাড়া নিল দুই বন্ধু। কুমিল্লা শহরের এপাশটায় আগে আসেনি মাহিন।

নতুন মেসে উঠার পর তার মনে হলো এখানে আসা ঠিক হয়নি। একেতো নির্জন তার উপরে সামনেই একটা মরা-পঁচা খাল। সবসময় দুর্গন্ধ লেগেই আছে। আর সারাক্ষণ মশা বন্ বন্ করছে।

প্রথম রাতে নিজেরা রান্না করে খেল। রেজাউল আবার রান্নায় পারদর্শী। যত দিন বুয়া পাওয়া যাবেনা ততদিন আমাকে রান্নায় সাহায্য করতে হবে মাহিন, কোন অজুহাত দেখাতে পারবেনা। কথাটা বলে রেজাউল মাহিনের উত্তরের অপেক্ষা না কের পড়ায় মনোযোগ দিল।

এখানে এত মশা না জানি কবে ডেঙ্গু হয়ে যায়। মাহিনের বিরক্তির শেষ নেই।

আরে ভায়া শীতকালে মশা কামরায়না। শুধু গুন গুন করে গান গায়। আসার পর একটাও মশা কামড় দিয়েছে । সত্যি করে বল ?

না তা কামড়ায়নি কিন্তু কামড়াতে কতক্ষণ।

দেখ মাহিন এর চেয়ে সস্তায় ভাল আর কোন মেছ পাবেনা শহরে। কিছু সমস্যাতো মেনে নিতেই হবে।

কিছু সমস্যা মনে নিয়েই দু’বন্ধু বেশ কিছুদিন কাটিয়ে দিল। একদিন হুট করে রেজাউলের বোন জানাল বাড়িতে বাবা অসুস্থ, জলদি বাড়ি যেতে হবে। খবর শোনা মাত্রই তড়িঘড়ি করে রেজাউল বাড়ি চলে গেল। রেজাউলের কাছে নতুন মোবাইল ছিল তার দুলাভাইয়ের বিদেশ থেকে পাঠানো, সেটা দিয়েই রাত-বিরাতে টর্চের কাজ চলতো।

মাহিন একা হয়ে পড়ল। নতুন মেসে আজ রাতে সে একা। বিদ্যুৎ চলে গেছে এর মধ্যে কয়েকবার। সে অন্ধারে নতুন কবিতার লাইন ঠিক করতে করতে কাটিয়ে দিয়েছে। ঘড়ি দেখল ১১।০০টা বাজে। দোয়া-দরুদ পড়ে শুয়ে পড়ল।

হঠাৎ খট খট শব্দে তার ঘুম ভাংল। ঘড়িতে চোখ রেখে দেখে ০১।০০টা বাজে। সে লাইট জ্বালাতেই শব্দটা বন্ধ।

সেই লাইট নিভিয়ে শুয়ে পড়ল, অমনি আবার জড়জায় শব্দ শুরু। আবারও লাইট জ্বালালো, আবারও শব্দ বন্ধ।

কিছুক্ষণ পর আবার শুরু হলো এবার মনে হচ্ছে নখ দিয়ে কেউ দড়জা আঁচরাচ্ছে। মাহিন- কে, কে ওখানে বলে চিৎকার করে উঠল। শব্দ থেমে গেল। কিছুক্ষন বসে থেকে সে আবার ঘুমাতে চেষ্টা করল। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে কোন প্রাণী ধারালো নখে দড়জা ছিদ্র করার চেষ্টা করছে।

এবার কিছুটা ভয় জেকে ধরল মাহিনকে। তবু সে দমে যাবার পাত্র নয়। গলাটা শুকিয়ে কাট হয়ে গেছে। একঢোক পানি গিলে টর্চটা হাতে নিয়ে আস্তে আস্তে দড়জার কাছে গিয়ে ছিটকানীতে হাত রাখল।

খুলবে কি খুলবেনা ভাবনায় পড়ে গেল। মনে মধ্যে কত ধরণের ভাবনা এল। কিন্তু সাহস করে এক ঝটকায় দড়জা খুলে ফেলে টর্চের আলো দিয়ে দেখলো কেউ নেই, কিছু নেই। সে স্তব্ধ হয়ে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে রইল।

হঠাৎ ভূতের কথা মনে উদয় হতেই দড়াম করে দড়জা বন্ধ করে লাইট জ্বালিয়ে শুয়ে পড়ল। চোখটা লেগে এসেছে আবার শুরু হলো সেউ বিৎঘুটে শব্দ। এবার সে নির্বিকারভাবে শুয়েই রইল। আধো ঘুম আধো জাগড়নে তার ভয়াল রাত শেষ হলো।

রেজাউল ফিরলে তাকে সব খুলে বলল। শুনে সে বলল-বাহ! তুমিতো দেখি বেশ সাহসী। আমি হলেতো ভয়েই শেষ হয়ে যেতাম।

মাহিন মনে মনে বলল-তোমাকেও আমি একা ফেলে একদিন হুট করে চলে যাব। তার পর মজা বুঝবে।

ছবি : নিজের তোলা, মোবাইল থেকে নেওয়া।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:০৪
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধার্মিক কে অনুসরণ করুন ভন্ডকে নয় ।

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮

আমরা প্রায়ই নিজেদের ধর্মপ্রাণ জাতি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্ম কি সত্যিই আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে পারছে, নাকি কিছু অসভ্য মানুষ ধর্মকে নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই বেশি হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×