
অভ্র, বাবা-মা আর ছোট ভাইকে নিয়ে ইফতারি করতে বসেছে ৫ মিনিটও হয়নি। ৭ মিনিটের মাথায় বাবাকে মাগরিবের নামাজের কথা বলে উঠে গেল, তার সুখটান দিতে আর তর সইছে না। সরাসরি এক লাফে উঠে আসলো ছাদে, সাথে নিয়ে এসেছে ২ টা বেনসন আর তার পিস্তল আকৃতির লাইটার। এবার আকাশ পানে চেয়ে প্রকৃতির স্পর্শে সুখটান দিতে আর কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু বিপত্তি ঘটলো প্রথম সুখটান দেয়ার পরই। কে জেনো হঠাৎ বলে উঠলো, তুমি কি ভেবেছো আমাকে আগুনের স্পর্শে এনে কয়েকটা টান দিয়ে ধ্বংস করে ফেলছো, বিলীন করে ফেলছো আমার অস্তিত্বকে। যদি তাই ভেবে থাকো তবে ভুল করছো, আমি আবার নতুন রূপে একটু পরেই প্রত্যাবর্তন করবো। এরপর খানিক থমকে অভ্র আরো কতোক্ষণ শুনলো, অজানা এই বক্তার বক্তব্য। সে বলে যাচ্ছে : আমি ধ্বংস হচ্ছি ঠিকই কিন্তু আমার নিকোটিনে তোমাকে ধীরে ধীরে আসক্ত করে খুব সন্তপর্ণে নিয়ে যাচ্ছি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আমি তোমার স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, ডোপামিন নিঃসরণের মাধ্যমে ক্ষণিকের আনন্দে তোমাকে ঠিকই নিমজ্জিত করি। কিন্তু পক্ষান্তরে তোমাকে ভুলিয়ে রাখি জীবনের কঠিন বাস্তবতা থেকে, তোমাকে নিয়ে বাবা-মায়ের দেখা হরেক স্বপ্ন থেকে, নিজের হারানো স্বপ্ন ফিরে পাবার আশা থেকে। এভাবেই আমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি ঠিকই কিন্তু শেষ বিজয়ের হাসিটা আমিই হাসছি। কারণ উদ্দেশ্য হাসিলে আমিই স্বার্থক।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৮ দুপুর ১২:০৬