somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অতঃপর হৃদয়
আমাকে নিয়ে লেখার মত আপাতত কিছুই নেই। যেদিন লেখার মত কিছু অর্জন করতে পারবো সেদিন না হয় সময় করে লিখে ফেলবো।

সোনালি ফসল ও সবুজ বৃক্ষ

২০ শে মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা নদী। আশে পাশের সব মানুষ এই নদীতে গোসল করে, মাছ ধরে, এই নদীর পানি দিয়ে ফসল ফলায়। এক কথায় বলতে গেলে এই নদীর উপর আমাদের গ্রামের মানুষ অনেকখানি নির্ভরশীল। একবার নদীর পানি প্রায় শুকিয়ে গেল সেইবার অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যায় পানির অভাবে। এখানে বিদ্যুৎ নেই যে পানি সেচ দিয়ে ফসল কে বাঁচানো যাবে। গ্রামের চেয়ারম্যান কথা দিয়েছিল, যে করেই হোক বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দেবেন; যাতে গ্রামের মানুষ ভালমত ফসল ফলাতে পারে। ১ বছর পার হয়ে গেল এখনো বিদ্যুৎ আসেনি। এখন ফসল ফলানোর জন্য এই নদীই একমাত্র অবলম্বন। দক্ষিণ পাড়ায় প্রাইমারি স্কুল আছে সেখানে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা পড়তে যায়। প্রাইমারি স্কুলে এখন বিভিন্ন রকমের কৌশল শেখানো হচ্ছে যাতে প্রতিকূল পরিবেশে বিপদের মুখে পড়তে না হয়।


শীতকাল তাই নদীর পানি কমে গেছে অনেকখানি তাই আশে পাশের অনেক ক্ষেতে পানি নেই। পানির অভাবে অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাই কৃষকেরা খুব দুঃচিন্তায় আছে। কিছুদিন আগে আমাদের গ্রামে বৃক্ষ মেলা হয়েছে সেখানে বলেছে, আমাদের দেশে বন ভূমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে তাই গাছ লাগাতে হবে বেশি বেশি। বন ভূমির পরিমান কমে গেলে অসময়ে বৃষ্টি হয় আবার খরায় জমি খা হয়ে যায়। এবার চাষ ভাল হবেনা বলে ধারণা করেছে কৃষি অফিসার। কিন্তু এই গ্রামের মানুষ স্বপ্ন দেখে তাদের গ্রাম সোনালি ফসলে ভোরে উঠবে। তারা নতুন ফসল হাটে বিক্রি করে ছেলে মেয়েকে নতুন কাপড় কিনে দেবে। গ্রামের মানুষ গুলোর সব স্বপ্ন পূরণ করতে পারে তাদের ক্ষেতের সোনালি ফসল।


আমি এবার এইচ এস সি প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছি। আমার চোখের সামনে গ্রামের মানুষ গুলোর এমন সর্বনাশ হবে তা আমি মেনে নিতে পারবো না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমিই তাদের সাহায্য করবো, যে করেই হোক। আমার ধারণা এই সোনার মাটিতে সোনালি ফসল ফলবেই। তাই যে করেই হোক কৃষি অফিসারের ধারণা কে পাল্টে দিতেই হবে। আমি কৃষি শিক্ষা বইতে পড়েছি কি করে প্রতিকুল পরিবেশে চাষ করতে হয়। এই শিক্ষা কে কাজে লাগাতে হবে তাই গ্রামের মানুষ কে একত্রিত করে নানান পরামর্শ দিলাম। সেই সাথে এটাও বুঝিয়ে দিলাম, শীতকালে পানির সমস্যা; তাই যে ফসল চাষ করতে পানি কম লাগে সেই ফসল চাষ করতে। এটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। পানি কম লাগে এমন কিছু ফসলের বীজের নাম বলে দিয়েছি। কি করে সেসব ফসলের চাষ করতে হবে তাও বুঝিয়ে দিয়েছি। তবে একটা কথা আদায় করে নিয়েছি সেটা হলো যদি ফসল ভালো হয় সেই টাকা থেকে চারা গাছ কিনে তাদের বাড়ির আশে পাশে ফাঁকা জায়গায় তা রোপণ করতে হবে। আমার বিশ্বাস ছিল আমি সফল হবো। আমাদের গ্রাম ভরে উঠবে সোনালি ফসলে। সেইসাথে একটা স্বপ্ন বাস্তব হবে, সেটা হলো আমাদের গ্রাম ভরে উঠবে বৃক্ষ দিয়ে। বন ভূমির পরিমান বাড়াতেই হবে তাই আমার গ্রাম দিয়েই শুরু করেছি এই বৃক্ষ রোপণ অভিযান।


কেটে গেল কিছু মাস। গ্রামের প্রতিটা ক্ষেতে সোনালি ফসল এবং সাথে সাথে কৃষকের মুখে হাসি। ফসল ভালো হয়েছে তাই আমার কথাটা রেখেছে সবাই। সবাই বাড়ির আশে পাশে ফাঁকা জায়গায় হরেক রকম বৃক্ষের চারা রোপণ করেছে। কল্পনা করি একদিন এই চারা বৃক্ষ অনেক বড় হয়ে সবুজ করে তুলবে পুরো গ্রামকে। সেদিন বন ভুমির পরিমান আর কমবে না সেদিন শুধু বাড়বে। স্বপ্ন একদিন সত্যি হবে; হবেই হবে।

ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে সংরক্ষিত।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ৯:২৯
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×