somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সৈয়দ মেহবুব রহমান
আমি মেহবুব । সামহোয়্যারইন ব্লগের সকল ব্লগারপাঠকভাইবোনদের আমার পক্ষ থেকে সালাম ও শুভেচ্ছা । আশা করি আপনাদের আমি আবহমান বাংলার সব সুন্দর রচনা উপহার দিতে পারবো ।।

শিল্পীরা সারাজীবন অঢেল উপার্জন করে আর শেষ বয়সে চিকিৎসার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করে

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কয়টা দিন ধরে ফেসবুক এ ঢুকলেই খালি দেখি একটাই খবর , আর খবরটা হলো বাংলা গানের কিংবদন্তী শ্রদ্ধেয় এন্ড্রু কিশোর স্যার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা সাহায্য নিয়েছেন । এ নিয়ে ফেসবুকে বাংলার আমজনতা ,আমপাবলিক ,ফেসবুক বুদ্ধিজীবিদের সমালোচনা , তীর্যক কমেন্ট আর গালিগালাজ এর অন্ত নেই । তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেন সাহায্য করলেন সেটার জবাব হতে পারে যে তিনি শিল্প সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক , গুণী ব্যাক্তিত্বের কদর তিনি জানেন ।এজন্য সম্মানের খাতিরে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় থেকে সাহায্য পাবার নীতিমালাতে সুযোগ আছে তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে হয়তো অবস্থাপন্ন সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্বরা সাহায্য পায় । এর বেশি কিছু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বলা অপ্রাসঙ্গিক ।আর আমাদের দেশে গুজবটা রটে বেশি । সারাজীবন এন্ড্রু কিশোর এত কিছু করলো , ওনার এত আছে , অত আছে এরকম কত কথা । কিন্তু ওনার মত অবস্থাপন্ন সাংস্কৃতি কর্মীর ও সাহায্য কেন প্রয়োজন হতে পারে সেটার উত্তরও এই লেখার ভিতর পাবেন । প্রাসঙ্গিক যে ব্যাপারটা সেটা হলো শুধু এন্ড্রু কিশোর নন এর আগে আমরা আহমেদ শরিফের মত কিংবদন্তি খল অভিনেতাকে ৩৫ লক্ষ টাকা সাহায্য নিতে দেখেছি ।তো প্রশ্ন হলো এনারা সারা জীবন এতো কাড়ি কাড়ি টাকা উপার্জন করেন , কোন অনুষ্ঠান বা স্টেজ ফাংশনে গেলে ০২ থেকে ০৫ লাখ টাকার নিচে সাইন করেন না , তাহলে সে টাকা গুলো নিয়ে কি করেন ।হ্যা এটাই তো কোটি টাকার প্রশ্ন , এতো টাকা কি করেন ?


আসেন উত্তরগুলো দিয়ে দিচ্ছি ।আশা করি আমার এ লেখাটা পড়বার পর আর কোনদিন আপনারা জিজ্ঞাসা করবেন না শিল্পীরা শেষ বয়সে চিকিৎসার জন্য হাত পাতেন কেন ?
আসলে শিল্পীদের এই সমস্যার মুলে হলো আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ,যেখানে মুলত আমরা দায়ী।যদি বলেন কিভাবে তাহলে শুনুন , ধরুন আপনি একজন অতিসাধারন ঘরের ছেলে , নাম মাইকেল।বা মধ্যবিত্ত ঘরের একজন ছেলে আপনি বেকার চাকরি পাচ্ছেন না , বা চাকরি বাকরি করবার চিন্তা করবার আগেই প্রতিভা আছে বলে একজন শিল্পী হয়ে গেলেন ।একটা হিট গান ধরুন রচনা করে , মানে নিজেই লিখে , নিজেই সুরারোপ করে , নিজেয় কণ্ঠে ধারন করে বিখ্যাত হয়ে গেলেন , মানে রাতারাতি সেলিব্রিটি হয়ে গেলেন । এখন আপনার প্রচুর মেয়ে ভক্ত , প্রচুর ছেলে ভক্ত , আপনি যেখানেই যান আপনাকে নিয়ে মাতামাতি ,সেলফি তোলার হিড়িক । ধরুন এবার আপনার জনপ্রিয়তার চোটে আপনার বাড়ি লোকজন রাতদিন এসে বসে থাকে ।সারাদিনে একদণ্ড ঘুমাতে পারেন না । শুইতে বসতে পারেন না । খাবার সময় দূরে থাক বাথরুমে ও ঠিকমতো যেতে পারেন না ।বিরক্তির চরম শিখরে পৌছে গেছেন আপনি ।

