somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার জীবনের লক্ষ্য

০৬ ই মার্চ, ২০১৮ দুপুর ২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার জীবনের লক্ষ্য
-------------------------------------
সেই ছোটবেলা মানে যখন থেকে একটু একটু বোঝার মতো সক্ষমতা অর্জন করেছি মাত্র। সেই সময় থেকে গুরুজন, গৃহ-শিক্ষক সবার একটাই কথা জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে-ই নাকি এগোতে হয়।যদি লক্ষ্য স্থির করে না এগোতে পারি তো আমার দ্বারা গরু-ছাগল চড়ানো ছাড়া আর কিচ্ছু হবে না।আবার যখন স্কুলে ভর্তি হলাম তখন স্কুল শিক্ষকদের ও ঐ একই কথা।জীবনের লক্ষ্য নাকি তখন থেকেই ঠিক করে ফেলতে হবে।কিন্তু কিভাবে,কি দিয়ে জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে হয় সে প্রক্রিয়া এই ছোট মগজে সারাক্ষণ ঘুরপাক খেতে খেতে কোন কূল-কিনারা খুজে পায় না।
ভাবতে থাকি এই জীবনের লক্ষ্য কেমনে স্থির করতে হয়?

ভাবতে ভাবতে আমি একপ্রকার ক্লান্ত।
নাহ!
তবুও জীবনের লক্ষ্য স্থির করার কলাকৌশল আয়ত্ব করতে পারলাম না!
অবশেষে বইয়ের সাহায্য নিলাম। ভাবলাম বইয়ের পাতা মুখস্ত আর ভালোভাবে আয়ত্ব করলেই বোধহয় শিখতে পারবো কৌশলগুলো।

সত্যি কথা বলতে কি হয়নি! একেবারেই--- হয়নি!
বাংলা ব্যাকরণ এর "আমার জীবনের লক্ষ্য " রচনা, অনুচ্ছেদ সবই পড়েছি।
পড়েছি বললে ভূল হবে,একেবারে ঘারমোড় দিয়ে পড়েছি,দাড়ি-কমা, সেমিকোলন সবই একেবারে মুখস্ত ঠোটস্থ করেছি। কিন্তু দূর্ভাগা কপাল কিছুই আয়ত্ত্ব করতে পারিনি।আমার সাথে অনেককেই তখন দেখেছি এতো খাটাখাটুনি না করেই ওরা দিব্যি জীবনের লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছিলো।
কেউ নাকি শিক্ষক, কেউ ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার,কেউ বা আবার পুলিশ-আর্মি,কেউ আবার জজ ব্যারিস্টার, আবার কেউ সিনেমার নামকরা হিরো হবে এমনটাই শুনেছি ওদের মুখে মুখে।তখন জানলাম এসব হতে চাওয়াটাই নাকি জীবনের লক্ষ্য স্থির করা।
কিন্তু তখনো এই লক্ষ্য স্থির করা বিষয়টা মগজে ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছে।

ক্লাস টুতে পড়ার সময় একবার মমতাজ আপা সবার কাছে এক এক করে শুনতে চাচ্ছেন বড় হয়ে কে কি হতে চায়?
সবাই উত্তর দিচ্ছিলো এক এক করে। কে কার চাইতে বড় হবে সেই প্রতিযোগিতা চলছিলো যেন।কিন্তু আমার মগজে তখনো কিছুই স্থির করা নেই কি বলি কি বলি ভাবতে ভাবতেই আমার পাশেই সিরিয়াল চলে আসে।আর আমার আগের সিরিয়ালে আছে চাচতো ভাই।ওর নাকি লক্ষ্যে বি ডি আর হবে।
আমিও ওর কথা শেষ হতে না হতেই ওর লক্ষ্যটা ধার করে, বলেই ফেললাম আমিও বি ডি আর হতে চাই।
ব্যাস মনে হয় কতো ভারত্ব বুক থেকে নেমে গেলো।
এর পরে বড় হয়েছি অনেক, ধাপে ধাপে পেরিয়েছি ক্লাসের পর ক্লাস।কিন্তু ওদিনের মতো আর জীবনের লক্ষ্য বিষয়ক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়নি কখনো।
আর আমিও জীবনের লক্ষ্য স্থির হতে অবস্থান করেছি যোজন যোজন দূরে।
সেদিন যারা জীবনের লক্ষ্য স্থির করে এগিয়েছে আজ এবেলায় এসে খুজতে থাকি তাদের লক্ষ্য পৌছানো হয়েছে কিনা।
কিন্তু পাইনা কিছুই পাইনা।যে ছেলেটা ক্লাস ওয়ানেই জীবনের লক্ষ্য স্থির করে রেখেছিলো ডাক্তার হবে সে হয়েছে মোবাইল মেকানিক,যে ছেলেটা শিক্ষক হবার লক্ষ্য স্থির করেছিলো সে হয়েছে ভবঘুরে।যে মেয়েটা জজ হবার লক্ষ্য স্থির করেছিলো ক্লাস টেন অবধি পাঠ চুকিয়ে সে এখন ৩ বাচ্চার মা।শুধু মা-ই নয় একেবারে ঘোমটা দেয়া ঘরনি। আবার যে ছেলেটা সামান্য মুদির দোকানে বেচাকিনির লক্ষ্য স্থির করেছিলো আজ তাকে দেখি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হতে।আর আমার চাচতো যে কিনা বি ডি আর হবে বলে লক্ষ্য স্থির করেছিলো সে হয়েছে ফায়ারম্যান(ফায়ার সার্ভিস)।
তাই এবেলা এসে ভাবতে থাকি সত্যিই কি জীবনের লক্ষ্য স্থির করাটা এতো জরুরী?
কোন উত্তর পাইনা।মাথার ভেতরে যেন সবকিছুই ওলটপালট হতে থাকে।কি হবো আর কি হতে চাই, কিংবা কি হওয়াটা জরুরী।খুজতে থাকি, শুধু খুজতে থাকি।

সেই তখন যেমন জীবনের লক্ষ্য স্থির করার কৌশল আয়ত্ত্ব করাটা আমার হয়ে ওঠেনি ঠিক এই ২৭ বছর বয়সে এসেও আয়ত্ব করতে পারিনি জীবনের লক্ষ্য স্থিরের নানা কলাকৌশল।

লক্ষ্যচ্যুত জীবন তরী নিয়ে বৈঠা হাতে আজও ঘুরেফিরি কিনারা।
তবুও ঠিক করতে পারলাম না জীবনের লক্ষ্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০১৮ দুপুর ২:২৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রশ্নের আগুন যুক্তির মহাযাত্রা :প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য ২য় পর্ব ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:০৮


আদিতে ছিল প্রশ্ন
অন্ধকার আকাশের তলে দাঁড়িয়ে মানুষ
চেয়ে দেখেছিল নক্ষত্রের দিকে
মনে তার জেগেছিল বিস্ময়
কে জ্বালালো এই দীপ
কেন ঘোরে পৃথিবী, কেন নামে বৃষ্টি
কেন জন্ম, কেন মৃত্যু
কেন এই অনন্ত চলা?
উত্তর ছিল না হাতে
ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাফপ্যান্ট ফুলপ্যান্টের দেশে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:২৮


বাংলাদেশে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখতে ভালোবাসেন, তারা সাধারণত খুব নিরীহ বিষয় পছন্দ করেন। এর একটা কারণও আছে। বেশিরভাগ মানুষই অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলতে চান। এমন কোনো বিষয় নিয়ে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×