somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মিজানুর রহমান মিলন
আমার ব্লগবাড়িতে সুস্বাগতম !!! যখন যা ঘটে, যা ভাবি তা নিয়ে লিখি। লেখার বিষয়বস্তু একান্তই আমার। তাই ব্লগ কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার আগে একবার ভাবুন এই লেখা আপনার নিজের মস্তিস্কপ্রসূত নয়।

মানুষের জীবন রক্ষা করার কথা আমেরিকা কখনও ভাবেনি

০৬ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জার্মান সরকার অভিযোগ করেছে তাদের কেনা দুই লাখ ফেইস মাস্ক ব্যাংকক বিমান বন্দরে আধুনিক দস্যুবৃত্তি অবলম্বন করে আমেরিকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমেরিকা এখনও এই নিয়ে কোন মন্তব্য করেনি। যে আমেরিকা এতদিন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ব্যর্থতার অভিযোগ এনে চীন ও ইরানের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে; মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণের কেউ কেউ টুইট করে উচ্ছাস প্রকাশ করেছিল সেই আমেরিকাই এখন বিশ্বের সর্বাধিক করোনা আক্রান্তের দেশ! খুবই দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে নিউইয়র্ক শহর এখন লাশের মিছিলের শহর! করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আমেরিকা ভয়াবহ অচলাবস্থার সম্মুখীন। নেই প্রয়োজনীয় টেস্ট কিট, ডাক্তারদের সুরক্ষার জন্য নেই পর্যাপ্ত পিপিই, এমনকি নেই প্রয়োজনীয় ফেইস মাস্ক! ডাক্তার, নার্সরা প্রতিবাদ করেছে, মানব বন্ধন করেছে। একটা ভিডিওতে দেখা গেলো একজন নার্স তার প্রয়োজনীয় সুরক্ষা এবং একটি মাত্র মাস্কের জন্য হাউমাউ করে কাঁদছে! অথচ আমেরিকা বিশ্বের এক নম্বর অর্থনৈতিক এবং সামরিক শক্তিধর দেশ! দেশটি প্রতি বছর শত শত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অর্থ ব্যয় করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে, বোম্ব, যুদ্ধবিমান এবং মিসাইল বানাতে। মানুষ হত্যার এই ভয়ংকর অস্ত্রগুলো বিক্রি করেই টিকে আছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ।

মানুষের জীবন রক্ষা করার কথা আমেরিকা কখনও ভাবেনি। আমেরিকার প্রশাসন যা করে শুধু সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার জন্যই করে। টুইন টাওয়ারে হামলার কারণে আমেরিকা আফগানিস্তানকে তছনছ করে দিল অথচ হামলাকারীর ১৯ জনের ১৫ জনই ছিল সৌদির নাগরিক। সেই সৌদির সাথে আমেরিকার দহরম মহরম কারও অজানা নয়। দীর্ঘ সময় পাওয়ার পরেও প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আমেরিকা কোন প্রস্তুতি নেয়নি। মার্কিন জনগণের জীবন রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসনের অবহেলার চূড়ান্ত নজির হল করোনা ভাইরাস। এখন ট্রাম্প বাদে অন্য কেউ প্রেসিডেন্ট হলেও হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন কিছু হত না। কারণ এর মূল দায় হল মার্কিন পুজিবাদী সিস্টেমের।

সারা বিশ্ব যেখানে করোনা মোকাবেলায় তৎপর, এই মুহূর্তে করোনা দুর্যোগ মোকাবেলার চেয়ে আর কিছুই নাই; এই মুহূর্তে শত্রুতা ও বিভেদ ভুলে প্রতিটি দেশের উচিৎ পরষ্পরের পাশে দাড়ানো। কিছু কিছু দেশ মানবতার জন্য এগিয়ে আসেনি তা নয় কিন্তু দেশে দেশে করোনার ছোবলের সাথে আমেরিকা নামক আর একটি করোনাও ছোবল দিচ্ছে। করোনা আক্রান্ত কিছু কিছু দেশকে এই দুইটা ভাইরাস একই সাথে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। করোনা দুর্যোগে শত্রু-মিত্র কোন দেশের প্রতি আমেরিকা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি; উল্টো এই সুযোগে পোড়া ঘরে আলু পোড়া খেতে তৎপর।