কিন্তু না আপনি আর নতুন বৌয়ে এখন কোন পার্থক্য নেই ।যেমন নতুন বউ বিয়ে হবার পর স্বামীর বাড়ি পৌছাতেই (বিশেষ করে গ্রামের দিকে এটা বেশি হয় ,শহরে কম দেখা যায়) শুরু হয়ে যায় পুরো গ্রামের ভালো ,মন্দ ,চুল কালো , চুল পাকা কুটনি বুড়ীদের আগমন ।অমুক বিয়ে করে নিয়ে এলো বউটা কেমন চল দেখে আসি ।এই দেখা ,গুন বিচার ,তির্যক মন্তব্য নিম্নে ০২-০৫ দিন থেকে ০১ সপ্তাহ চলতে থাকে ।এর ভিতর অনেক কথা বউ এর একেবারে কলিজা ছিদ্র করে চলে যায়। কিন্তু কিছু বলা যাবেনা ,ক্ষুধা ,পিপাসা ,ক্লান্তি ,হোম সিকনেস এসব আমলেই আসবেনা ।বললে আবার পাড়া শুদ্ধ ,গ্রাম সহ চৌদ্দ গুষ্ঠি বলা শুরু করবে নতুন বউ ০১ দিন আসতে পারলোনা তাই এত কিছু , না জানি দুদিন বাদে কি দাজ্জালি না করবে ।এদিকে বউ কি খেলো , বাপের বাড়ি ছেড়ে এখানে কেমন লাগছে , গোসল বা টয়লেটে যাবার সময় পেলো কিনা এটা কারো মাথায় থাকেনা ।ঠিক তেমন আপনি একটা গান গেয়ে শিল্পী হয়েছেন অমনি এলাকার কুটনি বুড়া আর বুড়ীদের চুলকানি শুরু হয়ে গেলো এবার তো মাইকেল দের একতলা বাড়ি পাঁচতলা হবে , আপনার দোস্তরা বলা শুরু করলো দোস্ত ভালো দেখে একটা গাড়ি কিনবি কবে ?।এদিকে আপনার মা বাবা আর পথে ঘাটে ঠিকমতো চলতে পারেনা ,পথে চলতে গেলেই লোকজনের কথা ওই যায় মাইকেলের বাবা , ওই যায় মাইকেলের মা ,একটা শিল্পীর মা পথে পায়ে হেটে , পুরাতন শাড়ি পরে গেলে জাত থাকেনা , এখন মাইকেলের ভাই বোনটা সাধারন স্কুলে পড়তে পারেনা ,ভাই শিল্পী না , কিরে বাবা একটা গান রচনা করেছি , ভাইরাল হয়েছি , শিল্পী হয়েছি , সে জন্য কি আলাদিনের জাদুর চেরাগ পেয়েছি ? যে ঘসা দেবো আর টাকা পাবো ।ও আবার বাড়িতে দারোয়ান রাখতে , বাজার করার জন্য লোক লাগবে , কারন আবার বাজারে নিজে গেলে লোকজন তো আবার দেখবে যে আপনি শাক পাতা কিনছেন ,জনগনের ধারনা বড় বড় সেলেবস রা শাক পাতা খায়না , বাজারের বড় মাছটা কেনা তাদের জন্য উপযুক্ত ।এরকম অনেক ব্যাপার স্টারিজমের সাথে এসে যায় ।

ফলে যেখানে একজন সাধারন মানুষ ২০ থেকে ত্রিশ হাজার টাকাতে মফস্বলের একটা জেলাতে সুন্দর ভাবে মাস অতিবাহিত করে , সেখানে একজন সেলেবস কে মাসে ০২ লাখ খরচ করতে হবে । অতি জনপ্রিয় হলে আবার বদিগার্ড লাগাটাও বিচিত্র কিছু নয় । তো এভাবে সারাজীবন তার খরচ চলতে থাকে । এখন কথা হল একটা মানুষ যত প্রতিভাবান হোন না কেন , সারাজীবন তার মার্কেট থাকেনা মানে তার বাজারে চাহিদা থাকেনা , মানে প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম অনুযায়ী সময়টা চিরকাল কারো থাকেনা । আবার ধরুন আপনি একজন সিনেমা নায়ক হলেন হঠাৎ করে । তো এখন কি হবে যাই হোক পরিচালক সাহেবের হাতে পায়ে ধরে একটা সিনেমাতে নাম মাত্র পারিশ্রমিকে সুযোগ পেলেন , এবার কি হল আপনার নামের আগে নায়ক মাইকেল হয়ে গেলো ।দুদিন আগেও যে ছেলেটা সকাল বিকাল চালাতো সাইকেল সে হয়ে গেলো নায়ক মাইকেল । নায়ক হবার পর এখন চালানো যাবেনা সাইকেল । কোথাও যেতে গেলে বাস এ যাওয়া যাবেনা , বিমানে যেতে হবে , বাড়ির আসেপাশে বাজারে তো বের হওয়া যাবেনা , বের হতে হলে কমপক্ষে মোটরসাইকেলে যেতে হবে । আর বাড়ি গাড়ি করা , বোনের বিয়ে উপর লেভেলে দেওয়ার খরচ তো বাদ দিলাম ।

