এবারে শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন দুইজন মালালা ইউসুফজাই ও কৈলাশ সত্যার্থী কিন্তু কৈলাশ সত্যার্থীকে ছাপিয়ে মালালা হয়ে উঠেছেন মিডিয়ার শীর্ষ আলোচিত ব্যক্তিত্ব ! হবেই না কেন যে মিডিয়া মালালাকে নোবেল জয়ী মালালা করে তুলল সেই মিডিয়া তো মালালাকে নিয়ে মাতবেই- কৈলাশ সত্যার্থীর চেয়ে মিডিয়ার কাছে মালালার গুরুত্ব এখানেই বেশি। মালালা এবারে নোবেল পাওয়াতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। মালালা এবার না পেলে পরের বার পেতেন আর পরের বার না পেলে তার পরের বার নিশ্চয় পেতেন ! মানি ইজ সেকেন্ড গড শুধু নয় এখন থেকে বলা উচিৎ মিডিয়া ইজ অলসো সেকেন্ড গড ! আসলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারও কিছুকাল আগ থেকে বিশেষ করে শান্তিতে নোবেল পশ্চিমাদের কাছে একটা অস্ত্র ছাড়া কিছুই নয়। একারণেই মহাত্মা গান্ধী বারবার মনোনীতি হওয়ার পরেও নোবেল পাননি আর অন্যদিকে বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হয়েই শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ! এবারে এডওয়ার্ড স্নোডেন নোবেলের দৌড়ে এক নম্বরে ছিলেন কিন্তু মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের বিরোধীতায় তাকে নোবেল দেওয়া হয়নি !
তালেবানরা সেদিন মালালাকে নয় অন্য স্কুল বন্ধ হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা অন্য কোনো কিশোরীকে গুলি করলে সেই কিশোরীই আজকে নোবেল পেত ! সোভিয়েত উৎখাতের নামে তালেবান ও আল কায়েদাকে সৃষ্টি করল আমেরিকা ঠিক যেমন সিরিয়ার বাশার আল আসাদ উৎখাতের নামে সৃষ্টি করেছে আইএসআইএল । মার্কিন সহায়তায় ধর্মান্ধ তালেবানরা ক্ষমতায় এসেই আফগানিস্থানের সকল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করে ও নারী শিক্ষা নিষিদ্ধ করে আফগানিস্থানকে নিয়ে গেলে মধ্যযুগে ! এখন আইএসআইএল ইরাক ও সিরিয়ায়ও তাই করছে ! সেই তালেবানী শাসনের একটি প্রতিকি কণ্ঠস্বর হল মালালা ! তাই মালালার হওয়া উচিৎ ছিল তালেবান ও আল কায়েদার আদি গুরু পশ্চিমা বিরোধী কণ্ঠস্বরও কিন্তু মালালা সে পথে যায়নি আর গেলে মালালা আজকে নি:সন্দেহে নোবেল লরেট মালালা হত না!
মালালাকে নোবেল লরেট মালালা করে তোলাই হল কর্পোরেট মিডিয়ার অন্যতম বৈশিস্ট্য । বর্তমানে সব কর্পোরেট মিডিয়ার বৈশিষ্ট্যও তাই । পুজিবাদী স্বার্থ চিন্তা চেতনায় মগ্ন সব মিডিয়াই। পাকিস্থানে , আফগানিস্থানে, ইরাকে, সিরিয়ায় এরকম শত শত মালালা প্রাণ হারাচ্ছে অঘোরে যুক্তরাস্ট্র ও তালেবান উভয়ের হাতে ! সেসব মালালার খবর আমরা জানি না, নেইনা বা পাইনা কারণ কর্পোরেট মিডিয়ার তাতে কোনো স্বার্থ নেই অথচ দেখুন- ভারতের একটি রাজ্যের নাম মনিপুর।সেই মনিপুর রাজ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনী গণহত্যার পর AFSPA নামের একটি কালো আইন প্রত্যাহারের দাবিতে অনশনে বসেন মণিপুরি তরুণী কবি ইরম শর্মিলা চানু, টানা ১২ বছর অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন, মুখে একফোটা পানি না তুলেও । তিনি জীবনের পুরোটা সময় প্রায় জেলেই কাটাচ্ছেন! ছাড়া পান তবে পুনরায় গ্রেফতার হওয়ার উদ্দেশ্যেই অথচ ভারতীয় প্রচার মাধ্যম এই মহিয়সী নারীর সমর্থনে এপর্যন্ত একটি রিপোর্টও পাবলিশ করেনি ! আবার এই কর্পোরেট মিডিয়াই আন্না হাজারেকে নিয়ে কি তুলকালাম কাণ্ডটাই না করলো ! ইরম শর্মিলা চানুকে নোবেল দিয়ে বন্ধু ভারত সরকারের বিরাগভাজন হতে চায় না পশ্চিমা বিশ্ব । শুধু তাই নয় পশ্চিমা মিডিয়া চিনতেও চায় না ইরম শর্মিলা চানুকে কারণ তাতে তাদের কোনো স্বার্থ নেই ! অন্যদিকে শর্মিলা চানু যদি চীন বা ইরান বা উত্তর কোরিয়া বা ভেনেজুয়েলা বা কিউবার নাগরিক হতেন তাহলে নি:সন্দেহে তিনি মালালার চেয়েও তিনি বেশি যশ খ্যাতি পেতেন আর নোবেল তো পেতেন সেই কবেই !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


