somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দি ওল্ড ম্যান এন্ড দি সী - আর্নেস্ট হেমিংওয়ে - ১৬

১০ ই আগস্ট, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলা রূপান্তর © হামিদ

সূর্যটা এখন অসহনীয় উত্তাপ ছড়াচ্ছে । বুড়ো ঘারে আর পিঠে সে উত্তাপ অনুভব করছে তীব্রভাবে । দাঁড় টানার সময় পিঠ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে ঘামের ফোঁটা। টোনা মাছগুলো আবার পানির নিচে চলে গেছে । যেসব মাছ টোপ হিসেব ব্যবহার হয় তাদের সবগুলোকেই জেলেরা টোনা বলে । এসব মাছের আসল নাম কেবল সেসময় বলা হয় যখন মাছগুলো বিক্রি করা হয় কিংবা নিজেদের মধ্যে টোপ হিসেব বিনিময় করা হয় ।

'আমি ইচ্ছে করলে দাঁড় ছেড়ে দিয়ে ভেসে যেতে পারি অথৈ সাগরে, কিংবা বড়শির রশিগুলি পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে বেঁধে নিয়ে ঘুমিয়েও যেতে পারি । কিন্ত না, আমি এসবের কোনটাই করবো না। কারণ গত চুরাশি দিনে আমি কোনো মাছ পাইনি। আজ আমার পঁচাশিতম দিন । আজ মন দিয়ে মাছ ধরতে হবে' - ভাবছিল বুড়ো । আর ঠিক তখনই দেখল একটা বড়শির সবুজ ফাৎনায় বেশ জোড়ের সাথে টান পড়েছে ।

'মনে হয় পেয়েছি'- ভাবতে ভাবতে অনেক সাবধানে এমনভাবে বৈঠাটা তুলে নিল বুড়ো যাতে নৌকাটা কোনোমতেই দোল না খায় । ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল আর তর্জনী দিয়ে বড়শির দড়িটা আলতো করে ধরে রাখলো। তবে তাতে কোনো টান অথবা ভার অনুভূত হল না। দড়িটা হালকাভাবে ধরেই থাকলো বুড়ো । অল্পক্ষণের মধ্যই আবার টান অনুভূত হলো দড়িতে। যেন পরীক্ষা করে দেখছে মাছটি এমন হালকা একটা টান । তবে বুড়ো ঠিকই বুঝে ফেলল জিনিসটি আসলে কী । এটা একটা মারলিন মাছ। এক শ' বাঁও নিচে সারডিন পোনার টোপটা গিলেছে। ছিপ থেকে দড়িটা খুলে হালকাভাবে ধরে রেখেছে বুড়ো যাতে প্রয়োজন হল আরও দড়ি ছেড়ে ঢিল দিতে পারে । মাছটা বুঝতেই পারবে না যে সে ধীরে ধীরে আটকে যাচ্ছে বড়শিতে ।

'এই মাসে যখন এতো দূর আসতে পেরেছে তখন বোঝাই যাচ্ছে মারলিনটি বেশ বড়ই হবে' - মনে মনে ভাবে বুড়ো ।

'ভাল করে গিল বাছা, বেশি করে খা । অনেক তাজা সারডিন আর টোনা মাছের টোপ আছে বড়শিতে । ভাল করে গিলে ফেল। আছিস তো ছয় শ' ফুট পানির নিচে গভীর অন্ধকারে । দরকার হলে আরেকটা চক্কর দিয়ে আয় অন্ধকার ঠান্ডা পানিতে । তারপর আচ্ছা মতো গিলে ফেল তাজা টোপসহ বড়শিটা' - মনে মনে বলে বুড়ো ।

দড়িতে প্রথমে হালকা একটা তারপর বেশ জোড়ালো একটা টান অনুভব করল বুড়ো । মনে হচ্ছে সারডিন এর মুড়োটা বড়শির মাথা থেকে খুলে নিতে চাচ্ছে । তারপর আবার নিস্তব্ধতা । কোনো সাড়া নেই মারলিনটির ।

'ফিরে আয় বাছা ! আরেক পাক ঘুরে যা ! গন্ধটা শুঁকে দেখ । কী চমৎকার তাই না? ভালো করে খা । সারডিন শেষ হলে তো টোনা তো আছেই । শক্ত, ঠান্ডা আর কী দারুণ মজার ! খেয়ে নে ওগুলো । লজ্জা পাসনে বাছা' - চেচিয়ে চেচিয়ে বলছিল বুড়ো ।

বুড়ো আঙ্গুল আর তর্জনীর মাঝখানে দড়িটা ধরে রেখে অপেক্ষা করছে বুড়ো । তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তার সেই বড়শিটার দিকে । তবে অন্য বড়শিগুলোও চকিতে দেখে নিচ্ছে । কারণ মাছটি সাঁতরে পানির উপরের স্তরেও উঠে আসতে পারে । এসময় আবার মৃদু টান লাগল দড়িতে ।

'আবার খাবে সে । হে ঈশ্বর ! তাকে টোপটা গিলতে সাহায্য করো' - স্বভাবগতভাবে চেচাচ্ছে বুড়ো ।

ঈশ্বর মনে হয় এইবারে তার ডাক শুনবে না । মাছটি মনে হয় চলে গেছে । অনেক্ষণ বড়শিতে কোনো টান নেই ।

'না, কিছুতেই চলে যেতে পারে না সে । যীশু জানে সে চলে যায় নি । সে আবার আসবে । হতে পারে সে আগেও কোন বড়শিতে আটকে গেছিল । সেসব মনে করে হয়তো সে বড়শিটা গিলতে দেরী করছে' বলতে লাগল বুড়ো ।

কিছুক্ষণের মধ্যই দড়িতে আবার মৃদু টান অনুভব করলো বুড়ো । আবার খুশির ঝিলিক দেখা গেলো তার চোখে মুখে ।

'এখন তারই পালা । সে এখন খাবেই ' - নিজে নিজেই বলতে লাগলো বুড়ো ।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×