আর যদি সিনেমার প্রয়োজনে সামান্য টাকার বিনিময়ে একটু খুল্লাম খুল্লা সিনে অভিনয় করেছেন তো আর পথেই বের হতে পারবেন না । পথে বাইরালে কেউ যে ধরে মারবেনা এটা বলা যাবেনা । এই যে সেলেবস হলে সমাজের সবার থেকে হাইফাই , বিলাসবহুল বা লাক্সারিয়াস জীবন যাপন করতে হবে এই ঘরানা কারা তৈরি করেছে বলুনতো ? উত্তরটা হলো অবশ্যই আমরা । কারণটা হলো আমরা সবকিছুকে টাকা দিয়ে পরিমাপ করতে শিখে গেছি ।গুনের থেকে টাকা আর ব্যাক্তি পূজা আমরা করতে পছন্দ করি বেশি ।প্রায় এই ধরণের একটা কথা কিছুদিন আগে একবার সোলাইমান সুখন ভাইয়ের কোন একটা মোটিভেশনাল ভিডিওতে শুনেছিলাম । আপনার ভাইপো একটা চাকরি পেয়েছে শুনেছি , তখনই আমরা উৎসাহ দিচ্ছি ওরে বাপু বাড়ি গাড়ি করা আল্লাহ চাহেতো অল্পদিনে হয়ে যাবে , এ যেন বিসমিল্লাহ বলে মদ খাবার মত ব্যাপার ।আপনার মেয়েদের উস্কানি দিচ্ছেন শ্বশুরবাড়ি গিয়ে রাজরানীর মত আচরন করতে , আবার দিনশেষে নিজের পুত্রবধুর হাতে ঝাড় খেয়ে , বিলাপ করছেন ছেলেটাকে মানুষ করতে পারলাম না । আমরা বাঙালিরা হলাম সমালোচনার ওস্তাদ , আমরা ব্যারিস্টার সুমনকে সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে বলি , কিন্তু উনি আপনার বা আমার পক্ষের একটা কথা বলতে এসে একটা বিপদে পড়লে এখনকার প্রেক্ষাপটে কেউ আমরা ওনাকে বিপদ্মুক্ত করতে এগোবনা এটা নিশ্চিত । এজন্য উনি উনার সামর্থ্যে বা ক্ষমতাতে যে টুকু কুলায় সেটুকু করেন ।এটুকুই বা আজকাল কে করে । আপনি ছেলের উপরি আয় কত না জেনে মেয়ে বিয়ে দিচ্ছেন না , আবার সেই আপনি কোথাও জমি রেজিস্ট্রি বা যে কোন কাজে গিয়ে ঘুষ দিতে গিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন দেশটা রসাতলে গেলো বলে । এই দোষটা কি আমাদের নয় ।

