somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুহাম্মদ তমাল
আমি তমাল। তমাল মানে তমাল বৃক্ষ! আমি বৃক্ষের মতোই সরল, সহজ এবং মোহনিয়। পেশায় একজন প্রকৌশলী। কাজ করেছি দেশের স্বনামধন্য কোন এক দপ্তরে। বর্তমানে জার্মানীতে অবস্থান করছি। আমি ভালবাসি মানুষ,দেশ এবং পরিবেশ। ধন্যবাদ।

কিছুই হচ্ছে না

২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কিছুই হচ্ছে না, আবার সবকিছুই হয়ে যাচ্ছে। এই যে বয়সটা পা টিপে টিপে এসে ঘাড়ের কাছে দাঁড়ায়, টেরই পাই না। আয়নার সামনে দাঁড়াইলে একজন অচেনা লোক তাকায়, চোখের নিচে তার কালি, ঠোঁটের কোণে ক্লান্ত একটা হাসি। আমি তারে বলি, "ভাই, তুমি কে?" সে কিছু বলে না। শুধু চশমাটা একটু ঠিক করে নেয়।

একসময় কবিতা লেখতাম। বেশিরভাগ বাতাসে, চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে বইসা, কাপের ভাপে লাইন বানাইতাম, ভাপের সাথেই সেগুলা মিলাইয়া যাইত। কিছু টুকে রাখতাম পুরানো খাতার পাতায়, ছোটবেলা থেকেই। সেই খাতা কোথায় আছে, জানি না।

তখন মনে হইত, কবিতা মানে বাঁইচা থাকা, আর বাঁইচা থাকা মানেই কবিতা। আমাদের দেবতা ছিল সুনীল, নজরুল, জসীমউদ্‌দীন, আর পাশের টেবিলের জাহিদ-মারজুকরা। পকেটে পয়সা নাই, কিন্তু আকাশটা আমার। ছেঁড়া স্যান্ডেল, এলোমেলো চুল, বন্ধুদের গলা জড়াইয়া মাঝরাতে রাস্তায় রাস্তায় হাঁটা। কোথাও যাওয়ার নাই, তাই সব জায়গাতেই যাওয়া যাইত।

আজ আমার একটা ক্যালেন্ডার আছে। মিটিং আছে, ইএমআইতে কেনা গ্যাজেটের বিল আছে, "ঠিক আছে, পরে কথা হবে" নামের এক অদ্ভুত বাক্য আছে। কবিতা মরে নাই, মরছে সেই লোকটা, যে কবিতারে দরকার ছাড়াই ভালোবাসত। এখন শব্দ আসে, কিন্তু আসে ইমেইলের চেহারায়। হৃদয় ভরা থাকলেও হাতে আসে কেবল "Regards"।

বন্ধুরা ছড়াইয়া গেছে। কেউ আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যে, কেউ কবরে। যারা আছে, তাদের সাথে দেখা হয় কয়েক বছরে একবার, বিয়েবাড়িতে বা জানাজায়, অথবা মেসেঞ্জারের চ্যাট লিস্টে সবুজ বাতিতে। একেকটারে মনে কইরা নক দিয়া বলি, "দোস্ত, কী খবর?" আসল খবরটা কেউ জিজ্ঞেস করি না, কারণ উত্তরটা সবাই জানি। আমরা সবাই একটু একটু কইরা ক্ষইয়া যাইতেছি, নদীর পাড়ের মতো। কেউ দেখে না, কিন্তু একদিন দেখা যায় মাটিটাই নাই।

খাতার এক কোণে লেখা একটা লাইন আজও মনে আছে:

"তুই, তোরা, তারা কোথায় ?
কোথাও কেউ নাই, শুধুই সময়ের অপচয়।"

তবু মাঝেমধ্যে, কোনো এক শরতের বিকালে, যখন বাতাসে কাশফুলের গন্ধ আর আকাশে ধোওয়া নীল, তখন বুকের ভিতর কী যেন নড়ে ওঠে। আলেকজান্ডাররের শহর নর্থ মেসিডোনিয়ার স্কোপিয়ে শহরের কোনো এক ফুটপাতে দাঁড়াইয়া মনে পড়ে টেংরাখোলার সেই ধুলাওড়া রাস্তা, মায়ের ডাক, আর নদীর ঘাটে বসা সেই ছেলেটারে, যে লুঙ্গির কোঁচা সামলাইতে সামলাইতে ভাবত, "আমি একদিন সব বদলাইয়া দিবো।"

বদলায় নাই কিছুই। বদলাইছি শুধু আমি।

তবু একটা কথা মানি। কবিতা মরে নাই, সে শুধু চুপ হইয়া গেছে। বুড়া মানুষের মতো, কথা কমাইয়া, তাকাইয়া থাকে। একদিন হয়তো আবার নদীর পাড়ে লুঙ্গি পইরা বসবো, কাউরে কিছু না বইলা। তখন সে হয়তো পাশে আইসা বসবে, আর কিছু না কইয়াই সব কইয়া দিবে।

তারপর?

বেঁচে আছি ভালোবাসায়,
শঙ্কায়, আশঙ্কায়,
শত আলোকবর্ষের যাত্রায়।

ততদিন, নাহ্, বয়স বাড়ুক। চুল পাকুক। ভুঁড়ি যা হওয়ার হোক।

শুধু মায়াটা যেন না মরে।

-মুহাম্মাদ তমাল
ফ্রাঙ্কফুর্ট,জার্মানী
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৫৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×