
ঘটনাটা একদম চোখের সামনে ঘটা।
আমার বোনের দেবর ঢাকা থেকে গ্রামে এলো বেড়াতে। সে শহুরে মানুষ। সাতার জানেনা। বাড়ির কাছে একটি শাখা নদীতে গোসল করার সময় তার শখ হলো সাতার শিখবে।
তিন পরপর অনেক চেষ্টার পর তার কাছে মনে হলো সে কিছুটা সাতার শিখেছে। তো একদিন আমরা বেশ কজন মিলে নদীতে গোসল করতে গেলাম, সাতার কাটলাম, দুষ্টুমি আর একে অপরকে ডুব দিয়ে ধরে ফেলা। আমাদের এহেন কান্ড দেখে বেয়াই সাহেব এর শখ জাগলো নদীর ওপারে যাওয়া।
বলে রাখা ভালো মাঝ নদীতে তখন ঠাই পাওয়া যেতনা । এছাড়া দুই পাড়ে গলাপানিতে হটা যায়, দাড়িয়ে গোসল করা যায়। দুজনের সাহায্যে কোন মতে বেয়াই সাহেব নদীর ওপারে গিয়ে ভীষন খুশি।
একটু জিরিয়ে এপারে আসার সময় সে বলল একাই আসতে পারবে। ততক্ষনে আমিসহ কয়েকজন গোসল শেষে তীরে উঠে দাড়িয়ে আছি। জোয়াড় শুরু হলো। বেয়াই সাহেব যেই মাঝ নদীতে এলেন স্রোতে হাবুডুবু খাওয়া শুরু হলো। আমার ছোট ভাই তাকে সাহায্যের জন্য যেই এগিয়ে গেল অমনি তার গলা জড়িয়ে ধরে বেয়াই সাহেব যেন বাঁচার আশা খুজে পেলেন।
কিন্তু এত বড় ও ভারী মানুষ নিয়ে আমার ভাই কিছুতেই সাতরে এগিয়ে আসতে পারছিলনা। একটু পর পর সে নীচের দিকে ডুবে যাচ্ছিল। তার শ্বাস নিতেও সমস্যা হচ্ছিল।
চোখে সামনে দেখলাম দুজনেই ডুবে মরবে, আমি যেই লাফ দিয়ে নদীতে নামতে যাব তার আগেই আরও দুজন গিয়ে এদের কোন মতে এপারে নিয়ে এলো। হাপাতে হাপাতে বেয়াই সাহেব বলল সাতার শিখা এত সহজ নয়। অল্প দিনে সাতার শেখা যায়না।
সেই থেকে তার সাতার শেখার সখ মিটলো।
উল্লেখ্য আমার ছোট ভাই তাকে এই কদিন শাতার শেখাচ্ছিল।
ছবি-কালের কন্ঠের সৌজন্যে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