একজন লোক হতে পারেন বড় শিল্পী , বা বড় গুনী বা প্রতিভাবান মানুষ(নায়ক –নায়িকা-গায়ক-গায়িকা-কবি সাহিত্যিক) তাই বলে , তার বাজার -ঘাট -চলাফেরা –হাসপাতালে ভর্তি সবকিছুতে আমরা তার কাছ থেকে বড় অংকের টাকা খরচ আশা করি , আমাদের এই যে ব্যাকডেটেড দৃষ্টিভঙ্গি, এটাই শিল্পীদের শেষ বয়সের ভিক্ষার কারন , হাতপেতে সাহায্য প্রার্থনার কারন । হ্যা এই দৃষ্টিভঙ্গি এক সময়ের জন্য প্রযোজ্য ছিল । সেটা ছিলো শ্রদ্ধেয় রাজ্জাক স্যার , শাবানা ম্যাডামদের আমলে । তখন কার যুগে একটা সিনেমা করলে সারা বাংলাদেশে অন্তত ১৫০০ হলে মুক্তি পেতো , দিনে চারটা শো হলেও টিকেট মিলত না । আর এখন জনসংখ্যা দিগুন , হল সংখ্যা কমে চলে এসেছে মাত্র ৪০০ তে । এখন একটা সিনেমা মুক্তি পেলে কেউ দেখেই না , সিনেমা হলে তেমন ভিড় থাকেনা , নাম মাত্র পারিশ্রমিকে নায়ক নায়িকারা কাজ করে । আগে হলে চালাতে পরিচালক প্রযোজক এর একটা সরাসরি লাভ এর ব্যাপার ছিল ।এই ধরুন বাংলাদেশের বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না আর কেয়ামত থেকে কেয়ামত এই দুটি চলচ্চিত্র এত পরিমান ব্যবসা সফল হয় যে বিনিয়োগের থেকে অন্তত ৫০ গুন টাকা লাভ হয় এই দুইটা সিনেমাতে ।যদিও কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমার জন্য সালমান শাহ নামমাত্র পারিশ্রমিকে অভিনয় করে সফল হন । এই লাভটা এখনকার যুগ হলে সম্ভব হতো ? তখন তো যা হোক শিল্পী কলাকুশলিদের একটা লাভ লোকসানের ব্যাপার ছিল ।কিন্তু এখনকার কথা ভাবুন তো । আপনি বা আমি সর্বশেষ কবে টিকেট কেটে সিনেমা হলে গেছেন বা গিয়েছি ? আপনি সর্বশেষ কবে ৩০ টাকা খরচ করে একটা গানের অ্যালবাম কিনে গান শুনেছেন বা শুনেছি ?। আপনি আমি তো খালি ফাল পড়ি শিল্পী ব্যাটা সারাজীবন কি করছে ? শেষ বয়সে চিকিৎসার জন্য ভিক্ষা করে ? সিনেমা আর গান তেনারা দু ছ মাস খেটে অর্থ লগ্নি করে তৈরি করে ছেড়ে দিচ্ছে আর আপনারা ইউটিউব এ গিয়ে বিনা পয়সাতে শুনে নিচ্ছেন অথবা বন্ধুর হ্যান্ডসেট টু হ্যান্ডসেট শেয়ারইট করছি । আগে কণ্ঠশিল্পীদের একটা অ্যালবাম বের হলেই সেটা যতদিন সঙ্গীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বাজারে ছাড়তো , যতবার ছাড়তো একটা রয়্যালিটি পেতো । এখন সেটা আর হয়না ।

তাই এখন আর একজন শিল্পী মানে গুনি বা প্রতিভাবান মানুষ হতে পারেন , বাট অঢেল অর্থের মালিক এ ধারনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে । আমি একবার ২০০৬ সালে এস এস সি পরিক্ষার পর ভুতের গল্পের বই লিখে ফেলেছিলাম , ধরুন ১৩০ থেকে ১৪০ পাতার মত ।হঠাৎ করে আমাদের বাসাতে একজন আত্মীয় গুরুজন এলেন । তার একটা কথা ছিল লেখা লেখি বেকার । এই সব বাদ দে , এই গুলা করে পেটের ভাত হয় নাকি । তো অল্প বয়স , কনফিডেন্সের পারদ ও কম । প্রকাশকের সেই রকম টাকার চাহিদা আর গুরুজনের কাছে লজ্জাতে পড়ে বাদ দিলাম সেটা । বলুনতো টিপিক্যাল বাঙালী কাকে বলে , বলি কাজী নজরুল ইসলাম কয় টাকার মালিক হয়েছিলেন লিখে , গুণীদের গুণটাই একটি জাতির জন্য বড় প্রাপ্তি । এখনকার মত ফেসবুক ,ব্লগ বা ইন্টারনেটের সুবিধা তখন যশোরে কেন ঢাকাতেও ভাবাই যায়না । এ জন্য গল্পটা বললাম গুনের কদর টাকার বিচারে না হওয়াটা ভালো । টাকা দিয়ে গুন বিচারের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো উচিত । আবার একজন নামী শিল্পী কে যখন আপনি আপনার এলাকার একটা অনুষ্ঠানে ডাকবেন , তখন তার ডিমান্ড ০২ লাখ হলে ৫০ হাজারে সাধবেন , গান একটার যায়গাতে ০৩ টা গাইতে হবে , আবার দিনশেষে আশা করবেন তিনি হেটে চলতে পারেন না , তিনি বিমানে এসে নামবেন । সবই বাঙালীর সেন্টিমেন্ট আর রংচং সংবাদ শিরোনামের দোষ ।