ভেনেজুয়েলাকে আমেরিকা প্রস্তাব দিয়েছে করোনা দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য অবরোধ প্রত্যাহার করতে হলে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। আমেরিকার এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে ভেনেজুয়েলা। অন্যদিকে করোনায় বিপর্যস্ত ইরানের উপর আমেরিকা নতুন করে দফায় দফায় অবরোধ আরোপ করেছে এবং ট্রাম্প টুইট করে ইরানকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। সিরিয়া ও ইরাকে নতুন করে সামরিক সরঞ্জাম জড়ো করেছে। ইরাকের আধা সামরিক বাহিনী পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সের উপর হামলার হুমকি দিচ্ছে। করোনা দুর্যোগেও মার্কিন ছত্রছায়ায় সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা করেই যাচ্ছে!

অন্যদিকে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত হওয়ার পরেও করোনা দুর্যোগে আমেরিকায় করোনা টেস্ট কিট ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ইরান। ইউরোপ ও আমেরিকার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। আর দশকের পর দশক ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত কিউবা এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রোল মডেল। সেই কিউবা করোনা এই দুর্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে শত্রু-মিত্র সবার প্রতি। ইতালিতে পাঠিয়েছে ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে করোনার ওষুধ। ব্রিটিশ প্রোমোদতরী এমএস ব্রেমারে করোনা ভাইরাস রোগী চিহ্নিত হওয়ার পর সাহায্য চেয়েও আশ্রয় দেয়নি বন্ধুদেশ যুক্তরাষ্ট। আশ্রয় এবং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় শত্রু দেশ কিউবা!

লেখাটা দীর্ঘ আর না করি। পরিশেষে শুধু এইটুকুই বলব সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা মানুষ ও মানবতার এক নম্বর শত্রু।সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার পতন হোক, মনুষ্যত্ব জাগ্রত হোক।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪২
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রহস্যোপন্যাসঃ মাকড়সার জাল - প্রথম পর্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৯:৪০




(১)
অনেকটা সময় ধরে অভি কলিং বেলটা বাজাচ্ছে ।বেল বেজেই চলেছে কিন্তু কোন সাড়া শব্দ নেই। একসময় খানিকটা বিরক্ত হয়ে মনে মনে স্বগোতক্তি করল সে
-... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যস! আর কত?

লিখেছেন স্প্যানকড, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:০১

ছবি নেট ।

বাংলাদেশে যে কোন বড় আকাম হলে সরকারি আর বিরোধী দুইটা ই ফায়দা লুটার চেষ্টা করে। জনগন ভোদাই এর মতন এরটা শোনে কতক্ষণ ওর টা শোনে কতক্ষণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরতের শেষ অপরাহ্নে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৫৫

টান

লিখেছেন বৃষ্টি'র জল, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:০৩






কোথাও কোথাও আমাদের পছন্দগুলো ভীষণ একরকম,
কোথাও আবার ভাবনাগুলো একদম অমিল।
আমাদের বোঝাপড়াটা কখনো এক হলেও বিশ্বাস টা পুরোই আলাদা।
কখনো কখনো অনুভূতি মিলে গেলেও,
মতামতে যোজন যোজন পার্থক্য।
একবার যেমন মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আফ্রিকায় টিকাও নেই, ভাতও নেই

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:৫৪



আফ্রিকার গ্রামগুলো মোটামুটি বেশ বিচ্ছিন্ন ও হাট-বাজারগুলোতে অন্য এলাকার লোকজন তেমন আসে না; ফলে, গ্রামগুলোতে করোনা বেশী ছড়ায়নি। বেশীরভাগ দেশের সরকার ওদের কত গ্রাম আছে তাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×