somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এমন ঘটনা কেন যে ঘটে !

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




২০০৩, ৪, ৫ সাল বা আগে পরে হতে পারে। সেসময় আমাদের থানার সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ ছিলনা। দাউদকান্দি বা ঢাকা যেতে প্রথমে ট্রলারে করে যেতে হতো। সেই ট্রলার চলাচল যুগের ঘটনাটা আজও মনে পড়ে যায় আর ভাবলে শিউরে উঠি।

ট্রলারঘাটে পৌছে ট্রলারে বসে আছি। এক ঘন্টা পর পর ট্রলার ছাড়ে। গরমকাল। খুব রোদ উঠেছে। ট্রলার প্রায় ভরে গেছে। টাইমও শেষ হয়ে আসছে। শেষ মূহুর্তে কয়েকজন যাত্রী দৌড়ে এসে উঠল। তাদের মধ্যে বাচ্চা কোলে এক নারীও ছিল।

ট্রলার ছেড়ে দিয়েছে। যাত্রীরা যে যার মত বসে আছে। নদীর ঢেউ কেটে কেটে ট্রলার সামনে এগিয়ে যাচ্ছে পিছনে সরে যাচ্ছে গ্রাম, জনপদ, মাঠ, ফসলের ক্ষেত।

গরমে এক ঝলক বাতাস যেন শরীরে শান্তির পরস বুলিয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ পরিচিত জনদের সাথে গল্পগুজব করছে। হঠাৎ সেই বাচ্চা কোলে রাখা মহিলা ঢুকরে কেঁদে উঠল। সে তার বাচ্চার দিকে চেয়ে আছে তারপর বাচ্চাকে নিবিরভাবে চেপে ধরে হাত দিয়ে আদর করছে আর কান্না করছে। ব্যাপারটা কেউ না বুঝে মহিলার দিকে সবাই তাকিয়ে আছে।

একজন জিজ্ঞেস করল, আপনি কাঁদছেন কেন ? বাবু কি অসুস্থ ?

প্রশ্নটা শোনার পর মাহিলাটা আর্তনাদ করে উঠল। সে আহাজারি করে বলেতে লাগলো- আমার বাছা আর নাই গো। আমার যাদুরে ওরা মেরে ফেললগো। মহিলা বিলাপ করেই চলল।

মহিলা যাত্রীরা মহিলাকে শান্তনা দিতে লাগলো। বাচ্চাটাকে দেখে মনে হচ্ছেনা সে মরে গেছে বরং সে মায়ের কোলে পরম মমতায় ঘুমিয়ে আছে। তারপর আস্তে আস্তে সব জানা গেছে কিভাবে কি ঘটেছে।

মৃত বাচ্ছাকে আগলে রাখা একমাত্র একজন মায়ের পক্ষেই সম্ভব। মহিলার বাচ্চা অসুস্থ ছিল। মহিলা বাচ্চাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে যেতে চেয়েছিল চিকিৎসার জন্য। কিন্তু গৃহস্তের বউ বাড়ি না থাকলে সিজনের এই সময়ে ফসল বোনা ও কামলাদের খাওয়া দাওয়া করানো কষ্টকর হয়ে যাবে তাই তাকে যেতে দেওয়া হয়নি।

কিন্তু বাচ্চা যখন পৃতিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছে তখন মা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেনা তাই সে স্থানীয় ফার্মেসীগুলোতে না গিয়ে দাউদকান্তি বড় ডাক্তার দেখিয়ে নিশ্চিত হবে যে তার বাচ্চা আসলেই মরে গেছে কিনা। তাই সে বাচ্চাকে দাফন কাফন না করিয়ে এক প্রকার পালিয়ে এসেছে।

সকলে এবার তার গ্রাম ও স্বামীর নাম জানতে চায়। সেই পাষন্ড লোককে গালিগালাজ করতে থাকে।

আমার শরীর মন কেমন যেন করতে লাগলো মৃত বাবুটাকে মহিলার কোলে পড়ে থাকতে দেখে। আজও মনে পড়লে কেমন যেন লাগে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১১:৪৩
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার বর্ণবাদী লরা লুমার এবং ভারতীয় মিডিয়া চক্রের বিপজ্জনক ঐক্য

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


লরা লুমার নামে আমেরিকায় একজন ঘৃণ্য বর্ণবাদী, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আছেন। তিনি ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তার মুখের ভাষা এত জঘন্য যে ট্রাম্পের অনেক ঘোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুকতারা

লিখেছেন সামিয়া, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১



তুমি আমাকে যে জায়গায় রেখে গিয়েছিলে, সেই জায়গাটা ধীরে ধীরে একটা ভূগোল হয়ে গেছে। সেখানে সময়ের নিজস্ব কোনো ঘড়ি নেই, ঋতুর আলাদা নাম নেই, কেবল স্থিরতা আছে, যেন দুপুরবেলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×