এই যে দেখুন হঠাৎ করে একটিমাত্র গানের জন্য বিখ্যাত হয়ে যাওয়া শিল্পীটার নাম আরমান আলিফ । এই গানটি একবছরের ভিতর ইউটিউবে ভিউ ২৩ কোটি ছাড়িয়ে গেছে ।সারাবিশ্বের ভিতর ভিউয়ের দিক থেকে প্রথম দশের ভিতর আছে । কিন্তু আরমান আলিফ কয় টাকার মালিক ? না হয় ১০ লাখ টাকা । কিন্তু আজ যদি সে খোদা না করুক কথার কথা , কোন একটা রোগ শোকে পতিত হয় আর হাসপাতালে ০৫ লাখ টাকা খরচ করতে হয় তবে তারও সাহায্য দরকার হবে ।আর আপনারা তো এক টাকা দেবেন না , বরং আরো বলবেন গান গাইয়া এত টাকা পাইলো কই রাখলো ? আর কেউ কেউ তো এক কাঠি এগিয়ে গিয়ে অপরাধি গানের ট্রল করবে ।এই হলাম আমরা বাঙালি ।আসুন না শিল্পীদের পথে ঘাটে দেখলে ছেকে না ধরি , অটোগ্রাফ সেলফির জন্য ঝামেলা না করি , তাদের করা নাচ , গান বা সিনেমা দৃশ্যের জন্য তীর্যক মন্তব্য না করি , নারী শিল্পী হলে আপনার আমার সাথে নিয়ত বসবাসের বাইরের জগতের নারী না মনে করি , কারন তার শরীর তাকে আর দশটা নারী থেকে ভিন্ন করেনি আপনার চোখে , তার শিল্প প্রতিভা আমাদের চোখে তাকে অসাধারণ করছে ।মাঝে মাঝে প্রধানমন্ত্রী সহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রীদের সাধারণ মানুষের মত বাসে বা হাসপাতালে দাড়ানোটা আমজনতা স্ট্যান্টবাজীর চোখে দেখলেও এটা বাঙালীর উন্নত দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে নিঃসন্দেহে আশাব্যান্জক ও সঠিক পদক্ষেপ ।নিরাপত্তা রক্ষী বাদে , সেলফির ঝামেলা বাদে , বাকা ত্যাড়া মন্তব্য বাদে যখন এসব গুণী মানুষ পাবলিক প্লেসে চলতে পারবে তখন আমরা বলার মত হবো যে চিকিৎসার জন্য ভিক্ষার কি দরকার ? এর সাথে সাথে গুনি মানুষগুলোর উচিত হবে তাদের সেলেবস পরিচয়ের পাসাপাশি নিজেদের কোন একটা চাকুরি বা ব্যবসা করা , শিল্প থেকে তেমন কিছু আর্থিক আশা না করা , এবং নিজেদেরকে দুর আকাশের তারা করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে থাকা , তারকা মানে মানুষ তাদের দর্শন লাইফে পাবেনা এই ধারণার দিন আর নেই , বাইরের দেশে অনেক তারকা ও ধনী মানুষ সরাসরি সেবামুলক কাজে সাধারন মানুষের সাথে গায়েগতরে খেটে ব্যস্ত সময় পার করেন । আমাদের আরো একটা দোষ আমরা ক্ষমতাধর মানুষদের কাছে পেলেই নিজের আবদার অনুরোধ আর স্বার্থসিদ্ধি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি , ধরুন আপনি নায়ক রিয়াজকে কাছে পেলেন আর নিজে নায়ক হবার সুযোগ চাইলেন , ক্ষেত্রবিশেষে ব্ল্যাকমেইল বা দুর্বল পয়েন্ট জেনে হুমকি বা কিডন্যাপ বাঙালি চরিত্রে বিচিত্র কিছু নয় । আবার ধরেন আপনি আকিজ গ্রুপের মালিক যদিও প্রয়াত তবুও তার উত্তরসূরী কাউকে হয়তো কাছে পেলেন আর শুরু করলেন আপনার ছেলে বা ভাইপোকে চাকরিতে ঢোকাবার তদবীর ।আরে ভাই আপনি আগে দেখুন নায়ক রিয়াজের মত হ্যান্ডসাম কিনা , সব ধরনের অভিনয় পারেন কিনা , হাজার খানেক মানুষের ভিতর বাপ মরছে সেই মরা বাপের জন্য হাজার মানুষের মধ্যে অভিনয় করতে গেলে হাটু কাপে কিনা , মেয়েদের সাথে সহজ ও সাবলীল ভাবে স্বাভাবিক নারী পুরুষের আকর্ষণ ও অনুভূতি বাদে কথা বলতে পারেন কিনা ।


