somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার বিড়াল

৩০ শে মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৩:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কিছুটা আদর জমা রাখতেই হয় ওর জন্য।মাঝে মধ্যে প্রচন্ড বিরক্তির কারন হয়ও বটে।তবুও সকাল সকাল ঘুম থেকে দরজা খুলতেই পায়ের উপর এসে হাজির। দু-পায়ের ঠিক মাঝখানটায় এদিক ওদিক করে গড়িয়ে পড়ে পায়ে।কিছুতেই ছাড়তে চায়না যেন।মনে হয় আমার অপেক্ষায় নির্ঘুম কাটিয়েছে পুরো রাত।পায়ের নখ দিয়ে আচড় কাটতে থাকে ট্রাউজারে। দু একটা আচড় সোজা ট্রাউজার ভেদ করে শরীরে দাগ কেটে দেয়।আজকাল অবশ্য বিড়ালের আচড়ে, কামড়ে অনেককেই বড় হাসপাতালে গিয়ে ইনজেকশন দিতে দেখি।আমার আবার ওসবে মানে বিড়ালের আচড় নিয়ে তেমন মাথা ব্যাথা নেই।এখন পর্যন্ত একবারও মনে হয়নি ইনজেকশনের কোন দরকার আছে।তাই তো ও যতো আচড় আর দাগ কাটুক না কেন শরীরে, সেগুলোকে পরম যত্নে ওর ভালোবাসার চিহ্ন বলে ধরে নেই।শুধু ঘুম থেকে উঠলেই নয় বাড়িতে যতোক্ষন থাকি ততক্ষন অতি ধৈয্য নিয়ে আমার সাথে থাকে ও।অবশ্য পোষা প্রাণী বলেই এমনটা করে সে।মানুষ হলে তো কবেই ছেড়ে চলে যেতো। সেখানে পাশে পাশে থাকা পাহাড়া দেয়ার কথা চিন্তায় আনা যাবে না।যখন সকাল সকাল ওয়াসরুমে যাই ও দিব্যি দাঁড়িয়ে থাকে দরজার পাশে।যখন খেতে বসি তখন খাবার টেবিলে উঠে, বসে বসে আমার খাওয়া দেখে।ওর দৃষ্টি দেখলে মনে হয় আমার খাওয়াতে ওর যতো তৃপ্তি আর শান্তি।তবে দীর্ঘক্ষন একটানা সে কোথাও থাকতে নারাজ।খাবার টেবিল থেকে চট করেই নেমে পড়ে নিচে আবার উপরে, কখনো দরজায় গিয়ে উকি দেয়।উকি দেয়ার কারন অবশ্য একটা আছেই আছে।কারন ওর সতীনের দল।সতীনের দল মানে বাড়িতে একটা নয় তিনটে বিড়ালের বাস।ওর ভাবনা একটাই যেন সতীনেরা ওর ভাগের অংশে ভাগ না বসাতে পারে। আর সে উদ্দেশ্যই ওর এমন উকি-ঝুকি।আমি তিন বেলা খাওয়ার সময়ই ওকে কিছু খেতে দেই।সাদা ভাত ও কিছুতেই গিলতে পারে না।সাদা ভাতে ওর বড্ড অরুচি।ওর চাই মাছ মাংসের ঝোল বা কড়া ঝালের তরকারিতে মাখানো ভাত,মাছের কাটা,দুধ ভাত,শুকনো রুটি।এসব ছাড়া ও কিছুতেই খেতে পারে না।যদি ভুল করে কখনো সাদা ভাত ওর পাতে দিয়েছি তো মুখ গোমড়া করে হাতে-পায়ে আচড় কাটতে থাকে আর মিউ মিউ চেঁচামেচিতে সতীন দুটোকে আন্দোলনে যোগ করে ফেলে মুহূর্তেই।সতীনেরাও ওর মিউ মিউ শব্দের ডাক শুনেই হাজির হয়ে যায়।তখন বাধ্য হয়ে তিনটেকেই কিছু তরকারিতে মাখানো ভাত খেতে দিতে হয়।ওর কোন নাম দিইনি আমি।ওর কোন নাম নেই।ও দেখতে কুচকুচে কালো।পা থেকে মাথা অবধি প্রচন্ড কুৎসিত দেখতে।অচেনা ভিতু প্রকৃতির, যে কেউ রাতে ওকে দেখলে ভয় পাবে।রাতের আধারে ওর শরীর বোঝাটা বেশ কষ্টের।শুধু চোখের মনি দুটো জ্বল জ্বল করে জানান দেয় ওর অস্তিত্ব।ওর চেহাড়া এমন কালো হলেও সতীনেরা দেখতে বেশ সুন্দরী।তাই তো মাঝে মাঝে ও ওর সতীনের গায়ে আচড় কেটে কেটে মনের জ্বলা মিটিয়ে নেয়।সেই ছোট দুগ্ধ বয়সে এসে জুটেছিলো ও।আজও মনের ভালোবাসার অনেকটা জায়গা জুড়ে ওর অস্তিত্ব।ভাবছি কিছুদিনের মধ্যে ওর সুন্দর একটা নাম দেবো।যেন ওর একটা নিজের পরিচয় হয়।এ সমাজে পরিচয়হীন হয়ে বেচেঁ থাকাটা বেশ কষ্টের।হয়তো ও মুখ ফুটে ওর এই কষ্টের কথা অবলীলায় বলতে পারে না।কিন্তু সারাক্ষন মন:বেদনায়, পরিচয়হীন হয়ে বেচেঁ থাকায় ওর আপত্তি দিকটা স্পষ্ট বোঝা যায়


সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৩:১০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×