
আজ খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেছি। আমি সকালে খুব কমই উঠি, কাজ থাকে না, আর থাকলেও উঠি না। সারারাত জাগার পরে সকালে ঘুম থেকে ওঠা খুব কষ্টসাধ্য কাজ, অন্তত আমার পক্ষে। আরেক কথা বলতে ভুলে গেছি, আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসা দিবস নামে কোন দিবস আছে আমি জানতাম না, কয়েক বছর আগে বাবার মুখে শুনেছিলাম এই আর কি। ভালোবাসা দিবসে প্রিয়তমা কে লাল গোলাপ বা তার পছন্দের কোন ফুল দেব, তারপর তাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাব এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু আমার কোন প্রিয়তমা নেই। সব থেকে দুঃখের বিষয় আজ আমার পদার্থ পরীক্ষা! আমার অনেক বন্ধু আছে যারা রাত ১২ টা থেকেই ভালোবাসা দিবস নিয়ে প্লান করছে, তারা রাতে বইও পড়েনি, তবুও তারা পদার্থ পরীক্ষায় এ প্লাস পাবে, আমাদের দেশে এখন এ প্লাস খুব সস্তা হয়ে গেছে, যদিও সস্তা, কিন্তু এই সস্তা জিনিস আমার ভাগ্যে জোটে না।
দেখতে দেখতে ভালোবাসা দিবসের সকাল শেষ হতে চলেছে, আর ৩০ মিনিট পর আমার পদার্থ পরীক্ষা। বাসা থেকে বেড়িয়ে পড়লাম পরীক্ষা সেন্টারে যাওয়ার জন্য। রাস্তায় কত কি দেখতেছি, ছেলেরা মেয়েদের ফুল দিচ্ছে, আবার মেয়েরা ছেলেদের ফুল দিচ্ছে, আমাকে কেউ দিচ্ছে না! এত এত মেয়ে কিন্তু কোন মেয়েই আমাকে ফুল দিচ্ছে না, দিবেই বা কেন, আমার মত কুৎসিত ছেলে কে ফুল দিয়ে তারা কি করবে। আমার মত কুৎসিত প্রিয়তম তাদের চাইনা, তাদের চাই, সুন্দর প্রিয়তম! দেখতে দেখতে পরীক্ষা সেন্টারে গেলাম।
আজ পরীক্ষা সেন্টার টা অন্যরকম লাগছে, মনে হচ্ছে, কোন ফুল বাগানে আমরা পরীক্ষা দিচ্ছি। ভালোবাসা দিবস মানেই যে, ফুলের ছড়াছড়ি সেটা আমার জানা ছিল না। আমার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, আর আমার এক মেয়ে বন্ধু কে খুঁজছি, কিন্তু কিছুতেই পাচ্ছি না। ভেবেছিলাম আর কেউ ফুল না দিক, আমার ঐ বন্ধু টা হয়তো দিবে, কারণ ও আমার খুব ভাল বন্ধু। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পায়ে ব্যাথা ধরে গেল, তবুও কেউ এলোনা। মন খারাপ করে পরীক্ষার হলে ঢুকে বসে রইলাম।
ঘন্টা পড়ে গেল, আমাদের পদার্থ পরীক্ষার প্রশ্ন হাতে পেলাম। আমি পড়াশোনা কিছুই পড়িনি, আমার কাছে বাংলা লেখা গুলো আরবি দেখাবে এটাই স্বাভাবিক। সবাই বলে, প্রশ্ন সহজ হয়েছে, কেবল আমার কাছেই কঠিন। কঠিন হবেই না কেন, আমি যে কিছুই পড়িনি! তবুও লিখতে লাগলাম। লক্ষ্য করলাম, প্রশ্নের মত আমার খাতার লেখাও আরবি দেখাচ্ছে। চমকে উঠলাম, আমি তো কখনো আরবি লিখতে পারতাম না, আজ হঠাৎ আমার কি হলো যে, আরবি লিখতে শুরু করেছি। পাশের জন কে দেখালাম, সে বললো, না লেখা তো বাংলাই আছে! শেষ ঘন্টার সময় খাতা জমা দিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে এসেছি। তারপর সোজা মাঠের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়ে আছি।
পরীক্ষা শেষে এক এক করে সবাই চলে যেতে লাগলো, কেবল আমিই দাঁড়িয়ে আছি। অপেক্ষার করছি, যদি কেউ ভালোবাসা দিবসে ফুল দেয়। সবাই যখন চলে গেল, তখন পেছন থেকে আমার বন্ধু শুভ আমায় ডাকছে। এগিয়ে গেলাম, সে আমার হাতে একটি লাল গোলাপ দিয়ে বললো, ভালোবাসা দিবসে এটা তোর জন্য! আমার কেন জানি খুব খুশি খুশি লাগছিল, লাগবেই না কেন? নাই মামার থেকে কানা মামা অনেক ভালো!
বাসায় এসে ঘুমিয়ে পড়লাম। আমার ঘুম ভাঙলো রাত ১১ টায়। ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে বসে আছি। মা বার বার খেতে ডাকছে, তাই রাতের খাবার খেয়ে নিলাম, রাতের খাবার খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। এক ঘুমে রাত শেষ!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৫:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