দশ টাকা থেকে শুরু করে আকিজ সাহেব এত বড় হয়েছেন এ গল্প তো আপনি এ যুগে চলেনা বলে এক ফু দিয়ে উড়িয়ে দেবেন , কিন্তু এই যুগেও তো পেপার পত্রকা ফেসবুকে আমরা দেখি অনেক হতদরিদ্র একবেলা ভাত খায় এ রকম মানুষের পোলাপান একটি টাকা ঘুষচক্রকে না দিয়েও পুলিশ কনস্টেবল থেকে শুরু করে বিসিএস ক্যাডার পর্য্যন্ত হচ্ছে ।তাই শেষ বয়সে ভিক্ষা থেকে বাঁচতে সেলেব্রিটি ও ফ্যান দুই শ্রেণীরই দৃষ্টিভঙ্গি তে পরিবর্তন সময়ের দাবী মাত্র । আর আমাদের উচিত হবে সেলিব্রিটিদের তাদের গুণ বিচারে অর্থ প্রদানে কার্পণ্য না করা , কয়দিন আগে ইউটিউবে দেখলাম বর্তমান সময়ের একজন বিখ্যাত ইসলামী বক্তা আমির হামজা কে ওয়াজে একজন বিশিষ্ট সচেতন মুমিন ওয়াজের মাঠেই লজ্জায় ফেলে দিলেন এই বলে যে আপনি ৮০ হাজার টাকা নিয়ে এখানে ওয়াজ করতে এসেছেন , ইসলামে কি ধর্মীয় বয়ানে টাকা নেওয়া যায়েজ নেই , আপনি এত টাকা নিছেন , ওয়াজের নামে ব্যবসা শুরু করছেন আপনারা ।আমি ইসলামী জ্ঞানে বা শাস্ত্রে তেমন বিশেষজ্ঞ নই , কিন্তু আমি ওনার যায়গাতে হলে কিই বা বলতাম সেটা ভাবতে নিজের কান লাল হয়ে যাচ্ছে ।এই হলো আমাদের বাঙালির চরিত্র ।বেশ কজন সেলিব্রিটির সাথে সেলফি বা কয়েক মুহুর্তের সান্নিধ্য পাবার সুযোগ হয়েছে । তার ভিতর আজ আমির হামজার গল্প বলি , এনার হয়তো নিজস্ব গাড়ি আছে কিনা জানিনা , একদিন আমি চুয়াডাঙা থেকে যশোর আসছিলাম লোকাল বাস ধরে ।তো গাড়িতে দেখছি পিছনের এক সারিতে মোট ১০-১২ জন আলেম , অধিকাংশের বয়স ২০ এর কম বেশি ।তখন ইউটিউবে কিছু ফানি ওয়াজ ক্লিপস দেখে আমির হামজাকে চিনি ।তো হঠাৎ আমার পিছনে মুখে হাজী রুমাল বাধা ব্যাক্তিকে অনেকক্ষন ফোনে আলাপরত দেখছি ।মুখ থেকে হাজী রুমাল সরতেই দেখি উনি আমির হামজা ।তো কথা হল ওয়াজ করে টাকা নেওয়া ইসলামে যায়েজ হোক বা না হোক আমরা কি ভাবি একজন বক্তা ০২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা ইসলামিক কত কথা কোরআন হাদিসের আলোকে বলে থাকেন ?আপনার এলাকাতে এসে এত কথা বলতে তার কত পড়াশোনার প্রয়োজন হয়েছে ।আর সাথে হুজুর ১০-১২ টা পোলাপান মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসবেনা কেন ? কারন এই রকম অনেক সমাজ সচেতন মুমিনেরা সব সময় ভুল ধরতে ব্যস্ত থাকে , দেখা গেলো সেন্টিমেন্টাল হয়ে মারতে গেলে ঠেকাবে কে ? আর ছাত্রদের ও লাইভ স্টেজে বক্তা হবার প্রশিক্ষণও দরকার আছে ।তো ইসলামের খেদমতে যদি বছরে একবার হুজুররা দুই পয়সা পায় সমস্যা কোথায় , আপনারা হুজুরের পেট চিকন দেখলে বলবেন হুজুর খেতে পায়না টাকার অভাবে , আবার পেটমোটা দেখলে বলবেন মানুষের বাড়ি দাওয়াত খেয়ে খেয়ে এ রকম হয়েছে । তাহলে হুজুররা যাবে কোথায় ।এটাও আমির হামজার কথা সম্ভবত ।তবে হ্যা মাহফিলের নামে ধর্মীয় উগ্রতা , অশ্লীলতা , দেশদ্রোহিতা , ধর্মবিদ্বেষ , ওয়াজের নামে ব্যবসা কে আমরা কেউই সমর্থন করিনা ।আপনার এলাকায় গানের জন্য শিল্পী আনবেন , সেখানে আপনি এমন একটা অংক বলবেন উনি আসতে চাইবেন না । আপনার কাছে তথা আপনার দ্বারা শিল্পীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে ভেবে উনি চলে এলেন । তাহলে ভাবুন অর্থাভাব কত দিক থেকে ওনাদের হতে পারে । তাই যদি মানুষের মধ্যে বাইরের দেশে যেমন মানুষ কোন সেলেবস কে ছেকে ধরেনা । তারা আমাদের সাথে বাসে চলুক , তারা আমাদের সাথে সাধারন মানের হোটেলে খাওয়া দাওয়া করুন । এ ক্ষেত্রে শাহীন আলম অনেকটা প্রেরণা । চলচ্চিত্র শেষে নিজের কাপড়ের দোকানে নিজে বসছেন । আবার কদিন আগে ক্রিকেটার মোশাররফ রুবেলকে দেখলাম ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে নিজের ফ্ল্যাট ৫৫ লাখ টাকাতে বিক্রির বিজ্ঞাপন দিতে । ক্রিকেট অনেকে খেলে বিখ্যাত হয়েছেন , সবাই তো আর সাকিবের মত সম্পদশালী খেলোয়াড় হয়না , চিত্রনায়ক অনেকে হন , সবাই তো আর শাকিব খানের মত একচ্ছত্র হতে পারেন না ।


আবার একজন মানুষ তার সেলিব্রিটি ক্যারিয়ারে অনেক টাকা আয়ের পর অবসরে যাবার পর আরো ৪০ বছর বেঁচে থাকেন আর যদি তার একবার শুরু হয়ে যাওয়া বিলাসী জীবনযাপন এর সমানুপাতিক অন্য আয়ের সোর্স না তৈরি করতে পারেন তবে শেষ বয়সে সাহায্য নেওয়া অসম্ভব কিছুনা ।এক কালের দোর্দন্ড প্রতাপশালী মুঘল সম্রাটদের বংশধরদের আমরা পেয়েছি যারা কিনা , কলকাতার বস্তিতে বসবাস করেন , সাক্ষাৎকার নিতে যাওয়া সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন ঔষধ কোম্পানিতে মজুর এর কাজের জন্য যেন তারা সুপারিশ করেন ।এদের ই পূর্বপুরুষ ২২ হাজার শ্রমিক দিয়ে ২২ বছর ধরে রাজকোষের বেহিসেবী খরচ করে তাজমহল গড়েছিল। কালের আবর্তন মানুষকে কি কুৎসিৎ একটা বর্তমানের সামনে হাজির করতে পারে তাইনা । আজকের আপনি একটা যুবক আরো কত বছর পুরো একটা বুড়ো আপনাকে হতে হবে , সেটা আপনি অবাস্তবই ভাবছেন তাইনা ।
শেষে আরো একটা গল্প বলি , আমার এক বন্ধু ভারত থেকে ফিরে গল্প করছে ভারতীয় এক লোকের বাসাতে গিয়েছিলাম । লোকটা খুব ধনী । কিন্তু সকালে নাস্তা খাচ্ছে একমুঠো খই আর দুধ । আর এক কাপ চা । এখানেই আমাদের মেন্টালিটির ভুল । আমার বন্ধুটি আশা করছিল সকালে ০৫ টা তেল চপচপে পরোটার সহিত খাশির কলিজা খাবে হয়তো লোকটি । যদিও তিনি বন্ধুটির আতিথেয়তায় কম রাখেন নি । আসলে আমাদের সমস্যাটা হলো কারো একটু খ্যাতি বা টাকা হলেই ভাত তিনবেলা খেতে হবে মাছ মাংশ দিয়ে , দামি কোর্ট স্যুট বুট সবসময় পরতে হবে , পায়ে হেটে চললে জাত যাবে , ছেলে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াতে হবে, লন্ডনে পড়াতে হবে ,কথার মাঝে মাঝে ইংলিশ বলতে হবে , কোন রকম একটা উৎসব বা উপলক্ষ্য অনর্থক লক্ষ লক্ষ টাকার আড়ম্বর করতে হবে এই সব ট্রেন্ড বা চল চালু হয়ে যায় । আফসোস হয় বাঙালীর জন্য , পৃথিবীর একটামাত্র ভাষা যেটার জন্য মানুষ শহীদ হয়েছে সেটাকেই অমর্যাদা করি আমরা । আবার নিজে নিজের ব্যবসা তদারকী করবে সে উপায়ও নেই একজন সেলিব্রিটি । রাখতে হবে ম্যানেজার । ম্যানেজার ব্যাটা আবার ব্যবসা আল্লাহর মাল মনে করলে তো হয়েছে । তো এ জন্য সেলিব্রিটিদের ও দায় আছে । তারকা মানে ধরাছোয়ার বাইরে কিছু , অদৃশ্য কিছু , সাধারণ মানুষ তাদের দেখা পাবেনা এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত । এতে আপনার জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র কমবেনা , বরং বাড়বে , আপনি তো আর সর্বক্ষণ সাধারণ মানুষের ভিতর থাকছেন না ।

প্রায় ৩০০০ শব্দের এই লেখাটি লিখলাম রাতের ঘুম নষ্ট করে । আটটার সময় আবার কর্মস্থলের দিকে রওনা দেবো ।শিল্প আর সাহিত্যের মূল্য টাকা নয় মানুষের সুনাম দিয়ে বিচার হয় ।একজন শিল্পীর গান বা একজন লেখকের কষ্ট আমরা দেখতে পারিনা , উপলব্ধিও করতে পারিনা , ছুড়ে দিতে পারি ভালো বা মন্দ কমেন্ট মাত্র। কমেন্টে অনেকে দালাল বলতে পারেন , বাজে কমেন্ট আপনার অধিকার , তবে গঠনমুলক কমেন্ট লেখাকে সুন্দর করতে সাহায্য করবে । আর যারা ধন্যবাদ দেবেন , ভালো লাগলে শেয়ার করবেন তাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ ।আপনারা হয়তো ভাইরাল করে দিলেন আমার লেখা আর আমি হলাম বিখ্যাত । কিন্তু টাকা কিছুই পাবোনা জানি এই লেখা থেকে ।

আশা করি শিল্পীরা কেন সারাজীবন অঢেল অর্থ উপার্জন করে আর শেষ বয়সে চিকিৎসার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করে এর উত্তর পেয়ে গেছেন । বুঝলে বুজপাতা না বুঝলে তেজপাতা ।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:০১
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালোবাসিতে লজ্জা পেতে নাই ...

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১১:৩১

অপেক্ষা— সেতো নিষ্ঠুরতম এক উপখ্যান
যদি না হয় সাক্ষাৎ চিরো কাঙ্ক্ষিত
সেই ক্ষণের —প্রেমের বৃন্দাবনের
এ সবই মিছে অথবা ভ্রম;
ক্ষণিকের অহমিকা শেষ হয়ে যায়
মিশে যায় হাওয়ায়—... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ স্বৈরাচারিণী

লিখেছেন নীল আকাশ, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৬



সঙ্গদোষে নাকি লোহাও ভাসে! চরমতম এই সত্যটা আর কেউ না হোক ফাহিবের বাবা মা দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করেন। তা না হলে, যেই ছেলে বুয়েট থেকে এত ভালো রেজাল্ট নিয়ে পাশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মহান আল্লাহ সব কিছু দেখেন=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৩



©কাজী ফাতেমা ছবি

সিসি ক্যামেরা দেখলেই নড়ে চড়ে উঠো
হয়ে যাও সাবধানী,
পাপগুলো দূরে ঠেলে হেঁটে যাও আপন গন্তব্যে,
ভয় পাও, তোমরা সিসি ক্যামেরা ভয় পাও
তাই না?

কিছু লুকোচুরি খেলা যখন খেলো বা খেলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইন্টারভিউ

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৯



শাহেদ জামাল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।
সে বাকি জীবনে কোনো কাজকর্ম করবে না। জীবনের অর্ধেক সে পার করে ফেলেছে। তার বয়স এখন পঁয়ত্রিশ। আগামী পঁয়ত্রিশ বছর কি সে বাঁচবে? সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন ভালো করা কিছু খবর

লিখেছেন মা.হাসান, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৩২

তাহাজজুদ পড়িস ব্যাটা?



ও ছার, ঝাড়ুদার পদে লিয়োগ পাইতে কত দিতে হবে?



আবার মারধোরের কি দরকার ছিল



আপনারা মন মতো মন্তব্য বসাইয়া নিন, আমি গলায় ফুলের মালা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×